এলপিজি সংকটে চরম ভোগান্তি- “টাকা দিয়েও গ্যাস পাচ্ছি না”
দেশজুড়ে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকটের মধ্যে পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। এর ওপর ব্যবসায়ীদের ডাকা ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘটে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে বৈঠকের পর এলপিজি ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।
গত এক সপ্তাহ ধরে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ কমে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক ঘরেই রান্না বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। অনেককে বৈদ্যুতিক চুলা কিংবা কাঠের চুলায় রান্না করতে দেখা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় খালি সিলিন্ডার নিয়ে দোকানে দোকানে ঘুরেও গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করেন ভোক্তারা।
রাজধানীর উলন এলাকায় খুচরা ব্যবসায়ী মাসুদুল হাসান জানান, আগে বেশি দামে গ্যাস কিনলেও এখন টাকা দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। একই এলাকার বাসিন্দা রিয়া আক্তার বলেন, লাইন গ্যাস না থাকায় এলপিজিই তাদের একমাত্র ভরসা। সংকটের কারণে আগেভাগে রান্না সেরে রাখতে হচ্ছে, কখন গ্যাস শেষ হয়ে যায় সেই দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে।
এলপিজি সংকটের প্রভাব পড়েছে ছোট খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁতেও। রাজধানীর রামপুরা এলাকায় একাধিক রেস্তোরাঁ গ্যাস না পেয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন মালিকরা। ব্যবসায়ীরা জানান, এক সপ্তাহে সিলিন্ডারের দাম কয়েক দফা বেড়েছে এবং শেষ পর্যন্ত ডিলারদের কাছ থেকেও সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
সরেজমিন দেখা গেছে, রামপুরা, মগবাজার, কুড়িলসহ বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি বিক্রির সঙ্গে যুক্ত বেশিরভাগ খুচরা দোকান বন্ধ ছিল। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, ধর্মঘটের কারণে ডিলাররা সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় তারা গ্যাস বিক্রি করতে পারেননি।
এই সংকটের মধ্যেই কমিশন বৃদ্ধি, বিইআরসির একতরফা মূল্য ঘোষণা বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট ডাকে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে কর্মসূচি থেকে এই ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়।
দিনভর ভোগান্তির পর বিইআরসি ব্যবসায়ী, ডিলার ও রিটেইলারদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠক শেষে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি সেলিম খান জানান, তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো নিয়ে বিইআরসি আলোচনা ও আশ্বাস দেওয়ায় ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, পরিবেশকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই দাম নির্ধারণ করায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এদিকে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, এলপিজি সংকট নিরসনে সরকার, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানোর বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছিলেন, এলপিজির ঘাটতি নেই, বরং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজির কারণেই বাজারে সংকট ও দাম বৃদ্ধি ঘটেছে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের মাধ্যমে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ জানুয়ারি বিইআরসি ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম বাড়িয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের মূল্য এক হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করে। তবে এর আগেই খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করছিলেন ভোক্তারা। ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর বাজারে দ্রুত স্বাভাবিকতা ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।













