শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ

নিহত ৫০০ ছাড়িয়েছে: হাসপাতালে ‘লাশের স্তুপ’, হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩১ এম
নিহত ৫০০ ছাড়িয়েছে: হাসপাতালে ‘লাশের স্তুপ’, হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সংঘর্ষ ও সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের টানা সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক ছাড়িয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করছে। আহত ও নিহত মানুষের চাপে বহু হাসপাতাল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে অনেক ক্ষেত্রে আহতদের বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় সময় বা সুযোগ পাচ্ছেন না তারা। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি এবং তার জবাবে ইরানের পাল্টা আঘাতের সতর্কবার্তায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। দেশটির নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনো হামলা হলে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন ‘ভুল হিসাব-নিকাশ’ না করে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সাবেক এই কমান্ডারের ভাষায়, ইরানে হামলা মানেই পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এদিকে দেশের ভেতরে বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ইরানি সরকার। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৩৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই বিক্ষোভকারী, যদিও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। তবে রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলো এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতদের কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।

বিক্ষোভের বাস্তব চিত্র আড়াল করতে বৃহস্পতিবার থেকে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, টানা ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইরান কার্যত ডিজিটাল অন্ধকারে রয়েছে। ফলে দেশটির ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

বিবিসির সঙ্গে গোপনে কথা বলা তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষে আহত ও নিহত মানুষের চাপ সামাল দিতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। অধিকাংশ আহতের শরীরে সরাসরি গুলির ক্ষত রয়েছে বলে জানান তারা। একজন চিকিৎসক বলেন, বহু তরুণের মাথা ও বুকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। অনেকেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর আগেই মারা গেছেন।

তেহরানের একটি বড় হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়েছেন, মরদেহ রাখার মতো জায়গা না থাকায় একটির ওপর আরেকটি লাশ স্তূপ করে রাখতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাসপাতালের প্রার্থনা কক্ষেও মরদেহ রাখা হয়েছে। রাশত শহরের একটি হাসপাতালে এক রাতে ৭০টির বেশি মরদেহ আনার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে অনেক আহতকে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন দেওয়ার সময়ও পাচ্ছেন না চিকিৎসকেরা।

বিক্ষোভে আহতদের বড় একটি অংশের চোখে ও শরীরের ওপরের অংশে গুলি লাগার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। শর্টগানের গুলিতে অনেকের চোখ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। জরুরি সেবার চাপ সামাল দিতে বহু হাসপাতালে সাধারণ অস্ত্রোপচার ও ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। ছুটিতে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদেরও ডেকে পাঠানো হয়েছে।

এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল মূলত অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তা রাজনৈতিক রূপ নেয় এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশটির শতাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান দাবি করছেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একদিকে জনগণের প্রতিবাদকে অধিকার হিসেবে স্বীকার করলেও অন্যদিকে ‘দাঙ্গাবাজদের’ বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকার জনগণের কথা শুনতে প্রস্তুত, তবে সমাজকে অস্থিতিশীল করার কোনো চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। তিনি চলমান অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে অভিযোগ করেন, বিদেশ থেকে প্রশিক্ষিত লোকজন এনে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করা হচ্ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ইরান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বেশি করে স্বাধীনতা চাইছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এই মন্তব্যকে ইরান সরাসরি অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

ইসরায়েলও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে দেশটির নিরাপত্তা সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা বৈঠকগুলোতে সম্ভাব্য আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। গত জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এখনো টাটকা থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক মহলও ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা সহিংস দমন-পীড়নের নিন্দা জানিয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে। তবে ইন্টারনেট বন্ধ এবং বিদেশি গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত থাকায় প্রকৃত চিত্র কতটা ভয়াবহ, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান একদিকে অভ্যন্তরীণ গণঅসন্তোষ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চাপ ও সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত—এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। সংকট কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক