চালক-হেলপারসহ গ্রেপ্তার ৩
চলন্ত বাসে কলেজছাত্রীকে রাতভর গণধর্ষণ
যমুনা সেতু–টাঙ্গাইল–ঢাকা মহাসড়কে চলন্ত একটি বাসে এক কলেজছাত্রীকে রাতভর দলবদ্ধভাবে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাসের চালক, হেলপারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া আন্ডারপাস এলাকা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— বাসচালক মো. আলতাফ (২৫), হেলপার মো. সাগর (২৪) এবং চালকের সহযোগী মো. রাব্বি (২১)।
মধুপুর–এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুর রহমান জানান, মহাসড়কে দায়িত্ব পালনের সময় করটিয়া এলাকার একটি হোটেলে নাস্তা করছিলেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় ওই বাসটি সেখানে থামে এবং ভুক্তভোগী কলেজছাত্রীসহ চালক ও হেলপাররাও হোটেলে নাস্তা করছিলেন। পুলিশকে দেখে অভিযুক্তরা কৌশলে মেয়েটিকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
তিনি আরও জানান, এ সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি ‘ছিনতাই হচ্ছে’ বলে চিৎকার করে সরে যান। এতে পুলিশের সন্দেহ হলে তারা বাসটির কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন ওই কলেজছাত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। পরে তিনজনকে আটক করা হয় এবং ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।
মধুপুর–এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরীফ জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজের দর্শন বিভাগের এক ছাত্রী ঢাকার রেডিও কলোনি এলাকা থেকে আশুলিয়াগামী সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। বাসটিতে তখন আরও দুইজন যাত্রী ছিলেন।
পথিমধ্যে অন্যান্য যাত্রীরা নেমে গেলে চালক, হেলপার ও তাদের সহযোগী ওই কলেজছাত্রীকে জোরপূর্বক আটকে রাখে। এ সময় তার কাছে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বাসটি বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে অভিযুক্তরা ওই তরুণীর ওপর রাতভর দলবদ্ধভাবে যৌন নিগ্রহ চালায় এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরদিন সকালে যমুনাসেতু–টাঙ্গাইল–ঢাকা মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনের করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় সন্দেহজনকভাবে বাসটি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হাইওয়ে পুলিশ তল্লাশি চালায়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে পুরো ঘটনা প্রকাশ পায়।
ওসি জানান, উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীসহ গ্রেপ্তারকৃতদের বাসটি জব্দ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।










