রাজনীতির ঊর্ধ্বে মানবতা-গাজার পাশে আমীরে জামায়াত
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ব্যস্ততা আর রাজনৈতিক কর্মসূচির ভিড়েও বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জনপদ গাজার মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা ভুলে যাননি বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। মানবিক দায়িত্ববোধ ও মুসলিম উম্মাহর প্রতি গভীর সহমর্মিতা থেকে তিনি বাংলাদেশের মানবিক সংস্থা আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের (আশ) মাধ্যমে গাজার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে নিজের আমানত তুলে দিয়েছেন।
গাজাবাসীর প্রতি এই ভালোবাসা ও সহযোগিতার জন্য আশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন জামায়াতে ইসলামীর আমীরের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমীরে জামায়াতের আর্থিক সহায়তায় ও ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় গাজার প্রায় এক হাজার মাজলুম পরিবারের জন্য ১২ টন খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ‘ভালোবাসার উপহার’ শীর্ষক ফুড প্যাকেজ কর্মসূচি খুব শিগগিরই গাজার পথে যাত্রা শুরু করবে।
তিনি জানান, বর্তমানে মিশরের রাজধানী কায়রোতে ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মাহবুবুল আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শফিউল মওলা এবং আমি নিজে সরাসরি উপস্থিত থেকে পুরো ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছি।
বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং মিশর সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ক্রমে আল আরিশ গিয়ে ইজিপ্টশিয়ান রেড ক্রিসেন্টের কাছে ত্রাণ সামগ্রীগুলো পৌঁছে দিব।
প্রকৌশলী নাছির উদ্দিন আরও বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলার পর বাংলাদেশের প্রথম সংস্থা হিসেবে আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন ধারাবাহিকভাবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। একই সঙ্গে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মিশর থেকে গাজার উদ্দেশ্যে ত্রাণ পাঠানোর ক্ষেত্রে মিশর সরকারের সরাসরি অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র বাংলাদেশি সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি উল্লেখ করেন, গাজায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে প্রথম মসজিদ নির্মাণ, সোলার প্রকল্প স্থাপন, তাঁবু বিতরণ, টয়লেট ও গোসলখানা নির্মাণ, কুরবানির আয়োজন, রমজানে ইফতার সামগ্রী বিতরণ, কম্বল ও শীতবস্ত্র প্রদানসহ নিয়মিত খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব মানবিক উদ্যোগে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছে।
সম্প্রতি আশ ফাউন্ডেশনের একটি উচ্চ পর্যায়ের টিম মিশরে পৌঁছালে তাদের কায়রো আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান মিশরের আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত আশ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা।













