রাকসুতেও শিবিরের জয়
৩৫ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হয়েছে। এতে ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’-এর প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ) এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ প্যানেলের সালাউদ্দিন আম্মার জয়ী হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ. নজরুল ইসলাম চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ২৩টি পদের মধ্যে ২০টিতেই জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেল।
নির্বাচনে ভিপি পদে মোস্তাকুর রহমান (জাহিদ) পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৮৭ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল–সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের শেখ নূর উদ্দিন (আবির) পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৯৭ ভোট। জিএস পদে সালাউদ্দিন আম্মার পেয়েছেন ১১ হাজার ৪৯৭ ভোট, আর শিবির–সমর্থিত প্রার্থী ফজলে রাব্বি মো. ফাহিম রেজা পেয়েছেন ৫ হাজার ৭২৭ ভোট। সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে শিবির–সমর্থিত প্যানেলের এস এম সালমান সাব্বির নির্বাচিত হয়েছেন ৬ হাজার ৯৭৫ ভোট পেয়ে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল–সমর্থিত জাহিন বিশ্বাস (এষা) পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৫১ ভোট।
নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ২৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ এবং ছাত্র ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ জন। ভোট পড়েছে ৬৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি ভবনের ১৭টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রাত সাড়ে আটটার দিকে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ভোট গণনা শুরু হয়। শুক্রবার সকালে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
ফলাফল ঘোষণার সময় মিলনায়তনে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব, সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন খান ও ফরিদ উদ্দিন খান, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল আলীম ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রাকসু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়েছে। এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়।”
বিগত ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৭২ বছরে এটি রাকসুর ১৭তম নির্বাচন। অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই এত বছর রাকসু নির্বাচন বন্ধ ছিল। এবারের ফলাফলে শিবির–সমর্থিত প্যানেলের ব্যাপক বিজয় তাদের জাতীয় পর্যায়ের ধারাবাহিক সাফল্যের প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা।













