জাতিসংঘের বৈঠকের আগেই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে ব্রিটেন
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮০তম অধিবেশন শুরুর দুই দিন আগে রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবার ঘোষণা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বেলফোর ঘোষণার শতাধিক বছর এবং ব্রিটিশ ম্যান্ডেট প্যালেস্টাইনে ইসরায়েল সৃষ্টির ৭৭ বছর পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮০তম অধিবেশন শুরুর দুই দিন আগে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) এ ঘোষণা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গত জুলাইয়ে যুক্তরাজ্য সরকার জানায়, তারা এতদিন যে নীতি অনুসরণ করে এসেছে—অর্থাৎ “সঠিক সময়ে” স্বীকৃতি দেওয়ার কৌশল—তা বদলাতে প্রস্তুত। শর্ত ছিল, ইসরায়েলকে গাজায় গণহত্যা বন্ধ করতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়ায় অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে এবং মানবিক সহায়তা বাড়াতে দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে গাজার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ইসরায়েলি সেনারা সুসংগঠিতভাবে গাজা নগর ধ্বংস করছে, একদিকে অনাহারে রাখছে, অন্যদিকে বাস্তুহারা করছে লাখো মানুষকে।
পশ্চিম তীরেও প্রতিদিন চলছে সেনা অভিযান ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা। এর মধ্যেই ইসরায়েল দখলকৃত অঞ্চলকে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে, যাতে পূর্ব জেরুজালেম রাজধানীসহ একটি পূর্ণাঙ্গ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণাকে সমাধিস্থ করা যায়।
ইসরায়েল যুক্তরাজ্য ও জাতিসংঘের ৭৫ শতাংশের বেশি সদস্য রাষ্ট্র যারা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তাদেরকে “সন্ত্রাসবাদ পুরস্কৃত করার” অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। তবে যুক্তরাজ্যের উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেছেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিলেই তা রাতারাতি বাস্তবে পরিণত হবে না। এটি দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা জিইয়ে রাখার জন্য একটি পদক্ষেপ।
কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনকও দুই-রাষ্ট্র সমাধানের কথা বললেও তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বিত অবস্থান নেওয়ার সংকেত দিয়েছেন। তার মতে, জিম্মিদের মুক্তি ছাড়া এখনই স্বীকৃতি দেওয়া মানে “সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করা”। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি লন্ডন সফরে এসে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির বিরোধিতা করেছেন।
গাজায় বন্দি ইসরায়েলিদের স্বজনেরা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে এ সিদ্ধান্ত না নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, এতে জিম্মিদের মুক্তির প্রচেষ্টা জটিল হয়ে পড়বে এবং এটি হামাসের জন্য “জয়” বয়ে আনবে।
এদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠকে স্টারমার জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের ফিলিস্তিনি নেতৃত্বে হামাসের কোনো স্থান নেই। ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন আগাবেকিয়ান শাহিন বলেছেন, যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য আশা বয়ে আনবে এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের বার্তা দেবে। তিনি ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে “মানবতার অস্তিত্বের ওপর পরিকল্পিত আঘাত” হিসেবে আখ্যা দেন।
বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪৮টি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। খুব শিগগিরই পর্তুগাল ও ফ্রান্সও ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই স্পেন, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে ও আরও কয়েকটি দেশ এ স্বীকৃতি দিয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে রয়ে যাবে যারা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয় না।
যদিও এই স্বীকৃতি স্বল্পমেয়াদে প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবেই থাকবে, কারণ ফিলিস্তিনের সব ভূখণ্ড এখনো ইসরায়েলি সামরিক দখলের অধীনে। তবু আন্তর্জাতিক চাপ ও দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ জনমতের কারণে পশ্চিমা দেশগুলো এ পথে হাঁটছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।











