পদত্যাগ প্রশ্নে নীরবতা, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ
অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া জানিয়েছেন, তাঁর পদত্যাগ সম্পর্কে যেকোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় থেকেই জানানো হবে। তবে তিনি নিজে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম উপস্থাপন করতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নেওয়া উদ্যোগগুলোর কথাও তুলে ধরেন তিনি।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এ বিষয়ে আমার কিছু বলার এখতিয়ার নেই। প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় যা বলার, সেখান থেকেই জানানো হবে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, পদে থেকে নির্বাচনে যাওয়াকে তিনি নিজেই অনুচিত বলে মনে করেন, যদিও আইনগত বাধা নেই।
তিনি বলেন, “আমি নির্বাচন করব—এটা নিশ্চিত। কোথা থেকে বা কোন দলের হয়ে করব, তা পরবর্তী সময়ে জানানো হবে। আমরা এখন একধরনের প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি, পরে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
সরকার-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপদেষ্টাদের নিয়ে মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যমুনায় নিয়মিত বৈঠকে দুই উপদেষ্টার সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সরকারের উচ্চপর্যায়ে ধারণা তৈরি হয় যে আসিফ মাহমুদ দ্রুতই পদ ছাড়তে পারেন।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পরে গত মাসেও তাঁদের প্রতি একই তাগিদ দেওয়া হয়। সরকার-সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত—নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে থাকা দুই উপদেষ্টার আর সরকারে থাকা যথাযথ হবে না; তাঁরা নির্বাচন করুন আর না করুন, দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোই উচিত।
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে তিন ছাত্রনেতা উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত হন। তাঁদের মধ্যে নাহিদ ইসলাম তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, আসিফ মাহমুদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং মাহফুজ আলম বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব পান।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের পদত্যাগ নিয়ে জল্পনা চললেও তিনি নিজে এখনো বিষয়টি পরিষ্কার করে বলছেন না। সব নজর এখন প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।










