তরুণদের স্কুল ছাড়ার হার ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ
কাতালোনিয়ায় স্কুল ফাঁকি রোধে অভিন্ন তথ্যভান্ডার করার দাবি
কাতালোনিয়ায় কত শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে অনুপস্থিত থাকে এবং এই পরিস্থিতি সময়ের সঙ্গে কীভাবে বদলাচ্ছে, তার নির্ভরযোগ্য সামগ্রিক তথ্য নেই। স্কুলে অনুপস্থিতি বা ফাঁকি (absentisme escolar) মোকাবিলায় তাই পুরো অঞ্চলের জন্য একটি অভিন্ন তথ্যভান্ডার তৈরির দাবি জানিয়েছে শিক্ষা বিষয়ক সংগঠন ইকুইতাত (Equitat.org)।
সংগঠনটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন এলাকার কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও সেগুলো একই পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হয় না। ফলে কোথায় স্কুলে অনুপস্থিতির হার বেশি, কোন শিক্ষার্থীরা বেশি ঝুঁকিতে এবং শিক্ষাজীবনের কোন পর্যায়ে সমস্যা শুরু হচ্ছে- তা স্পষ্টভাবে জানা কঠিন।
সাম্প্রতিক কিছু গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাধ্যতামূলক মাধ্যমিক শিক্ষার (ESO) শিক্ষার্থীদের ৫ দশমিক ৩ শতাংশ মোট ক্লাসের ১০ শতাংশের বেশি সময় অনুমোদনহীনভাবে অনুপস্থিত থাকে। মাঝারি স্তরের কারিগরি শিক্ষায় এই হার বেড়ে ১৫ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়ায়। ছেলেদের মধ্যে এবং আর্থিক ও সামাজিকভাবে সংকটপূর্ণ পরিবারের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলে অনুপস্থিতির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।
ইকুইতাতের গবেষণা পরিচালক এলেনা সিন্তেস বলেন, নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতি অনেক সময় শিক্ষার্থীর সঙ্গে স্কুলের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যাওয়ার প্রথম সংকেত। শুরুতে কয়েক দিন ক্লাস মিস করলেও পরে তা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এতে পড়াশোনায় ঘাটতি তৈরি হয়ে শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থী স্কুল ছেড়ে দেওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
কাতালোনিয়ায় বর্তমানে তরুণদের স্কুল ছেড়ে দেওয়ার হার ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। চতুর্থ ESO শেষে বাধ্যতামূলক শিক্ষার পরবর্তী স্তরে না যাওয়ার হার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৩০ শতাংশ।
তবে কিছু পৌরসভা ইতোমধ্যে নিজস্ব উদ্যোগ নিয়েছে। বার্সেলোনা প্রদেশের ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ পৌরসভায় স্কুলে অনুপস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা রয়েছে। ৫০ হাজারের বেশি জনসংখ্যার পৌরসভাগুলোর মধ্যে এই হার ৫৬ দশমিক ৩ শতাংশ।
বাদিয়া দেল ভায়েস (Badia del Vallès), কাস্তেলদেফেলস (Castelldefels) ও জিরোনা (Girona)-তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পৌরসভা, সমাজসেবা, পুলিশ ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ইকুইতাতের দাবি, এসব স্থানীয় উদ্যোগকে পুরো কাতালোনিয়ায় কার্যকর করতে হলে একটি অভিন্ন তথ্যভান্ডার এবং একই ধরনের সূচক চালু করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি শুরু হওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্কুল ছেড়ে দেওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে।










