আত্মসমর্পণ করলেন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে তিনটি অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার যোগ্যতা থাকলেও ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় বাকি অপরাধগুলোর জন্য আলাদা দণ্ড ঘোষণা করা হয়নি। অপর একটি অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় তা খারিজ করা হয়।
রায়ে উল্লেখ করা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, নয়জনকে অপহরণ, ১০ জনকে আটক রাখা, পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়িতে লুণ্ঠনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এটি ছিল যুদ্ধাপরাধের মামলায় ঘোষিত প্রথম রায়। তবে রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক থাকায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আগেই তিনি ভারত হয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান।
মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয় ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর, উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর রায় অপেক্ষমাণ রেখে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে, গত বছর নিজের সাজা স্থগিতের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন আবুল কালাম আজাদ। দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পর তার এই আত্মসমর্পণকে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।













