ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে লোকাল লেনের সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রবেশ ও পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হচ্ছেন শিশু, নারী, বৃদ্ধসহ অসংখ্য পথচারী। রাজধানীর আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর, সাভারসহ মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত ও নির্বিঘ্ন যোগাযোগ এবং যানজট নিরসনের লক্ষ্যে মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করা হয়। তবে পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অনেক এলাকায় এই মহাসড়কই এখন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের পাশে থাকা লোকাল লেন ব্যবহার না করে অনেক লোকাল যাত্রীবাহী বাস সরাসরি হাইওয়ে লেন দিয়ে চলাচল করছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট বাসস্টপ বা নিরাপদ স্থানে যাত্রী না নামিয়ে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে বাস থেকে নামার পর গন্তব্যে যেতে যাত্রীদের বাধ্য হয়ে ব্যস্ত মহাসড়ক পার হতে হচ্ছে।
বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুতগতির যানবাহনের মধ্য দিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বাসগুলো হাইওয়েতে এসে যাত্রী নামিয়ে দেয়। কিন্তু রাস্তার ওপারে যাওয়ার জন্য কোনো নিরাপদ ব্যবস্থা নেই। ছোট বাচ্চা ও বয়স্ক মানুষদেরও ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়।”
এলাকাবাসীর দাবি, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। লোকাল যাত্রীবাহী বাসগুলোকে নির্ধারিত লোকাল লেন ব্যবহার ও নির্দিষ্ট স্টপেজে যাত্রী ওঠানামার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।পাশাপাশি যেসব স্থানে যাত্রী পারাপারের চাপ বেশি, সেখানে ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস বা নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত ও নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু যাত্রী ওঠানামা ও পথচারী পারাপারের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকলে উন্নত সড়কও মানুষের জন্য নিরাপত্তাঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজরদারি, বাসের নির্ধারিত লেন ও স্টপেজ নিশ্চিত করা এবং পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।