জাতীয় সংসদ নির্বাচন: মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের শেষ দিন আজ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাইয়ের শেষ দিন আজ রোববার (৪ জানুয়ারি)। যাচাই শেষে দেশের ৩০০ আসনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা কতজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে এবং কতজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে—তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন।
রোববার নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে। আপিলের শুনানি ও নিষ্পত্তি সম্পন্ন হবে ১২ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে।
প্রতিবারের মতো এবারও আপিল আবেদন গ্রহণের জন্য ইসির ১০টি প্রশাসনিক অঞ্চলের জন্য ১০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। নির্ধারিত বুথে আবেদন গ্রহণ শেষে শুনানির মাধ্যমে আপিল নিষ্পত্তি করা হবে।
নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী—
- প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন: ২০ জানুয়ারি
- প্রতীক বরাদ্দ: ২১ জানুয়ারি
- ভোটগ্রহণ: ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত (বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে)
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তারা যেসব কারণে মনোনয়ন বাতিল করেছেন, আপিলে সেসব কারণের যৌক্তিকতা যাচাই করা হবে। বাতিলের কারণ আইনসম্মত না হলে সংশ্লিষ্ট মনোনয়ন গ্রহণ করা হবে।
আপিল দাখিলের সাত নির্দেশনা
আপিল দাখিলের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যে সাতটি নির্দেশনা দিয়েছে, সেগুলো হলো—
- কমিশনকে সম্বোধন করে নির্ধারিত ফরমেটে স্মারকলিপি আকারে আপিল দাখিল।
- মনোনয়ন গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের কারণ এবং আদেশের সত্যায়িত কপি সংযুক্ত করা।
- ১টি মূল কপিসহ মোট ৭টি কপি জমা দেওয়া।
- সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নির্ধারিত বুথে আপিল দাখিল।
- ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে আপিল দাখিল।
- আপিল কর্তৃপক্ষের রায়ের কপির জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন।
- আপিলকারী বা তার মনোনীত প্রতিনিধি রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।
আপিল দাখিলের জন্য রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ১০টি বুথ থাকবে, যেখানে অঞ্চলভিত্তিক জেলা অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, বর্তমানে ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৯টি। এর মধ্যে ৫১টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। আর ৮টি দল কোনো প্রার্থী দেয়নি এবং তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না। অংশ না নেওয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে—
বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (এমএল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, তৃণমূল বিএনপি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)।
মনোনয়ন যাচাই শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।












