নরসিংদীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবদল নেতা নিহত
নিহত যুবদল নেতা সাদেক মিয়া (৪২)
নরসিংদী সদরের চরাঞ্চলে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়েছে বিএনপির দুই পক্ষ। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে সাদেক হোসেন (৪২) নামের যুবদলের স্থানীয় এক নেতা নিহত হয়েছেন। সোমবার সকালে সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের মুরাদনগরে এ ঘটনা ঘটে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ওই এলাকায় এ নিয়ে তিনজনের প্রাণ গেল বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে।
নিহত সাদেক হোসেন ওই ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও স্থানীয় বাসিন্দা ছিলেন। এর আগে ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর একই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পৃথক সংঘর্ষে ইদন মিয়া (৬০) ও ফেরদৌসী বেগম (৩৫) নিহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বছরের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা–কর্মী এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে গেলে আলোকবালী ইউনিয়নে বিএনপির দুটি পক্ষ সক্রিয় হয়ে ওঠে। একপক্ষে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শাহ আলম চৌধুরী এবং অপর পক্ষে সদ্য বহিষ্কৃত সদস্যসচিব আবদুল কাইয়ুম মিয়া নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। মেঘনা নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে কাইয়ুমকে সম্প্রতি বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু বহিষ্কারের পরও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, শাহ আলমপক্ষ কাইয়ুমকে চাপে ফেলতে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের পুনরায় এলাকায় ফিরিয়ে আনছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর সংঘর্ষের পর সোমবার সকালে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় সাদেকসহ অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক সাদেককে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, নিহতের গলার ওপরে গুলির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য শাহ আলম চৌধুরী ও আবদুল কাইয়ুম মিয়ার ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সাড়া মেলেনি।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কলিম উল্লাহ জানিয়েছেন, বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন করে সহিংসতা ঠেকাতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।












