নাইজেরিয়ায় সশস্ত্র হামলা: তিন গ্রামে রক্তপাত, নিহত কয়েক ডজন
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মোটরসাইকেলে আসা সশস্ত্র বন্দুকধারীদের হামলায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। একই সঙ্গে অনির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তিকে অপহরণ করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা Agence France-Presse (এএফপি) জানিয়েছে, নাইজার রাজ্যের তিনটি গ্রামে হামলাকারীরা গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মানুষ হত্যা করে, বাড়িঘরে আগুন দেয় এবং বাসিন্দাদের জিম্মি করে নিয়ে যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাকারীরা ৪১টি মোটরসাইকেলে করে আসে। প্রতিটি মোটরসাইকেলে দুই থেকে তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তি ছিল।
অন্যদিকে Reuters জানিয়েছে, তিনটি গ্রামে অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। তবে এএফপি দাবি করেছে, নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৪৬। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ভোরের দিকে তুঙ্গা-মাকেরি গ্রামে প্রথম হামলা চালানো হয়। নাইজার রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন এএফপিকে জানান, সেখানে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। কতজন অপহৃত হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
পরে হামলাকারীরা নিকটবর্তী কনকোসো গ্রামে আক্রমণ চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রায় সব ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং অন্তত চারজন নারীকে অপহরণ করা হয়েছে।
এরপর তারা পিসা গ্রামে গিয়ে একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং একজনকে হত্যা করে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
চলতি মাসের শুরুতেও একই ধরনের হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র অপরাধী দলগুলো উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য নাইজেরিয়ায় হামলা ও অপহরণ চালিয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে এই সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা প্রতিরোধ ও অপহরণ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার চাপ বাড়ছে।













