স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে লড়বে এনসিপি: ১৭০ আসনে খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সারাদেশে জোরদার নির্বাচনি প্রস্তুতি চালাচ্ছে। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন হতে হবে—এমন অবস্থান ধরে দলটি তাদের প্রচার ও সংগঠন কার্যক্রমে গতি এনেছে।
বিএনপি ও জামায়াত উভয়ই এনসিপিকে জোটে টানার চেষ্টা করছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতের সঙ্গে দলটির দূরত্ব স্পষ্ট হয়েছে। এনসিপির একাধিক শীর্ষ নেতা জোট বা নির্বাচনি সমঝোতার বিপক্ষে মত দিয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের গড়া এই দলটি আসন্ন নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে তৃণমূলে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যদিও জোটে না গেলেও “অভিন্ন রাজনৈতিক এজেন্ডা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে” কিছু আসনে সমন্বয় হতে পারে।
একজন যুগ্ম আহ্বায়ক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপি চাইছে এনসিপি যেন কোনোভাবেই জামায়াতের সঙ্গে না যায়। এজন্য ঢাকা ও আশপাশের অন্তত ২০টি আসনে সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মন্ত্রিসভায় এনসিপিকে অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। তবে এনসিপি এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত অবস্থান নেয়নি।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, “আমাদের বেশির ভাগ নেতাকর্মী স্বতন্ত্র অবস্থানে থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে চান। জোট বা আসন সমঝোতার ধারণার সঙ্গে আমরা একমত নই, তবে অভিন্ন লক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্ধারণ হতে পারে।”
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে ১৭০টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের খসড়া তালিকা তৈরি করেছে এনসিপি। নাহিদ ইসলাম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ডা. তাসনিম জারা, আরিফুল ইসলাম আদিব, সামান্থা শারমিনসহ শীর্ষ নেতারা ঢাকা ও আশপাশের একাধিক আসন থেকে প্রার্থী হতে পারেন।
এর বাইরে সদস্য সচিব আখতার হোসেন (রংপুর), সারজিস আলম (পঞ্চগড়) ও হাসনাত আবদুল্লাহ (কুমিল্লা) প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। উপদেষ্টা পরিষদের দুই সাবেক ছাত্রনেতাও এনসিপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে লড়বেন বলে জানা গেছে।
জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে তরুণদের নেতৃত্বের স্মৃতি টেনে এনসিপির নেতারা বলছেন, দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্বপ্ন এখনো অপূর্ণ। “বিদ্যমান রাজনৈতিক স্টাবলিশমেন্টের বিরুদ্ধে স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখা ছাড়া বিকল্প নেই,” মন্তব্য করেন দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা।
তাদের মতে, ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে থেকে জনগণের আস্থা অর্জনই এনসিপির মূল লক্ষ্য। সেই ধারায় থেকেই তারা আসন্ন নির্বাচনকে “রাজনৈতিক পরিবর্তনের নতুন সূচনা” হিসেবে দেখছে।













