হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার পলাশ, অনিশ্চিত অপু বিশ্বাসের ‘শিকার’ সিনেমা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় চিত্রনায়ক মরতুজা পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৮ আগস্ট নেপাল থেকে দেশে ফেরার পর ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার এজাহারনামীয় আসামি পলাশ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
জানা গেছে, নেপালে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস অভিনীত ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন মরতুজা পলাশ। গত আগস্টে শুরু হওয়া সিনেমাটির ২৫ দিনের বেশি শুটিং শেষে আকস্মিক বন্যার কারণে ২৮ আগস্ট দেশে ফেরে সিনেমাটির পুরো দল। সেদিনই বিমানবন্দর থেকে পলাশকে গ্রেপ্তার করা হলেও এত দিন তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসেনি।
মামলা-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর পলাশকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। রিমান্ড শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট ঘটনা ও মামলার অন্য আসামিদের বিষয়ে পলাশের কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে মামলা-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে প্রধান নায়ক মরতুজা পলাশ কারাগারে থাকায় অনিশ্চয়তায় পড়েছে তাঁর অভিনীত ‘শিকার’ সিনেমার বাকি কাজ। নেপালে ছবিটির বেশির ভাগ দৃশ্যের শুটিং ইতোমধ্যে শেষ হলেও এখনো কয়েকটি দৃশ্য ও গানের শুটিং বাকি রয়েছে।
নির্মাতা কামরুজ্জামান রোমান আগামী অক্টোবরে বাকি অংশের দৃশ্যধারণের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু নায়ক কারাগারে থাকায় এখনো শুটিংয়ের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে পরিচালক কামরুজ্জামান রোমান গণমাধ্যমকে বলেন, “নেপালে ‘শিকার’– এর বেশির ভাগ অংশের শুটিং শেষ হয়েছে। অক্টোবরে বাকি কাজ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নায়ক কারাগারে থাকায় এখনো চূড়ান্ত শিডিউল করা যাচ্ছে না। মরতুজা পলাশ আইনিভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করছেন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আশা করছে, তিনি শিগগিরই মুক্তি পাবেন। তা না হলে অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই।”
উল্লেখ্য, সীমান্তবর্তী এলাকার গল্প নিয়ে থ্রিলার ঘরানার সিনেমা ‘শিকার’ নির্মিত হচ্ছে। আবদুল্লাহ জহির বাবুর চিত্রনাট্যে ছবিটিতে মরতুজা পলাশ ও অপু বিশ্বাসের পাশাপাশি অভিনয় করছেন মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, সুমন আনোয়ার এবং পশ্চিমবঙ্গের খরাজ মুখোপাধ্যায়, রজতাভ দত্ত ও শ্যাম ভট্টাচার্য।













