স্পেনে ৫ লাখ অভিবাসীকে বৈধকরণ ঘোষণার বিপরীতে ঝুলে আছে ২ লাখেরও বেশি আশ্রয় আবেদন
স্পেন সরকার প্রায় পাঁচ লাখ অনিয়মিত অভিবাসীকে বৈধ মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। সরকারের মতে, যারা বহু বছর ধরে দেশটিতে বসবাস ও কাজ করছেন কিন্তু কাগজপত্র নেই, তাদের আইনি স্বীকৃতি দিলে শ্রমবাজার শক্তিশালী হবে এবং রাষ্ট্রীয় আয়ও বাড়বে। নির্দিষ্ট সময়ের আগে যারা স্পেনে বসবাসের প্রমাণ দিতে পারবেন, তারা এই সুযোগের আওতায় অস্থায়ী বসবাস ও কাজের অনুমতি পেতে পারেন।
তবে সরকারি ঘোষণার বিপরীতে স্প্যানিশ শরণার্থী কমিশন (সিইএআর) বলছে, দেশে এখনো দুই লাখ ১৮ হাজারের বেশি আশ্রয় আবেদন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। অর্থাৎ বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জানতে পারছেন না তারা আশ্রয়ের অধিকার পাবেন কি না। সংস্থাটির মতে, আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়লেও জট পুরোপুরি কাটেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরে আশ্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। তবুও অনুমোদনের হার কমেছে এবং অনেক আবেদন বাতিল হয়েছে। বিশেষ করে কিছু দেশের নাগরিকদের আবেদনের ক্ষেত্রে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হলেও, এতে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে কি না—সে প্রশ্নও উঠেছে।
আরও জানা গেছে, গত বছরে ভেনেজুয়েলা ও মালির নাগরিকদের আশ্রয় প্রার্থনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, নিজ নিজ দেশে অর্থনৈতিক সংকট, দারিদ্র্য ও সংঘাত বৃদ্ধির কারণে মানুষ স্পেনে আশ্রয় চাইছেন।
এই পরিস্থিতিতে শরণার্থী সহায়তা সংস্থা মনে করছে, সরকার ঘোষিত বড় আকারের বৈধকরণ কর্মসূচি অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বহু মানুষের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করবে। এতে তারা কাজ, বাসস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে স্থিতি পেতে পারেন। তবে একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আশ্রয় আবেদনগুলোর দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তিও জরুরি বলে তারা জোর দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে স্পেন একদিকে অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধ মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে, অন্যদিকে আশ্রয় প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়ে গেছে। অভিবাসন ব্যবস্থাকে কার্যকর ও মানবিক করতে দুই ক্ষেত্রেই সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।










