রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

সাত মাসে ১৭ বার প্রতারণা করেছে বিএনপি: হাসনাত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
সাত মাসে ১৭ বার প্রতারণা করেছে বিএনপি: হাসনাত

জুলাই জাতীয় সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বিএনপি গত সাত মাসে ১৭ বার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ।

রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি আয়োজিত ‘জুলাই সনদের এক বছর সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিএনপি প্রতিদিনই একেকটি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। প্রতিশ্রুতি ভাঙার পরও দম্ভের সঙ্গে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিচ্ছে দলটি। এ কথা বলতে বলতে ইতোমধ্যে জুলাই সনদের ১৭টি ধারা লঙ্ঘন করেছে তারা। অর্থাৎ, সাত মাসে জাতির সঙ্গে ১৭ বার প্রতারণা করেছে বিএনপি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এনসিপির এই নেতা বলেন, বিএনপি ভেবেছিল এক পা ডাঙায় আরেক পা জলে রেখে সাঁতরে পুকুর পার হবে। এতে পার হতে পারলেও লুঙ্গি ঠিক থাকবে না। আমরা বারবার একটি সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছিলাম। গণভোটের মাধ্যমে ৩০০ সংসদ সদস্যকে ১৮০ দিনের জন্য সংস্কারের ক্ষমতা দিয়েছিল জনগণ। অথচ গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফলাফলের অর্ধেক মেনেছে বিএনপি সরকার। বাকি ফলাফল তারা মানেনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে নানা বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছিল। বিএনপিও ঠিক একই কায়দায় কিছু মানছে, কিছু মানছে না। অর্থাৎ, নিজেদের পক্ষে গেলে মানছে, অন্যথায় মানছে না। ফলে গণভোটের ফলাফল মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা।

তিনি বলেন, এর ফলে জুলাই সনদ এখন আর কার্যকর নেই। বিএনপি নিজের হাতেই এটিকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। এরপরও দলটি প্রতিদিন বলছে, তারা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। এমন প্রতিশ্রুতি দিতে দিতে গত সাত মাসে জনগণের সঙ্গে ১৭ বার প্রতারণা করেছে বিএনপি।

অস্থির সময়ে ইউরোপ

আবাসনসংকট ও ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩০ এম
আবাসনসংকট ও ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভ

আলবেনিয়ার তিরানায় আগুনে জ্বলতে থাকা একটি কিয়স্কের সামনে অবস্থান নিয়েছেন সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। ছবি: এ এফ পি।

স্পেন থেকে ইতালি, পর্তুগাল ও ফ্রান্স, আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। কোথাও তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান, কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ। আলবেনিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে সরকারবিরোধী আন্দোলন।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আবাসনসংকট, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি পরিষেবার অবনতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জোরালো হয়ে উঠেছে। স্পেন ও ফ্রান্সে শুরু হওয়া আন্দোলনের প্রভাব এবার ইতালি ও পর্তুগালেও দেখা যাচ্ছে। একই সময়ে আলবেনিয়ায় শিক্ষা ও সরকারি নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে।

গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবরের ঘটনাপ্রবাহে আন্দোলনের ধরন দেশভেদে আলাদা হলেও মানুষের অসন্তোষের কেন্দ্রে রয়েছে একই প্রশ্ন: আয় ও সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাধারণ মানুষ কি আর্থিকভাবে টিকে থাকতে পারছেন? কোথাও বাড়িভাড়া মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন ভাড়াটেরা, কোথাও দুর্বল সরকারি পরিষেবা ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ জমেছে। ইতালি ও আলবেনিয়ায় বিক্ষোভের একাংশ সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

মিলানে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

ইতালির মিলানে গত শনিবার জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে একটি মিছিল শুরুতে শান্তিপূর্ণ ছিল। পরে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ দাঙ্গা পুলিশের দিকে পাথর, রাস্তার পাকা ব্লক ও অন্যান্য বস্তু ছুড়তে শুরু করে। রেস্তোরাঁর টেবিল দিয়ে তৈরি ব্যারিকেডেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

মিলানে পিয়াচ্ছা দুয়োমোতে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের সংঘর্ষ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। ইতালির সংবাদ সংস্থা লাপ্রেসের বরাতে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সংঘর্ষে অন্তত দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন এবং প্রায় ৫০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্করাও রয়েছেন।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, বিক্ষোভ করা মানুষের অধিকার। তবে শহরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া বা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালানো সেই অধিকারের মধ্যে পড়ে না।

মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালাও বিক্ষোভের পেছনে থাকা সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্বেগের যৌক্তিকতা স্বীকার করেছেন। তবে পুলিশের ওপর হামলা এবং শহরের সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিকে তিনি সমর্থনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন।

