বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক সংসদ মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কেন জামায়াতে যোগ দিলেন?
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। যোগদানের পর তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো দেশদ্রোহী দল নয়; বরং এটি একটি দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক সংগঠন।
শনিবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আখতারুজ্জামান। এ সময় তিনি জামায়াতের প্রাথমিক সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন। একসময় জামায়াতের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই মুক্তিযোদ্ধা যোগদানের কারণও ব্যাখ্যা করেন।
আখতারুজ্জামান বলেন, বিএনপির নেতৃত্ব বিশেষ করে তারেক রহমানের বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত নন। তার দাবি, মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে, জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে নয়। তিনি বলেন, জামায়াত মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করে এবং দলের গঠনতন্ত্রেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ধারাবাহিকভাবে জামায়াতকে নিয়ে ভুল ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদ হিসেবেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে তিনি দলীয় নেতৃত্বকে জামায়াতকে রাজনৈতিক সঙ্গী না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই সময় তার কথা গুরুত্ব পায়নি। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি আবারও জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন করে সরকার পরিচালনা করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গত দেড় দশকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জামায়াত সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে দাবি করে আখতারুজ্জামান বলেন, বিএনপির মতোই জামায়াতের নেতাকর্মীরা মামলা, গ্রেপ্তার ও দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ঐক্য প্রয়োজন ছিল, কিন্তু ৫ আগস্টের পর বিভাজনের রাজনীতি শুরু করেছে বিএনপি।
নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে আখতারুজ্জামান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অকারণ বিরোধ তৈরি করা হচ্ছে। তার প্রশ্ন, কাদের স্বার্থে বিএনপি এখন জামায়াতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতিতে অস্থিরতা থেকেই এসব বক্তব্য আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, আখতারুজ্জামান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিন নম্বর সেক্টরে মেজর কে এম শফিউল্লাহর অধীনে যুদ্ধ করেন।













