ইরানে বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রম
স্বজনদের থেকে শেষ বিদায় নিতে এরফানকে ১০মিনিট সময় দেয়া হয়
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার তরুণ এরফান সোলতানিকে পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নিতে ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয়।
আজ বুধবার তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা রয়েছে। এর আগে তাঁকে এ সময় দেওয়া হয় বলে একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানিকে ৮ জানুয়ারি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় গ্রেপ্তার করা হয়। ইরানি সংবাদমাধ্যম ইরানওয়্যার জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর এরফানকে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য খুব অল্প সময় দেওয়া হয়। এ সময় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা স্বজনদের জানান, এটিই হবে তাঁর সঙ্গে তাঁদের শেষ দেখা। এরপরই তাঁকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানো হবে।
নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) বলেছে, আটক বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এরফানই প্রথম ব্যক্তি; যাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) বলেছে, আটক বিক্ষোভকারীদের মধ্যে এরফানই প্রথম ব্যক্তি; যাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, তাঁকে কোনো ধরনের আইনজীবী বা আইনি লড়াইয়ের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি কোনো বিচারপ্রক্রিয়া ছাড়াই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে ইরান সরকার।
এরফানের পরিবারের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র ইরানওয়্যারকে বলেছে, ‘এক নিকটাত্মীয় আইনজীবী এরফানের পক্ষে মামলায় লড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে বাধা ও হুমকি দেন।’ সূত্রের দাবি, ‘নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাঁকে (আইনজীবীকে) সাফ জানিয়ে দেন যে পর্যালোচনার মতো কোনো নথি এখানে নেই। আমরা আগেই ঘোষণা করেছি, বিক্ষোভ থেকে যাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে, তাঁদের সবার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।’ আরও পড়ুন ইরানে তরুণ বিক্ষোভকারী এরফানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে আজ ৭ ঘণ্টা আগে ইরানে তরুণ বিক্ষোভকারী এরফানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে আজ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরফানের পরিবারকেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে তাঁরা যদি এ বিষয়ে জনসমক্ষে মুখ খোলেন কিংবা গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন, তবে তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হতে পারে। সংবাদমাধ্যম দ্য ইউএস সান জানিয়েছে, এরফানের বিরুদ্ধে ‘সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইরানের আইনে এ অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ইরানি দেশপ্রেমিকেরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যান—আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নিন!!!…সাহায্য আসছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানে দেশজুড়ে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থা (ব্ল্যাকআউট) চলায় এরফানের মৃত্যুদণ্ডের আদেশের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো নিরপেক্ষ কোনো পক্ষ থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পোশাকশিল্পে কর্মরত তরুণ এরফান গত বৃহস্পতিবার কারাজ শহরের রাস্তায় বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা অবরোধে ধুঁকতে থাকা অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ ওই মিছিলে যোগ দেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য মতে, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের ৩১টি প্রদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও পড়ুন বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া শুরু হলে ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে ৯ ঘণ্টা আগে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া শুরু হলে ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, তেহরান এই বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
চলমান সহিংসতায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ৫০০ থেকে ২০০০ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিক্ষোভে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে ইরান সরকার। ইরানে দেশজুড়ে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থা (ব্ল্যাকআউট) চলায় এরফানের মৃত্যুদণ্ডের আদেশের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো নিরপেক্ষ কোনো পক্ষ থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, ইরানি শাসকদের বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘ইরানি দেশপ্রেমিকেরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যান—আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নিন!!!…সাহায্য আসছে।’ — উপরের তথ্য থেকে কপিরাইট যাতে না হয় সেভাবে সম্পাদনা করে সংবাদ/প্রতিবেদন লিখে দিন। এক/একাধিক হেডিং দিয়ে দিন। সাবটাইটেল দেবেন না।













