বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

পারমাণবিক হামলা হলে কী করবেন, ইরানের টিভিতে প্রচার হচ্ছে জরুরি নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৫ এম
পারমাণবিক হামলা হলে কী করবেন, ইরানের টিভিতে প্রচার হচ্ছে জরুরি নির্দেশনা

ইরানের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে হঠাৎ করেই পারমাণবিক হামলার পরিস্থিতিতে নাগরিকদের করণীয় বিষয়ে পাঁচটি সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রচার করা হচ্ছে। সম্ভাব্য পারমাণবিক বিস্ফোরণের সময় ও পরবর্তী সময়ে কীভাবে প্রাণ রক্ষা করতে হবে, তা জানিয়ে এসব পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রচারিত নির্দেশনায় বিস্ফোরণের মুহূর্তে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়া থেকে শুরু করে তেজস্ক্রিয় পদার্থের সংস্পর্শ এড়ানো এবং পরবর্তী সময়ে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

প্রথম নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পারমাণবিক বিস্ফোরণের আলো বা আগুনের গোলার দিকে সরাসরি তাকানো যাবে না। বিস্ফোরণের সময় দ্রুত শক্ত কোনো কিছুর আড়ালে আশ্রয় নিতে হবে এবং বিস্ফোরণের অভিঘাতের তরঙ্গ কেটে না যাওয়া পর্যন্ত নিচু হয়ে থাকতে হবে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

দ্বিতীয় নির্দেশনায় বিস্ফোরণের তরঙ্গ থেমে যাওয়ার পরপরই কাছের কোনো ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ সময় জানালা ও ভবনের বাইরের দেয়াল থেকে দূরে থাকতে হবে। বাইরে অবস্থান করা, ছবি তোলা কিংবা গাড়িতে আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকার কথাও বলা হয়েছে।

তৃতীয় নির্দেশনায় তেজস্ক্রিয় পদার্থের সংস্পর্শে আসার আশঙ্কা থাকলে শরীরের খোলা অংশ পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে গোসল করতে হবে। ব্যবহার করতে হবে কন্ডিশনারবিহীন সাধারণ শ্যাম্পু। গোসলের সুযোগ না থাকলে অন্তত মুখ, হাতসহ শরীরের উন্মুক্ত অংশ পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

চতুর্থ নির্দেশনায় হামলার পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা আশ্রয়স্থলের ভেতরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এ সময় শুধু বোতলজাত পানি ও প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পঞ্চম নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টা পার হলেই পরিস্থিতি নিরাপদ হয়ে গেছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। আশ্রয়স্থল থেকে বের হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। তবে আশ্রয় নেওয়া ভবনে আগুন লাগার বা ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিলে অন্য নিরাপদ ভবনে সরে যেতে হবে।

 

ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের পরিবর্তন চান ভোটাররা : ভ্যান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২৫ এম
ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের পরিবর্তন চান ভোটাররা : ভ্যান্স

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ২টি কারণে সরকারি দল রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীদের ভরাডুবি ঘটেছে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স; প্রথম কারণটি হলো ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং দ্বিতীয়টি হলো ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক।

৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পরের দিন ৪ নভেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, রিপাবলিকান পার্টির রীতিমতো ধরাশায়ী হয়েছে এবং বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীরা রেকর্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং উচ্চকক্ষ সিনেট— উভয়েই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা। কারণ এতদিন পার্লামেন্টে ট্রাম্প প্রশাসনের যে নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব ছিল— এই নির্বাচনের মাধ্যমে তা অনেকাংশে অপসারিত হয়েছে। অনেক মার্কিন রাজনীতি বিশ্লেষকের মতে, নির্বাচনের এই ফলাফল আসলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার নীতিমালার প্রতি মার্কিন ভোটারদের এক ধরনের প্রত্যাখ্যান।

ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ভ্যান্স লেখেন, ট্রাম্পের সমর্থকরা অন্য শিবিরে (ডেমোক্র্যাটদের দিকে) ঝুঁকে পড়ায় ডেমোক্র্যাটরা ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এক্সবার্তায় ভাইস প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, “মূল সমস্যা হলো, ২০২৪ সালে যারা ট্রাম্প-ভ্যান্সকে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই ২০২৬ সালে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন।” তিনি কয়েকজন নির্ভরযোগ্য জনমত জরিপকারীর (পোলস্টার) কথা উল্লেখ করেন, যাদের একজন আগেই ডেমোক্র্যাটদের এই বড় জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

“যেসব ভোটার ও সমর্থক আমাদের ছেড়ে গিয়েছেন, তাদের ওই জরিপকারী জিজ্ঞেস করেছিলেন যে কী করলে তারা আবার আমাদের পক্ষে ফিরে আসবেন। প্রায় সব উত্তরের সারসংক্ষেপ হিসেবে চারটি প্রধান পয়েন্ট উঠে এসেছে— ১) ইরান যুদ্ধ বন্ধ করা। ২) জীবনযাত্রার ব্যয় বা মুদ্রাস্ফীতির দিকে নজর দেওয়া। ৩) ‘আমেরিকা প্রথম’ (আমেরিকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া) নীতি অনুসরণ করা এবং ৪) ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ধরন পরিবর্তন করা।”

ভ্যান্স একজন রক্ষণশীল মার্কিন টিভি ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বের পরামর্শের কথাও তুলে ধরেন। ওই মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরান সংঘাত কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তিনি লেখেন, “এখন দেখা যাচ্ছে, তার রাজনৈতিক পরামর্শটি সঠিক ছিল। আমরা যে হেরেছি, তার কারণ হলো এই যুদ্ধ। গত রাতে প্রেসিডেন্ট নিজেও এমনটাই বলেছেন।”

মঙ্গলবার গভীর রাতে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়াটা রিপাবলিকানদের পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছে। তবে তিনি যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তটিকে সমর্থন করেছেন—যা ভ্যান্স তার দীর্ঘ পোস্টে করেননি।

বুধবার ভ্যান্সের মন্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনের পরবর্তী মূল্যায়ন নিয়ে তার কোনো আপত্তি নেই।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার আগে ভ্যান্স এর বিরোধিতা করেছিলেন বলে ব্যাপকভাবে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। মূলত তার আপত্তির কারণেই এপ্রিল মাসের পর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে আর কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি ইসরায়েল।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবর ইসরায়েল ও নেতানিয়াহু—উভয়ের প্রতিই অত্যন্ত জোরালো সমর্থন জানিয়ে আসছেন। অন্যদিকে, তার ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য প্রার্থী জে ডি ভ্যান্স এ ইস্যুতে অনেক বেশি সংযত বা শীতল মনোভাব নিয়ে চলেন। গত মাসে ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের আগে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে জোরালো সমর্থন দিলেও, ভ্যান্স তা করা থেকে বিরত ছিলেন।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে ট্রাম্পের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করায় গত জুন মাসে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন ভ্যান্স। জুলাই মাসে তিনি বলেন, ইসরায়েল সরকারের কিছু অংশ আলোচনার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার লক্ষ্যে মার্কিন জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।

গত মাসে ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগুলোকে ইসরায়েলের নীতির ‘অধীন’ হতে দেওয়া যায় না; বরং ওয়াশিংটনকে অবশ্যই নিজেদের স্বার্থকে সবার আগে প্রাধান্য দিতে হবে।

সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল

ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর গ্রামবাসীর হামলা, আহত ৩ সদস্য, গ্রেপ্তার ৯

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৩ এম
ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর গ্রামবাসীর হামলা, আহত ৩ সদস্য, গ্রেপ্তার ৯

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে বাহিনীর অন্তত তিন সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় বিএসএফের একটি গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি সদস্যদের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় তিন নারীসহ অন্তত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (০৪ নভেম্বর) ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন সিপাহীজলা জেলার আশাবাড়ি গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত সোমবার চোরাচালানের সন্দেহে বিএসএফ সদস্যরা গ্রামের এক ব্যক্তিকে আটক করে নির্যাতন করেন। কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই তাঁকে মারধর করা হয়। এতে ওই ব্যক্তির পায়ের হাড় ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে গ্রামবাসী সড়ক অবরোধ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

