শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধের চিঠি পর্যালোচনা করছে ভারত
বাংলাদেশের অনুরোধে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করছে ভারত। বুধবার নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি ভারতের নিজস্ব বিচারিক ও আইনি কাঠামোর অধীনে পরীক্ষা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রযাত্রাকে সমর্থনের ব্যাপারে ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য পাঠানো তৃতীয় চিঠির আনুষ্ঠানিক জবাব এখনো পায়নি ঢাকা। দুপুরে মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, নোট ভারবাল আকারে চিঠিটি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, তবে দ্রুত সাড়া পাওয়ার আশা করা হচ্ছে না।
গত বছরের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা করে তাঁকে এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। একই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে থাকা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পরপরই বাংলাদেশ সরকার প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ভারতকে আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানায়। এর আগে গত বছর ডিসেম্বর এবং চলতি বছরে দ্বিতীয়বার পাঠানো অনুরোধেরও উত্তর দেয়নি নয়াদিল্লি। তবে রায় ঘোষণার দিন ভারত একটি বিবৃতিতে জানায়, তারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে।













