নরসিংদীর রায়পুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রবাসফেরত যুবক নিহত, আহত ২০
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল নিলক্ষা এলাকায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মামুন মিয়া (২৫) নামে এক প্রবাসফেরত যুবক নিহত হয়েছেন। ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ২০–৩০ জন আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনা ঘটে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিলক্ষার দড়িগাঁও বাজার এলাকায়। নিহত মামুন মিয়া ওই এলাকার আব্দুল আউয়ালের ছেলে ও সম্প্রতি কুয়েত থেকে ছুটিতে দেশে ফিরেছিলেন। স্থানীয়রা জানান, কাছের দুই দল—প্রয়াত শহিদ মেম্বারের অনুসারী দল ও ফেলু মিয়ার গ্রুপ—দীর্ঘদিন ধরে এলাকার আধিপত্য নিয়ে বিরোধে জড়িত ছিল। সকালে বাজারে ফেলু মিয়ার নাতিনের জামাতার সঙ্গে মামুনের কথা কাটাকাটির সূত্র ধরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুইপক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সময় দুইপক্ষ টেঁটা, লাঠি, রামদা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। গোলাগুলির সময় মামুনসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা মামুনকে প্রথমে নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর অবস্থার কারণে তার পিতা আউয়াল মিয়া (৫৫) ও পরশ মিয়া (৩৮) ঢাকায় পাঠানো হয়েছে — তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রেফার করা হয়েছে।
রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনছি। মৃত ও আহতদের সঠিক সংখ্যা এবং ঘটনায় যারা জড়িত তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে অভিযান চলছে। নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকারও জানান, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঘটনার ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালানো হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, এলাকার দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই এই হারানো নিয়ন্ত্রণের ঘটনা ঘটেছে। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে থাকায় আহতসংখ্যা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যায়নি; পুলিশের দাবি ঘটনায় সম্পৃক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।













