পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রাস্তায় পড়ে ছিল কৃত্রিম হাত: ঢামেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১০ জুলাই যোদ্ধা
জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ প্লাজায় অবস্থানরত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে, যার ফলে কয়েকজন আহত হন। এ সময় পুলিশের কয়েকটি যানবাহনও ভাঙচুরের শিকার হয়। ঘটনাস্থলে একজন জুলাই যোদ্ধার কৃত্রিম হাত রাস্তার উপর পড়ে থাকতে দেখা যায়। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে সংসদ ভবনের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
আন্দোলনকারীরা তিন দফা দাবিতে সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। হঠাৎ তারা সংসদ ভবনের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যরা বাধা দেন। এতে সংঘর্ষ লেগে যায়। পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। লাঠিচার্জে কয়েকজন আহত হন, যাদের মধ্যে জুলাই আন্দোলনে পা বা হাত হারানো ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
আহত আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে কিছুদূর সরে গেলে আবারও পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়ে প্রতিবাদ করে। পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। কিছু আন্দোলনকারী জুলাই সনদ অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি রাস্তার একটি বুথে আগুন ধরিয়ে দেন।

দুপুর ২টার দিকে আসাদগেট এলাকায় আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেয় এবং মোড়ে পুলিশও তাদের নজরদারিতে থাকে। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ২টার পর থেকে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
আহতরা হলেন: সিনথিয়া মিম, শফিকুল ইসলাম, শফিউল্লাহ, হাবিব উল্লাহ, তানভিরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, আতিকুল গাজী, রাকিব, লাইলি। আহত আতিকুল গাজী জানান, তার বাসা উত্তরা এলাকায়। তারা আজ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের প্রতিবাদ জানাতে মানিক মিয়া এভিনিউতে এসেছিলেন। পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন।
ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, আহতদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের অবস্থা গুরুতর নয়।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় ৫ শতাধিক বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারী নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ এবং অতিথিদের জন্য নির্ধারিত স্থানে অবস্থান নেন। বিক্ষুব্ধরা অভিযোগ করেন, সনদ প্রণয়নে তাদের পরামর্শ নেওয়া হয়নি এবং স্বীকৃতি না দিয়ে এটি আংশিকভাবে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের মতে, ঘোষণাপত্রের মতোই সনদে কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সতর্ক করে। এরপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের সরানো হয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। পরে জুলাই যোদ্ধারা বাইরে গিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে কিছু যানবাহনও ভাঙচুর করেন।