লিসবনে তাঁবু খাটিয়ে প্রতিবাদ, আবাসন ব্যয় বেড়েছে ১২৪ শতাংশ

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে আবাসনসংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শনিবার থেকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন বিক্ষোভকারীরা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো মানুষ মিছিলে অংশ নেন। রাতে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় রোসিও চত্বরে কয়েক শ মানুষ জড়ো হন। তাঁরা রাজা চতুর্থ পেদ্রোর ভাস্কর্যের চারপাশে বসে গান গেয়ে রাত কাটানোর ঘোষণা দেন।

িসবনের রোসিও চত্বরে আবাসনসংকটের প্রতিবাদে তাঁবু ও অবস্থান কর্মসূচি।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৪৬ বছর বয়সী সমাজকর্মী এলেনা কস্তার ভাষায়, কর দিয়ে এবং শ্রমের মাধ্যমে দেশ সচল রাখা মানুষই এখন নিজেদের অধিকার হারাচ্ছেন। বিশেষ করে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন পাওয়ার অধিকার সংকুচিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি বোঝাতেই তিনি বলেন, ‘আমাদের দম বন্ধ হয়ে আসছে।’

পর্তুগালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশটিতে আবাসন ব্যয় বেড়েছে ১২৪ শতাংশ। এই বৃদ্ধি একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ। এর প্রভাব বিশেষভাবে পড়েছে তরুণ, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবার এবং লিসবনের বাসিন্দাদের ওপর।

বিক্ষোভকারী প্রকৌশলী আন্তোনিও মারগাদো অভিযোগ করেন, বাড়ির মালিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, অথচ যাঁদের ভাড়া দিয়ে থাকার সামর্থ্য কম, তাঁদের সুরক্ষা যথেষ্ট নয়।

লিসবনের এই আন্দোলনের আগে উত্তরাঞ্চলীয় শহর পোর্তোতেও তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান শুরু হয়েছিল। এর আগে প্রধান শ্রমিক সংগঠন সিজিটিপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে উন্নত সরকারি পরিষেবা, পেনশন ও মজুরির পাশাপাশি আবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের দাবি জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো বলেছেন, সরকারি নীতির ঘাটতি নিয়ে মানুষের ক্ষোভ প্রকাশের বিষয়টি সরকার বুঝতে পারছে। তবে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অন্য দেশ থেকে অস্থিতিশীলতার পরিবেশ আমদানি না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

স্পেনে এক বৃদ্ধার উচ্ছেদ ঘিরে আবাসন আন্দোলন

স্পেনে আবাসনসংকট নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নতুন মাত্রা পায়। এর কেন্দ্রে ছিলেন ৮৭ বছর বয়সী মারিয়া দেল কারমেন আবাসকাল, যিনি মাদ্রিদে সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করা ভাড়া বাসা থেকে উচ্ছেদের শিকার হন।

মাদ্রিদের পুয়ের্তা দেল সল চত্বরে আবাসনের অধিকারের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের তাঁবু শিবির।

বিনিয়োগপ্রতিষ্ঠান তাঁর বাসাটি অধিগ্রহণের পর ভাড়া ২৩০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানায়। এই বাড়তি ভাড়া বহন করতে না পারায় ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে বাসা ছাড়তে হয়। পরে ৭ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর উচ্ছেদ ও মৃত্যুর ঘটনা স্পেনে আবাসনের অধিকার নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করে।

তাঁর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদ্রিদসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, উচ্ছেদে সুরক্ষা এবং আবাসনকে কেবল বিনিয়োগের পণ্য হিসেবে বিবেচনা না করার দাবি জানান।

আবাসনসংকট মোকাবিলায় স্পেনের সমাজতান্ত্রিক নেতৃত্বাধীন সরকার জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেসে ডানপন্থী ও কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর বিরোধিতায় প্রস্তাবগুলো অনুমোদন পায়নি। এরপর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন। নির্বাচন ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বলে স্পেনের সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।

এই সংকট স্পেনে শুধু বাড়িভাড়ার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। আবাসনের ঘাটতি, বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা, তরুণদের বাড়ি কেনা বা ভাড়া নেওয়ার অসুবিধা এবং শহরগুলোতে বসবাসের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এখন বড় রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে।

ফ্রান্সে বিক্ষোভে গ্রেপ্তার ১২০০ ছাড়িয়েছে

ফ্রান্সে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় প্যারিসের উত্তরের দরিদ্র শহরতলির স্কুলগুলোতে শিক্ষকের অনুপস্থিতি, দুর্বল অবকাঠামো এবং শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ থেকে। পরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক বৈষম্য, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি পরিষেবায় ঘাটতি এবং মজুরি-পেনশন নিয়ে বৃহত্তর প্রতিবাদে।