একপর্যায়ে বিএসএফের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাসহ কয়েকজন সদস্য গাড়ি নিয়ে অবরোধস্থলে পৌঁছান। তখন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা ও বাঁশ নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে অন্তত তিন বিএসএফ সদস্য আহত হন। একই সঙ্গে তাঁদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে।

পরে আহত সদস্যদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পরপরই কালামচৌড়া থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন নারীসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত আরও অন্তত ১০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিএসএফের ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের আইজি প্রিন্সি রানীসহ জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে আশাবাড়ি গ্রামের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ও সিপিআইএম নেতা জীতেন্দ্র চৌধুরীও হামলার সমালোচনা করেছেন। তবে সীমান্ত এলাকায় অবৈধ চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিরা ক্ষমতাসীন দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে এমন দুঃসাহস দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে ঘটনার তদন্ত চলছে।

মেট্রোরেলসহ তিন বড় প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার ঋণ চায় বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১০ এম
মেট্রোরেলসহ তিন বড় প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার ঋণ চায় বাংলাদেশ

মেট্রোরেল সম্প্রসারণ, সেতু নির্মাণ ও রেলকোচ কেনাসহ তিনটি বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে অর্থায়ন চেয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৩-২০২৭ মেয়াদে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৩০০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিলের (ইডিসিএফ) আওতায় এ অর্থায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্প তিনটি হলো, ঢাকা মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৫-এর দক্ষিণ রুট, মতলব উত্তর–গজারিয়া সেতু নির্মাণ এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচ কেনা।

বাংলাদেশের এসব প্রস্তাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের দেশটির সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়গুলো উঠে আসে। বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব কোরিয়া (কেক্সিম), কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন (কেআইসি) এবং বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৩-২০২৭ মেয়াদে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ৩০০ কোটি ডলারের ইডিসিএফ কাঠামোগত চুক্তি চলমান রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ তহবিলের আওতায় ৩০টি প্রকল্পের বিপরীতে ২৭৮ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার কেক্সিমের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী হোয়াং কিয়নের সঙ্গে বৈঠকে অবশিষ্ট অর্থ ব্যবহারে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরির প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। জবাবে কোরীয় ব্যাংকটি জানায়, তহবিলের আওতায় অগ্রাধিকারযোগ্য প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মেট্রোরেলসহ প্রস্তাবিত তিন প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় উপমন্ত্রী চ্যাং হুর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করে কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় পরিচালিত সমন্বিত প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন (আইজিএনডি) উদ্যোগের মহাপরিকল্পনা তৈরিতে দক্ষিণ কোরিয়ার কারিগরি সহায়তার প্রশংসা করেন অর্থমন্ত্রী। অন্যদিকে কোরীয় পক্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল রূপান্তর, বিকল্প অর্থায়ন এবং ভবিষ্যতে ইডিসিএফ ও আইজিএনডি উদ্যোগে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে।

কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ২০০ কোটি ডলারের বাংলাদেশ সার্বভৌম তহবিলকে সম্ভাব্য বিনিয়োগমাধ্যম হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়। পাশাপাশি কোরীয় তহবিল ব্যবস্থাপকদের মাধ্যমে কেআইসির ইকুইটি বিনিয়োগের সঙ্গে কেক্সিমের অর্থায়ন যুক্ত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়।

প্রযুক্তি খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এলজি এআই রিসার্চের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ভাষার উপযোগী বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদনশিল্প ও সরকারি সেবায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

এ ছাড়া ইয়ংওনের আয়োজনে কোরীয় বিনিয়োগবিষয়ক ব্যবসায়িক গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এ সময় কোরীয় কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে যৌথ বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কোরিয়ার সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক