রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার: পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানালেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন
▪️তিনি জানান, ড. ইউনূস প্রায় সাত মাস ধরে তার সাথে দেখা করেননি, তার প্রেস বিভাগটি কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরে বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলো থেকে তার প্রতিকৃতি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের পর তার মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, “আমি পদত্যাগ করতে আগ্রহী। নির্বাচনের আগে সাংবিধানিকভাবে আমার দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
৭৫ বছর বয়সী মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতির পদ বাংলাদেশে মূলত আনুষ্ঠানিক, তবে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দেশের কার্যনির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে থাকে।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে চলে গেলে সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতির পদটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সাহাবুদ্দিন তখন দেশের শেষ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তিনি অপমান বোধ করেছেন। তিনি বলেন, “ড. ইউনূস প্রায় সাত মাস ধরে আমার সঙ্গে দেখা করেননি, আমার প্রেস বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়া হয়েছে, এবং সেপ্টেম্বরে বিশ্বের বিভিন্ন বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেটে আমার প্রতিকৃতি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি মানুষের কাছে একটি ভুল বার্তা দিচ্ছে, যেন রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা হচ্ছে। আমি অত্যন্ত অপমানিত বোধ করছি।”
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানান, তিনি ড. ইউনূসকে বিষয়টি নিয়ে চিঠি লিখেছেন, তবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তিনি এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন।













