শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মঙ্গলবার: এক নজরে স্পেনের সর্বশেষ সংবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩০ পিএম
মঙ্গলবার: এক নজরে স্পেনের সর্বশেষ সংবাদ

স্পেনে বাড়িওয়ালাদের আয় ভাড়াটিয়াদের চেয়ে ৮২% বেশি, বাজারে জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি

স্পেনের সামাজিক অধিকার ও ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের আয়ের মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ভাড়াটিয়াদের গড় আয় যেখানে বছরে প্রায় ২৮ হাজার ৮১০ ইউরো, সেখানে বাড়িওয়ালাদের আয় ৫২ হাজার ৪৪৯ ইউরো—অর্থাৎ প্রায় ৮২ শতাংশ বেশি।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ ও ২০২৭ সালে যেসব ভাড়ার চুক্তি নবায়ন হবে, সেগুলো যদি বাজারদরে করা হয়, তাহলে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের আয়ের ব্যবধান আরও গড়ে ২ হাজার ২১৬ ইউরো বাড়বে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সরকারের শরিক দল সুমার এই পরিস্থিতিকে “অন্যায্য” উল্লেখ করে ভাড়া বাজারে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। তারা বলছে, ভাড়াটিয়াদের আবাসনের অধিকার নিশ্চিত করতে শক্ত পদক্ষেপ প্রয়োজন, শুধু কর ছাড় দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।

অন্যদিকে সরকার জানিয়েছে, তারা অংশীদার দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত, তবে আদালতের ঝুঁকির কারণে সরাসরি ভাড়া স্থগিত বা জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান এই বিতর্ক স্পেনে বাড়িভাড়া সংকট ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টিকে আরও সামনে এনে দিয়েছে।


পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা ইস্যুতে আগামী সোমবার মনক্লোয়ায় বৈঠকে বসছেন সানচেজ ও ফিখহো

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও প্রধান বিরোধী দল পিপির নেতা আলবের্তো নুনিয়েস ফিখহো আগামী সোমবার (১৯ জানুয়ারি) মাদ্রিদের মনক্লোয়া প্রাসাদে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। বৈঠকে মূলত পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে।

সরকারি সূত্র জানায়, বিশ্ব রাজনীতিতে চলমান পরিবর্তন ও সে অনুযায়ী স্পেনের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক কৌশল সম্পর্কে বিরোধী দলকে অবহিত করতে চান প্রধানমন্ত্রী। তবে পিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকটি যেন শুধু ইউক্রেনে স্পেনীয় সেনা পাঠানোর প্রসঙ্গেই সীমাবদ্ধ না থাকে। দলটি জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ব্যয়, সামরিক কৌশল এবং পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার—সবকিছু নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা চায়।

পিপির দাবি, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ কৌশল ও বাজেট নিয়ে সংসদে বাধ্যতামূলক ভোট হওয়া উচিত। এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না এলে তারা কোনো সিদ্ধান্তে সমর্থন দেবে না বলেও জানায় দলটি।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সোমবারই দুই শীর্ষ নেতার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।


ইরানে সহিংস দমন-পীড়নের প্রতিবাদ জানাতে মাদ্রিদে ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করল স্পেন

ইরানে সরকারবিরোধী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়নের ঘটনায় তীব্র আপত্তি জানাতে মাদ্রিদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা জাবিবকে তলব করেছে স্পেন। মঙ্গলবার স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ পদক্ষেপ নেয়।

স্পেন সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে ইরানে যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ অবিলম্বে তুলে নেওয়া এবং নির্বিচার গ্রেপ্তার বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। স্পেনের দাবি, ইরানি কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেসও এ ঘটনায় কড়া অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ইরানে যা ঘটছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নও ইরান পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটছে। ব্রাসেলসে ইইউভুক্ত ২৭ দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসে তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

