অপরাধজগতের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২ লাখ টাকায় খুন শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন: ডিবি
▪️ মুক্তি পেয়ে ফের ক্ষমতার খেলায় নেমেছিলো মামুন। মাত্র দুই লাখ টাকায় ‘চুক্তি খুন’—অপরাধজগতের ভয়ঙ্কর বাস্তবতা উন্মোচন করল ডিবি।
অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণ কে নেবে—এই আধিপত্যের দ্বন্দ্বে মাত্র ২ লাখ টাকার বিনিময়ে গুলি করে হত্যা করা হয় পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুনকে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই শুটারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, হত্যার পরিকল্পনা করেন ‘রনি’ নামের এক সন্ত্রাসী, যিনি আন্ডারওয়ার্ল্ডের আলোচিত ইমন গ্যাংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। মামুনের সঙ্গে ইমনের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব থেকেই এই হত্যার সূত্রপাত। জামিনে মুক্ত হয়ে মামুন ফের এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে চাইলে রনি ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। রনি দুই লাখ টাকার বিনিময়ে শুটার ফারুক ও রবিনকে ভাড়া করে এবং তাদের হাতে অস্ত্র সরবরাহ করে।
গত ১০ নভেম্বর সকালে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে গুলিতে নিহত হন মামুন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ফারুক ও রবিন তাঁর ওপর পরপর গুলি চালান। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডিবি জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর রনির নির্দেশে শুটাররা বেড়িবাঁধ হয়ে রায়েরবাজারে যায় এবং ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি রুবেল নামের আরেক সহযোগীর মাধ্যমে ইউসুফের বাসায় রেখে আসে। পরে অভিযান চালিয়ে ইউসুফের ঘরের মেঝে খুঁড়ে দুটি বিদেশি পিস্তল, ছয় রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করে পুলিশ।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা সিলেট হয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করেছিল। তবে সীমান্তে প্রবেশ করতে না পেরে তারা নরসিংদীতে ফিরে আসে। পরে মঙ্গলবার রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে ফারুক, রবিন, শামীম ও রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।”
গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যার পারিশ্রমিক হিসেবে পাওয়া ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা, দুটি মোটরসাইকেল ও অন্যান্য আলামত।
ডিবি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, মূল পরিকল্পনাকারী রনি এখনও পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।













