‘আমরা চাই আপনার সঙ্গে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সুসম্পর্ক বজায় থাকুক’ –প্রধান উপদেষ্টাকে সালাহউদ্দিন আহমদ
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বুধবার রাতের জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির নেতারা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে কোনো ধরনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে তা এই সংকটকালীন সময়ে দেশের পক্ষে গ্রহণযোগ্য হবে না—এমন পরিস্থিতি তারা সহ্য করতে পারবে না।
সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা চাই আপনার সঙ্গে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সুসম্পর্ক বজায় থাকুক। রাষ্ট্রকে একটি ব্যালান্সড অবস্থায় রাখতে হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা কোনো রকম ঝুঁকি নিতে চাই না এবং তা আমরা সামলে নিতে পারব না।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ইতিহাসের পতিত স্বৈরাচার ও তাদের সমর্থকরা এসব সুযোগ কাজে লাগাতে পেরে বসে থাকবে; তাই কোনো বিপ্লবাত্মক পন্থায় এগোনো উচিত নয়—বার্তাটি বাস্তবতার নিরিখে নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
বিএনপি নেতার বক্তব্যে উল্লেখ থাকে, দলের সরকার সমর্থন প্রধান উপদেষ্টাকে দেবে, কিন্তু তা শর্তসাপেক্ষ। তিনি বলেন, দলের অব্যাহত সমর্থন থাকবে, তবে তা বিনা শর্তের নয়—সমর্থনের সীমা আছে এবং প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের প্রত্যাশা হলো একটি ঐতিহাসিক ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। “আমাদের কন্টিনিউঅাস সমর্থন আছে, কিন্তু সেটা সীমাহীন নয়; আপনার নেতৃত্বে নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমরা সম্পূর্ণভাবে সঙ্গ দেব,” বলেন তিনি।
সালাহউদ্দিন একই সঙ্গে সচিবালয়ে মন্ত্রী-স্তরের নিয়োগ ও বদলি সংক্রান্ত উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ–পদোন্নতির জন্য যে ‘কেবিনেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে, তা কোন প্রচলিত অনুশীলন নয় এবং এতে অনেক অনিয়ম ও স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে এসব বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং সরকারী বদলি–নিয়োগের প্রক্রিয়া বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ভুক্তভোগী দলের প্রতিনিধি হিসেবে সালাহউদ্দিনের এই মন্তব্যগুলো সেই ক্ষেত্রগুলোকে সামনে এনেছে যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো সতর্ক যে—নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় সেন্সিটিভ ধাঁচের ভারসাম্য নষ্ট হলে তা সংকট সৃষ্টি করতে পারে।