নরওয়ের মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, গত ২৭ ডিসেম্বর শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৪৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৮ বছরের নিচে নয়জন শিশু রয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। ইন্টারনেট বন্ধ ও তথ্যপ্রবাহে কড়াকড়ির কারণে সঠিক হিসাব পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।


মাদ্রিদে সহপাঠীর হাতে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার ১১ বছরের শিশু 

মাদ্রিদে লস বারিওস এলাকায় ১২ বছর বয়সী এক কিশোরের হাতে অপহরণ ও নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে তারই এক সহপাঠী। ভুক্তভোগী শিশুটির বয়স ১১ বছর। পরিবারের পক্ষ থেকে গার্দিয়া সিভিলের কাছে ইতোমধ্যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী শিশু তার এক বন্ধুর বাড়িতে গেলে সেখানে তাকে কয়েক ঘণ্টা ধরে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। কোনোভাবে সে সেখান থেকে পালিয়ে বাড়িতে ফিরতে সক্ষম হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক পোড়া ক্ষত ও ফোসকা দেখা গেছে। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত কিশোর একটি ছুরি লাইটার দিয়ে গরম করে তা ভুক্তভোগীর শরীরে চেপে ধরে। পাশাপাশি গ্যাসের সংস্পর্শে অ্যারোসল স্প্রে ব্যবহার করে আগুনের শিখা ছুড়ে মারাও হয়। এতে শিশুটির শরীরের সংবেদনশীল অংশেও গুরুতর আঘাত লাগে।

বর্তমানে আহত শিশুটি চিকিৎসক ও মনোবিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।


যাত্রী হারাচ্ছে বার্সেলোনার উপশহর ও আঞ্চলিক রেলসেবা ব্যবস্থা রোদালিয়েস, বিপরীতে মাদ্রিদে রেকর্ড বৃদ্ধি

গত দুই বছরে বার্সেলোনার উপশহর রেলসেবা রোদালিয়েসে যাত্রীসংখ্যা কমেছে প্রায় ১ কোটি। এতে মোট যাত্রী হ্রাস পেয়েছে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে মাদ্রিদের সারকানিয়াস নেটওয়ার্কে উল্টো চিত্র দেখা গেছে—সেখানে যাত্রী বেড়েছে দেড় কোটিরও বেশি।

২০২৫ সালে রোদালিয়েসে মোট যাত্রী ছিল প্রায় ১১ কোটি, যা করোনা পরবর্তী সময়ে পাওয়া সর্বনিম্ন সংখ্যা। শুধু ২০২৫ সালেই যাত্রী কমেছে ৭৫ লাখের বেশি। বছরের শেষ ভাগে এই পতন আরও তীব্র হয়। ডিসেম্বর মাসে যাত্রীসংখ্যা নেমে আসে মাত্র ৭৮ লাখে, যা মাসভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে কম।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বার্সেলোনার রেল নেটওয়ার্কে ট্রেন দেরিতে পৌঁছানোর গড় সময় ২১ মিনিট, যেখানে মাদ্রিদে তা প্রায় ১২ মিনিট। ট্রেন বাতিলের হারও বার্সেলোনায় বেশি—ডিসেম্বরে প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল, মাদ্রিদে যা ছিল শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

২০২৪ সালের মে মাসে তামার তার চুরির ঘটনায় কয়েকটি লাইনে টানা পাঁচ সপ্তাহ বিপর্যয় দেখা দেয়। এরপর একের পর এক অবকাঠামো সংস্কারকাজ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। দীর্ঘমেয়াদি কাজের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এর বিপরীতে, মাদ্রিদের সারকানিয়াসে গত দুই বছরে যাত্রী বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ কোটি ৫৪ লাখে। যদিও তারা এখনও পুরোপুরি মহামারি-পূর্ব অবস্থায় ফিরতে পারেনি, তবুও প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে।

