শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নির্যাতনের নিষ্ঠুরতম রূপ: মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি কারাগারের ভয়াবহতার বর্ণনা দিলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৫:০৫ পিএম
নির্যাতনের নিষ্ঠুরতম রূপ: মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি কারাগারের ভয়াবহতার বর্ণনা দিলেন

ইসরাইল ও হামাসের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরাইল কারাগার থেকে ২৫০ জন দণ্ডপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি বন্দির পাশাপাশি গাজার ভেতর থেকে আটক করা আরও প্রায় ১ হাজার ৭০০ গাজাবাসীকে মুক্তি দিয়েছে। যাদের অধিকাংশকেই যুদ্ধ চলাকালে কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই আটক করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) টাইমস অব ইসরাইল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী এই ব্যক্তিদের “নিরাপত্তা হুমকি” হিসেবে আটক করেছিল। তবে মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, গাজায় নির্বিচারে অভিযান চালিয়ে বহু সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তথাকথিত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের নামে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

মুক্তি পাওয়া বন্দিদের অনেকে জানিয়েছেন, কারাগারে তাদের ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন, নিয়মিত মারধর, ঘুম থেকে বঞ্চিত করা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, খাবারের অভাব ও মানসিক চাপ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইল আক্রমণের পর ইসরাইলি সেনাবাহিনী ২০০২ সালের ‘অবৈধ যোদ্ধা আটক আইন’-এর আওতায় গাজার বহু বাসিন্দাকে ধরে নিয়ে যায়। অনেককে হাসপাতাল, স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্র থেকেও আটক করা হয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছিল, সাধারণ মানুষকে রাস্তা ও চেকপয়েন্ট থেকেও নির্বিচারে তুলে নেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসরাইলি কারাগারে এই আইনের আওতায় বন্দির সংখ্যা ছিল অন্তত ২ হাজার ৬৭৩। মানবাধিকার সংগঠন হামোকেদ জানায়, সামরিক আটক কেন্দ্রে আরও শতাধিক মানুষকে রাখা হয়েছিল। অধিকাংশ বন্দির ছয় মাস মেয়াদি আটকাদেশ নিয়মিত নবায়ন করা হতো, এবং এসব শুনানি ভিডিও কনফারেন্সে কয়েক মিনিটেই শেষ করা হতো।

বন্দিরা জানতেন না কেন তাদের আটক করা হয়েছে; তাদের কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি, এমনকি আইনজীবীর সাহায্যও দেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগেরও সুযোগ ছিল না। ২০২৪ সালের মে মাসে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর চাপে কিছু বন্দির সঙ্গে আইনজীবীর সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়, কিন্তু তা ছিল খুব সীমিত।

মুক্তি পাওয়া বন্দিদের মধ্যে এক ট্রাকচালক জানান, ২০২৪ সালের এপ্রিলে তাকে গাজার এক চেকপয়েন্ট থেকে আটক করে জোর করে হামাসের সদস্য হিসেবে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়। এরপর তাকে ‘ডিস্কো রুম’ নামে পরিচিত কক্ষে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উচ্চ শব্দে গান শোনানো হতো এবং ঘুমাতে দেওয়া হতো না। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকার কারণে তিনি ত্বকের রোগে আক্রান্ত হন।

আরেকজন বন্দি জানান, খান ইউনুস থেকে তাকে ধরে নিয়ে চোখ বাঁধা অবস্থায় ৯৬ দিন আটকে রাখা হয়। এমনকি ঘুমানোর সময়ও হাতকড়া খোলা হয়নি। পরে তাকে ওফের কারাগারে পাঠানো হয়, যেখানে বন্দিদের সাবানের বদলে মেঝে পরিষ্কারের তরল দেওয়া হতো।

মানবাধিকার সংগঠন হামোকেদ জানিয়েছে, অন্তত ১২ জন মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দি একই ধরনের নির্যাতনের প্রমাণ দিয়েছে। যদিও ইসরাইলি সেনাবাহিনী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে, ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, তিনি ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর কঠোর নীতিমালা আরোপ করেছেন।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্দে তেইমান আটক কেন্দ্রে এক ইসরাইলি রিজার্ভ সেনা ফিলিস্তিনি বন্দিকে নির্যাতনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। একই মাসে আরও পাঁচজন সেনার বিরুদ্ধে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৫ পিএম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৫৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে একজন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১১ জনে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ বিভাগে ২৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে ২৪১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৩০ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

একই সময়ে বরিশাল ও রংপুর বিভাগে ৪৪ জন করে, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ জন এবং সিলেট বিভাগে চারজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১০২ জন। এই হিসাবের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মৃত্যুর সংখ্যাও রয়েছে।

এ ছাড়া একই সময়ে খুলনা বিভাগে ৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে চারজন এবং সিলেট বিভাগে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৫ দিনেই ডেঙ্গুতে ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৪ পিএম
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

আসিয়ান কাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে মালয়েশিয়া।

আসিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো মাঠে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল হামজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। ম্যাচের ১৮ মিনিটে আরিফ আইমানের গোলে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া। এরপর ৩৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের ব্যবধান ২-০ করেন আইমান। দুই গোলের ঘাটতি নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশকে।

বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে মালয়েশিয়া। ৫২ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের ভেতর থেকে গোল করেন বার্গুসন। তার গোলে মালয়েশিয়ার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৩-০।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এরপর গোল পরিশোধে কয়েক দফা আক্রমণ গড়ে তোলে বাংলাদেশ। তবে সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি লাল-সবুজের দল। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।

এর আগে চার বছর আগে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচেও ৪-১ গোলে হেরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবার আসিয়ান কাপেও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল না বাংলাদেশ।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক