শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

রবিবার: এক নজরে স্পেনের সর্বশেষ সংবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩৬ পিএম
রবিবার: এক নজরে স্পেনের সর্বশেষ সংবাদ

মাদুরো ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ মানবে না স্পেন: পেদ্রো সানচেজ

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে নিকোলাস মাদুরো গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, স্পেন কখনোই মাদুরোর শাসনকে স্বীকৃতি দেয়নি, তবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কোনো সামরিক হস্তক্ষেপও স্বীকার করবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় সানচেজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে এবং এতে গোটা অঞ্চল আরও অনিশ্চয়তা ও সংঘাতের দিকে ঠেলে যেতে পারে। তিনি সব পক্ষকে সাধারণ মানুষের কথা ভাবার এবং জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধা রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলায় একটি ন্যায্য ও সংলাপভিত্তিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর জোর দেন তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এর আগে, মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর সানচেজ উত্তেজনা কমানো ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান। তিনি জানান, ভেনেজুয়েলায় স্পেনের দূতাবাস ও কনস্যুলেট সক্রিয় রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বিরোধী দল পিপির নেতা আলবার্তো নুনিয়েস ফেইহো যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে সমর্থন করে ভেনেজুয়েলার বিরোধীদের পাশে দাঁড়ান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদুরোর শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে তার দল এবং এখন দেশটিতে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের সময় এসেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রেজোলিউশন’ নামের অভিযানে গভীর রাতে মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, এটি ছিল দীর্ঘ পরিকল্পনার ফল এবং অত্যন্ত নির্ভুলভাবে অভিযানটি চালানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর মাদুরোকে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে বিচার হবে।


ঝড় ফ্রান্সিসে স্পেনে বৃষ্টি, তুষার ও তীব্র শীতের সতর্কতা

আবহাওয়া সংস্থা এমেট স্পেনজুড়ে বিরূপ আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে। ঝড় ‘ফ্রান্সিস’ ও আর্কটিক ঠান্ডা বাতাসের সংঘাতে রোববার ৪ জানুয়ারি থেকে দেশটির দক্ষিণে ভারী বৃষ্টি এবং বিস্তীর্ণ এলাকায় তুষারপাত শুরু হবে। আন্দালুসিয়ায় সতর্কতা সবচেয়ে বেশি—কাদিস ও মালাগার কয়েকটি অঞ্চলে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যেখানে ১২ ঘণ্টায় ৮০ লিটার পর্যন্ত বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত নিচু এলাকাতেও তুষারপাত হতে পারে। উত্তর স্পেন, মধ্যাঞ্চল, কাস্তিয়া-লা-মানচা, আরাগন ও কাতালোনিয়ার কিছু অংশে যে কোনো উচ্চতায় তুষার পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার, রাজাদের দিনে, তুষারপাতের তীব্রতা সর্বাধিক হতে পারে।

আর্কটিক বাতাসের কারণে তাপমাত্রা ব্যাপকভাবে কমে যাবে। পিরেনিতে তাপমাত্রা মাইনাস ১০ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে এবং দেশের ভেতরের অংশে ব্যাপক তুষারঝড় ও হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা থাকবে।

মাদ্রিদ সরকার আগাম সতর্কতা জারি করে পৌরসভাগুলোকে প্রস্তুতি নিতে বলেছে। তুষার ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং আবহাওয়ার হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে এমেট।


ইন্দোনেশিয়ায় নিখোঁজ স্প্যানিশ কোচ ফের্নান্দো মার্টিনের মরদেহ উদ্ধার

ইন্দোনেশিয়ার পানিতে নিখোঁজ থাকার নয় দিন পর স্প্যানিশ ফুটবল কোচ ফের্নান্দো মার্টিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে কমোডো ন্যাশনাল পার্কের কাছে সমুদ্র এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায় বলে পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

গত ২৬ ডিসেম্বর কমোডো ও পাদার দ্বীপের মাঝপথে কাঠের নৌকা ডুবে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ফের্নান্দো মার্টিন তাঁর পরিবারসহ ওই নৌকায় ভ্রমণ করছিলেন। তিনি ভ্যালেন্সিয়া সিএফ নারী দলের বি স্কোয়াডের কোচ ছিলেন। এর আগে ২৯ ডিসেম্বর ওই এলাকাতেই তাঁর ১২ বছর বয়সী মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

দুর্ঘটনায় ফের্নান্দোর স্ত্রী আন্দ্রেয়া অর্তুনিও ও তাঁর এক মেয়ে প্রাণে বেঁচে যান এবং ইতোমধ্যে স্পেনে ফিরে গেছেন। তবে এখনও দুই শিশু নিখোঁজ রয়েছে—একজন আন্দ্রেয়ার সন্তান এবং অন্যজন ফের্নান্দোর সন্তান।

নিখোঁজ দুই শিশুকে খুঁজে পেতে ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ আরও তিন দিন উদ্ধার অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উদ্ধার করা মরদেহটি শনাক্তের জন্য কমোডো হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


আন্দালুসিয়ায় একটি বাড়িতে কার্বন মনোক্সাইডে বিষক্রিয়া: তিন শিশুসহ ৮ জন হাসপাতালে

স্পেনের লা লিনিয়া দে লা কনসেপসিওন শহরের একটি বাসায় কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস শ্বাস নেওয়ার কারণে পাঁচজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে, যাদের বয়স ৫, ৭ ও ১১ বছর। সবাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

আন্দালুসিয়ার জরুরি সেবা সংস্থা ১-১-২-এর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে স্বাস্থ্য জরুরি সেবা ০৬১ থেকে একটি ফোনকল পেয়ে দমকল বাহিনীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। কলটিতে জানানো হয়, শহরের বার্সেলোনা সড়কের একটি বাড়িতে একজনের কার্বন মনোক্সাইডে বিষক্রিয়ার উপসর্গ দেখা গেছে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বাস্থ্যকর্মীরা পরিস্থিতি যাচাই করেন। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই বাড়ি থেকে পাঁচজনকে উদ্ধার করে লা লিনিয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজন শিশু ছাড়াও ৩৮ বছর বয়সী একজন পুরুষ এবং ৩৬ বছর বয়সী একজন নারী রয়েছেন।

এ ঘটনায় জরুরি চিকিৎসা দল ও একটি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি কার্বন মনোক্সাইডে বিষক্রিয়ার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।


স্প্যানিওলের বিপক্ষে বার্সার জয়ের নায়ক গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া

স্প্যানিওলের বিপক্ষে কাতালান ডার্বিতে বার্সেলোনার জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া। সাবেক ক্লাবের মাঠে দর্শকদের তীব্র দুয়োর মুখেও তিনি ছিলেন অবিচল, বরং দুর্দান্ত দুটি সেভে দলকে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বাঁচান।

ম্যাচের ৩৯ মিনিটে পেরে মিয়ার হেড থেকে অসাধারণ রিফ্লেক্সে গোল বাঁচান জোয়ান। এরপর ৬৪ মিনিটে রবার্তো ফার্নান্দেজ প্রায় গোল করে ফেললেও ঠিক সময়ে বল কুড়িয়ে নিয়ে আবারও দলকে রক্ষা করেন তিনি। এই দুটি সেভই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

পুরো ম্যাচজুড়েই স্প্যানিওল বার্সাকে চাপে রাখে। বার্সার আক্রমণও খুব বেশি কার্যকর ছিল না। তবে কোচ হানসি ফ্লিকের কৌশলগত পরিবর্তন ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলে। বিরতির পর নামা ফারমিন লোপেজ দুটি গোলে অ্যাসিস্ট করেন। প্রথম গোলে দানি ওলমোর নিখুঁত ফিনিশ, আর দ্বিতীয় গোলে লেভানডোভস্কির সহজ ট্যাপ-ইন বার্সার জয় নিশ্চিত করে।

এই জয়ে লিগ টেবিলে রিয়াল মাদ্রিদের থেকে বার্সেলোনার ব্যবধান বেড়ে দাঁড়াল সাত পয়েন্টে। অন্যদিকে, টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের পর স্প্যানিওলের জয়রথ থামলেও তাদের লড়াকু পারফরম্যান্স প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে দিনশেষে, বার্সার রক্ষাকবচ হয়ে উঠেছিলেন জোয়ান গার্সিয়াই।


রাজনৈতিক চাপের মুখেও দেশের অর্থনীতিকেই ভরসা করছে স্পেন সরকার

রাজনৈতিকভাবে কঠিন সময় পার করলেও জানুয়ারিতে স্পেন সরকার দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে প্রধান ভরসা হিসেবে দেখছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকার চলতি বছরের বাজেট অনুমোদনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও সংসদে পর্যাপ্ত সমর্থন জোগাড় করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্পেনের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে কর আদায় বেড়ে নতুন রেকর্ডের দিকে যাচ্ছে, যা সরকারের জন্য আর্থিকভাবে স্বস্তির খবর। কর্মসংস্থান পরিস্থিতিও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

তবে দুর্নীতি অভিযোগ, আঞ্চলিক নির্বাচনে ধাক্কা এবং সামনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের কারণে সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল। এমন পরিস্থিতিতে ফেব্রুয়ারিতে বাজেট সংসদে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে—বাজেট পাস না হলেও মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত শাসন চালিয়ে যাবে।