প্যারিসে বিক্ষোভের সময় গাড়িতে আগুন।

গত শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের সময় বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। কিছু স্থানে ভবনে আগুন দেওয়া, দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সেদিন ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের সদস্যদেরও আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

প্যারিসের পাশাপাশি লিমোজ, মার্সেই ও অন্যান্য শহরেও সহিংসতার খবর এসেছে। ফরাসি সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহিংসতা এবং সম্পত্তি ধ্বংসের নিন্দা জানিয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের পেছনে থাকা শিক্ষা, সামাজিক বৈষম্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সমস্যাগুলোও দেশটির রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলনও সহিংস

আলবেনিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ, উচ্চ টিউশন ফি এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগ দাবি করছেন।

 

গত শনিবার বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর, পেট্রলবোমা, ধাতব বস্তু ও আতশবাজিজাতীয় বিস্ফোরক ছোড়েন। গাড়ি ও ময়লার পাত্রে আগুন ধরিয়ে সেগুলো পুলিশের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে ব্যবহার করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ রাবার বুলেট ব্যবহার করে। আদালত, ব্যাংক ও ডাকঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

দেশটিতে কয়েক মাস ধরে সরকারবিরোধী অসন্তোষ চলছিল। বিতর্কিত একটি পর্যটন রিসোর্ট নির্মাণ প্রকল্প, যার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, সেই আন্দোলনের অন্যতম প্রেক্ষাপট। শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অসন্তোষের সঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষোভ যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

একই সংকট, ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবাদ

ইউরোপের এই বিক্ষোভগুলোকে একই ধরনের আন্দোলন বলা যাবে না। স্পেন ও পর্তুগালে আবাসনসংকট এবং বাড়িভাড়া প্রধান বিষয়। ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে প্রতিবাদ হয়েছে। ফ্রান্সে শিক্ষা ও সরকারি পরিষেবার অবনতির সঙ্গে বৃহত্তর অর্থনৈতিক অসন্তোষ যুক্ত হয়েছে। আর আলবেনিয়ায় শিক্ষা, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও বিতর্কিত উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে ক্ষোভ সামনে এসেছে।

তবে দেশগুলোর ঘটনাপ্রবাহে একটি সাধারণ প্রবণতা স্পষ্ট: মানুষের আয় ও সামাজিক সুরক্ষার তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেলে এবং সরকারি নীতির ওপর আস্থা কমে গেলে ক্ষোভ দ্রুত রাজপথে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশেষ করে আবাসন এখন ইউরোপের বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন। বাড়িভাড়া ও বাড়ির দাম বাড়তে থাকলে তরুণদের স্বাধীনভাবে বসবাস, পরিবার গঠন এবং শহরে কাজ ধরে রাখার সুযোগ সংকুচিত হয়। ফলে আবাসনসংকট শুধু ব্যক্তিগত আর্থিক সমস্যাই নয়, বরং সামাজিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক অসন্তোষেরও উৎস হয়ে উঠছে।

তবে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট সাধারণ মানুষের দাবিকে সামনে আনার বদলে আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ইউরোপের সরকারগুলোর সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ: আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং একই সঙ্গে আবাসন, শিক্ষা, মজুরি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের বাস্তব উদ্বেগের কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা।

সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যাবে না এনসিপি: আখতার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১০ পিএম
সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যাবে না এনসিপি: আখতার

জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে সরকার বেশিদিন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও জনগণের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ সফল হবে না। গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটিকে ‘একদলীয়’ এবং সংস্কার ভেস্তে দেওয়ার চক্রান্ত আখ্যা দিয়ে এই কমিটিতে এনসিপি অংশ নেবে না বলে ঘোষণা দেন তিনি।

শনিবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গঠিত এই কমিটি সংবিধান সংস্কারের বিপরীত পথে যাত্রা এবং তা বিলুপ্ত করে গণভোটের রায় অনুযায়ী ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন তারা। সরকার মুখে সংস্কারের কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৯০ সালে তিন জোটের রূপরেখা বাস্তবায়নে বিএনপির যেমন অনিহা ছিল, তেমনি জুলাইয়ের সংস্কারও তারা বাস্তবায়ন করতে চায় না। অক্ষরের অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপপ্রধান সারোয়ার তুষার বলেন, একজন ব্যক্তির অভিলাষ পূরণ করতেই এই সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল। বিএনপি আগামী নির্বাচন নিজেদের পক্ষে প্রভাবিত করতেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে অভিযোগ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা না হলে এই বিরোধী আন্দোলন পরবর্তীতে গণ-আন্দোলনে রূপ নেবে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সালেহউদ্দিন সিফাতের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হকসহ দলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টি থেকে রোববার সকাল ৮টা) আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম বিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা বিভাগে ৩, সিলেট বিভাগে ২, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩১৯ জন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এই নিয়ে চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে ১ হাজার ১৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক