বিদেশে বসে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণের দিন শেষ: সারজিস আলম
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের শরিক দল থেকে পঞ্চগড়-১ আসনের মনোনীত প্রার্থী সারজিস আলম বলেছেন, বিদেশে বসে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণের সময় শেষ হয়ে গেছে।
সোমবার বিকেলে পঞ্চগড় পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সারজিস আলম বলেন, “শেখ হাসিনা ভারতে বসে কিংবা দেশের বাইরে অন্য কোনো দেশ বা এজেন্সি বসে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত নেবে—এ সময় আর নেই। এই দেশ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে এ দেশের মানুষ।”
তিনি আরও বলেন, “এই তরুণ প্রজন্মই অভ্যুত্থানের প্রজন্ম, বিপ্লবী প্রজন্ম। তারা এখনো ঘুমিয়ে যায়নি, তারা জেগে আছে। প্রয়োজন হলে যে কোনো সময় তারা মাঠে নামবে। বাইরে বসে অনেক কথা বলা যায়, সাহস থাকলে বাংলাদেশে এসে বলুক।”
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, প্রশাসনসহ অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব পক্ষই একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন চায়। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই দেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পঞ্চগড়ের তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যারা গত এক বছরে জুলুম করেছে, চাঁদাবাজি করেছে, মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করেছে—তাদের হাতে দেশ তুলে দেওয়া হবে, নাকি যারা ইনসাফের পক্ষে লড়াই করেছে, সেই সিদ্ধান্ত এখন তরুণদের।”
তিনি আরও বলেন, “যারা তিনবার শুধু কথা দিয়ে গেছে, নির্বাচনের পর হারিকেন ধরেও যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি, তাদের ওপর আবার আস্থা রাখা হবে—নাকি যারা দুঃখ-কষ্টে মানুষের পাশে থেকেছে, সেই সিদ্ধান্ত জনগণকেই নিতে হবে।”
নিজের জোটের প্রতি মানুষের সাড়া প্রসঙ্গে সারজিস আলম দাবি করেন, মাঠপর্যায়ে ব্যাপক সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে। ১১ দল নিয়ে গঠিত ঐক্যবদ্ধ জোটের প্রতি মানুষের আস্থার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “এই জোট অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে কোনো জুলুম, চাঁদাবাজি কিংবা মামলা বাণিজ্যে জড়ায়নি। মানুষ বলছে, ভোটের দিন ব্যালটের মাধ্যমেই তারা জবাব দেবে।”
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফেস্টুনের নির্ধারিত মাপ লঙ্ঘনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, নির্দেশ দেওয়ার পরও সেগুলো অপসারণ করা হয়নি।
এ প্রসঙ্গে প্রশাসনের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, “সব রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে যদি সমানভাবে আইন প্রয়োগ করা না যায়, তাহলে দায়িত্বে থাকার নৈতিক অধিকার থাকে না।” তবে নিজের দলের কোনো ত্রুটি থাকলে তা সঙ্গে সঙ্গে সংশোধনের আশ্বাস দেন তিনি।
বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সংখ্যালঘু ও ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, যা স্বৈরাচারী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
তিনি বলেন, “ধমকি দিয়ে ভোট আদায়ের সময় শেষ। মানুষ এবার ইনসাফের পক্ষে থাকবে, জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।”










