ওসমান হাদির সম্ভাব্য খুনি ফয়সাল সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক অনিয়মের তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটির প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে।
রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব জানান, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব লেনদেন শনাক্ত করা হয়। এসব আর্থিক কার্যক্রম মানিলন্ডারিং, সংঘবদ্ধ অপরাধ কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে—এমন সন্দেহ থেকেই মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী পৃথক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তার অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অভিযুক্ত ও তাঁর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা চেকগুলোতে বিপুল অঙ্কের অর্থের উল্লেখ রয়েছে। যদিও এসব চেকের অনেকগুলোর লেনদেন চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হয়নি, তবু রেকর্ডভুক্ত অর্থের সমষ্টিগত পরিমাণ প্রায় ২১৮ কোটি টাকা।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোতে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার লক্ষ্যে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব অর্থের উৎস শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সিআইডি জানায়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান বিন হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পরপরই সংস্থাটি ছায়া তদন্ত শুরু করে। ঘটনার সময় দ্রুত ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, গুলির খোসা উদ্ধার এবং অন্যান্য আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে রাহুল এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তবে আলামত গোপন ও তাঁকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে তাঁর পরিবারের সদস্যসহ একাধিক সহযোগীকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফয়সাল করিমের অবস্থান নিয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি দেশে আছেন নাকি বিদেশে গেছেন—সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।