জরিপে দেখা গেছে, রোদালিয়েসের প্রতি তিনজন যাত্রীর মধ্যে দুইজন নিয়মিত সমস্যার মুখে পড়েন। এর ফলে অনেকেই যাতায়াতের পথ বা পরিবহন মাধ্যম বদলাতে বাধ্য হয়েছেন।

তবে রেনফে, আদিফ ও কাতালান সরকার আশা করছে, চলমান সংস্কার শেষ হলে এবং নতুন ট্রেন যুক্ত হলে অদূর ভবিষ্যতে রেলসেবার মান উন্নত হবে।


দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘের স্প্যানিশ টহলদলের কাছে ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলাবর্ষণ: ২ স্প্যানিশ সেনা আহত

দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিলের (UNIFIL) একটি স্প্যানিশ টহলদলকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ট্যাংক থেকে গোলা ছোড়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে স্প্যানিশ সেনারা অক্ষত রয়েছেন।

স্পেনের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি ইসরায়েলি ট্যাংক লেবাননের ভেতরে নিরাপত্তা এলাকার উত্তরে ঢুকে পড়ে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এগিয়ে গেলে স্প্যানিশ টহলদলের কাছাকাছি তিনটি গোলা নিক্ষেপ করা হয়, যা টহলদল থেকে প্রায় ১৫০ থেকে ৩৮০ মিটার দূরে পড়ে। পরে স্প্যানিশ সেনারা নিরাপদ স্থানে সরে যান এবং ইসরায়েলি ট্যাংকগুলোও পিছু হটে।

ইউনিফিল এই ঘটনাকে “আক্রমণ” এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাবের “গুরুতর লঙ্ঘন” বলে উল্লেখ করেছে। তারা জানায়, ২০২৫ সালে শান্তিরক্ষীদের ওপর এটি অন্তত অষ্টম হামলার ঘটনা।

ইউনিফিল আরও জানায়, টহল কার্যক্রমের বিষয়ে আগে থেকেই ইসরায়েলকে জানানো হয়েছিল এবং শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসরায়েলি বাহিনীর দায়িত্ব।

স্পেনের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর বলেছে, শান্তিরক্ষীদের ওপর যেকোনো হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং এটি সেনাদের জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

বর্তমানে ইউনিফিলে প্রায় ১১ হাজার সেনা কর্মরত, যার মধ্যে প্রায় ৭০০ জন স্প্যানিশ। উল্লেখ্য, গত বছরও ইসরায়েলি গুলিতে দুই স্প্যানিশ সেনা আহত হয়েছিলেন।


বার্সেলোনার হাসপাতালে ওষুধের ভুলে দুই ক্যান্সার রোগীর মৃত্যু

বার্সেলোনার বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল (HUBU)-তে ওষুধের ভুল প্রস্তুতি ও প্রয়োগের কারণে দুই ক্যান্সার রোগীর মৃত্যু ঘটেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি “মানবিক ত্রুটি” এবং তারা ঘটনার দায় স্বীকার করেছে।

ভুল ওষুধ প্রয়োগের ঘটনায় মোট পাঁচজন রোগী প্রভাবিত হয়েছেন। দুইজন মারা গেছেন, একজন বর্তমানে আইসিইউতে রয়েছে, একজন সাধারণ কক্ষে চিকিৎসাধীন এবং একজনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল জানিয়েছে, মৃত রোগীরা শিশু ক্যান্সার রোগী ছিলেন না।

ঘটনাটি ক্রিসমাসের সময়ে ঘটে এবং ওষুধের ভুল কেবল নির্দিষ্ট রোগীদের জন্য হয়েছিল, তাই অন্যদের কোনো ঝুঁকি নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি জানতে মাত্রই তারা অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন ত্রুটি এড়ানোর জন্য প্রটোকল পুনঃমূল্যায়ন করেছে।

পরিবারদের মানসিক ও আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতাল রোগীদের সঙ্গে সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে যোগাযোগ করেছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও সমর্থন প্রদান করছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক