ভূমিকম্পে নিহত রাফি, অপারেশন থিয়েটারে তার মা জানেন না সন্তান মারা গেছে
প্রতীক ছবি।
ঢাকার প্রত্যাশিত এক সকাল মুহূর্তেই পরিণত হলো শোকে। ভূমিকম্পে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুসরাত এখনো জানেন না—তার ছেলে রাফি আর জীবিত নেই। অপারেশন থিয়েটারে শুয়ে থেকেও তিনি বারবার ছেলের খোঁজ করছেন, জিজ্ঞাসা করছেন— “রাফি কেমন আছে?”
বগুড়ার বাসিন্দা রাফি সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। পরিবারের সঙ্গে ঢাকার বাসায় থাকতেন তিনি। শুক্রবার সকালে মায়ের সঙ্গে মাংস কিনতে বের হয়েছিলেন। বংশালের কসাইতটুলিতে নয়নের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ভূমিকম্পের জোরে পাশের ভবনের রেলিং ভেঙে তাদের ওপর পড়ে।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত ছুটে এসে মা-ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন—রাফি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রেলিংয়ের আঘাতে তার মাথা ও মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাফির মাকে তাৎক্ষণিকভাবে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তিনি গুরুতর আঘাত পেয়েছেন তবে প্রাণসঙ্কট নেই। তবে মানসিকভাবে তিনি তীব্র ধাক্কায় আছেন।
এদিকে রাফির মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতালে পৌঁছেছেন তার একমাত্র বোন। ভাইয়ের লাশ ও মায়ের শোকে দিশেহারা তিনি।
শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদীর মাধবদীকে কেন্দ্র করে মাঝারি মাত্রার (রিখটার স্কেলে ৫.৭) ভূমিকম্পে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হয়। রাজধানীর নানা এলাকায় ভবনের অংশ ভেঙে পড়া ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
বংশাল থানার ডিউটি অফিসার জানান, কসাইতটুলিতে একটি পাঁচতলা ভবনের রেলিং ধসে তিনজন পথচারী নিহত হন—রাফি তাদের একজন। অপর দুইজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তিনজনের মরদেহ সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
লালবাগ বিভাগের সহকারী কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামি জানিয়েছেন, ভবনের অংশবিশেষ ভেঙে দুইজন ঘটনাস্থলেই মারা যান; অন্যজন হাসপাতালে পৌঁছানোর পর মৃত্যুবরণ করেন।