কর আয় বাড়ায় সরকার সামাজিক খাত, পেনশন ও প্রতিরক্ষা ব্যয়ে বাড়তি অর্থ ব্যয় করার সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে আঞ্চলিক ঋণের অংশ মওকুফের প্রস্তাবও সামনে আনা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও শক্তিশালী অর্থনৈতিক সূচকগুলোই আপাতত স্পেন সরকারের সবচেয়ে বড় ভরসা।


বার্সেলোনা ও তারাগোনায় নিম্নাঞ্চলেও তুষারপাতের সতর্কতা

কাতালুনিয়ার সিভিল প্রোটেকশন বিভাগ জানিয়েছে, আগামী রোববার ও সোমবার বার্সেলোনা ও তারাগোনার বিভিন্ন এলাকায় নিম্ন উচ্চতাতেও তুষারপাত হতে পারে।

সংস্থাটির উপপরিচালক ইম্মা সোলে জানান, একই সময়ে জিরোনায় দমকা হাওয়া ও সাগরে উত্তাল ঢেউয়ের আশঙ্কাও রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য বৈরী আবহাওয়ার কারণে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও নির্দেশনা দেওয়া হবে।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে কার্গো জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি খালাস আবার শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে শিগগিরই দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহেশখালীতে এলএনজি খালাসের কাজ পুনরায় চালু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহে এর প্রভাব দেখা যায়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা নাগাদ এলএনজি থেকে প্রায় ৭৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একই সময়ে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায় প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। সব মিলিয়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় প্রায় ২৩৪ কোটি ঘনফুট।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে হঠাৎ বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে আসা ‘প্যাসিফিক সাকসেস’ নামের একটি কার্গো জাহাজ বৃহস্পতিবার মহেশখালীতে পৌঁছালেও উত্তাল সাগরের কারণে সেটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ফলে একটি টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছিল। একপর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুটে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

চাহিদার তুলনায় এখনো ঘাটতি

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার সেই সরবরাহ কমে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়।

দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসে। মহেশখালীর সমুদ্র এলাকায় থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় পাইপলাইনে পাঠানো হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট গ্রুপের।

দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হলে কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো ব্যবস্থায় দ্রুত প্রভাব পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি টার্মিনালে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছে গেলেও সাগরের পরিস্থিতির কারণে সেটি থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে যে পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাওয়ার কথা, তার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার উন্নতি হলে আবার কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়তে থাকে।

এর আগে জুলাইয়ে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পরও দেশে বড় ধরনের গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছিল। প্রায় এক মাস পর আগস্টে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হয়। এরপর এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিও কিছুটা উন্নত হচ্ছিল।

এর মধ্যেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন করে এলএনজি খালাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে আবার চাপ তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে খালাস পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই পরিস্থিতি আপাতত কাটতে শুরু করেছে। তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম থাকায় গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে আমদানি ও এলএনজি খালাস নিয়মিতভাবে চালু থাকার ওপর।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, করলা, পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দামও ঊর্ধ্বমুখী।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও একই ধরনের বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

করলা এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে উঠেছে। ঝিঙা ও ধুন্দলের ক্ষেত্রেও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা পেপের দাম অবশ্য আগের মতোই প্রায় ৩০ টাকা কেজি রয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাজারে সবজির পাশাপাশি মাছের দামেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। আকারভেদে রুই মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। ফার্মের ডিম, ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির দাম মোটামুটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি প্রায় ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম সামান্য বাড়লেও বাজারে তা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ডজনের মধ্যে রয়েছে। চালের দামেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় কোনো প্রভাব এখনো দেখা যায়নি।

পরিবহন খরচের প্রভাব, নাকি বাড়তি মুনাফা?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। যশোর থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজি পরিবহনের উদাহরণ দিয়ে এক ব্যবসায়ী জানান, আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া প্রায় ১৮ হাজার টাকা থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তা বেড়ে ২১ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়েছে। এতে বেগুনসহ অন্যান্য সবজির পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দর কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর আগে চলতি বছর এপ্রিল ও জুনেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজার পর্যন্ত পণ্য আনতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। সেই ব্যয়ের একটি অংশ খুচরা মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় যতটা বেড়েছে, তার তুলনায় অনেক পণ্যের দাম খুচরা বাজারে বেশি হারে বাড়ানো হচ্ছে। তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব থাকলেও একবারে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর যৌক্তিকতা সব ক্ষেত্রে নেই। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে দুধ, আটা ও ময়দার দামেও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আটা ও ময়দার দামও বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারে প্রায় চার টাকা বাড়ার পর দুই লিটারের একটি বোতল এখন ৪০৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন দরের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয়কে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বললেও ক্রেতারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে খুচরা পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক