সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মারা গেছেন
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কিডনি ও হৃদরোগের পাশাপাশি সম্প্রতি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় এক মাস ধরে তিনি সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
মৃত্যুর সময় খালেদা জিয়ার পাশে ছিলেন তার পরিবার ও দলের শীর্ষ নেতারা। উপস্থিত ছিলেন তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পুত্রবধূ জোবায়দা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান এবং দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
এর আগে তার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক বলে জানানো হলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকদিন ধরে হাসপাতালের সামনে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভিড় দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতার খবরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়। সরকারের একাধিক উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।
গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার আগে ২১ নভেম্বর একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় তিনি অসুস্থ বোধ করেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি লিভার সিরোসিস, কিডনি সমস্যা, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগ, ফুসফুস ও চোখের নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।
২০২১ সালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুনে তার হৃদপিণ্ডে পেসমেকার বসানো হয়। একই সময়ে বিদেশি চিকিৎসকদের মাধ্যমে তার লিভারের জটিল চিকিৎসাও সম্পন্ন করা হয়। এর আগে থেকেই তার হৃদযন্ত্রে একাধিক ব্লক ধরা পড়েছিল।
২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় আদালত তাকে কারাদণ্ড দেন। এরপর তিনি বিশেষ ব্যবস্থায় কারাগার ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরবর্তী সময়ে নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়ে গুলশানের বাসভবনে অবস্থান করেন।
২০২৪ সালের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে তাকে সব সাজা থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দেওয়া হয়।












