রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন ৯৮ বার পিছিয়ে, নতুন তারিখ ১৯ অক্টোবর
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা আবারও বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে ৯৮ বারের মতো পিছিয়েছে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ। নতুন করে আগামী ১৯ অক্টোবর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত তারিখ ছিল। তবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আগামী ১৯ অক্টোবর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রোকনুজ্জামান।
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সুইফট কোড ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। পরে এসব অর্থের একটি বড় অংশ ফিলিপাইনে স্থানান্তর করা হয়। দেশের ভেতরের একটি চক্রের সহযোগিতায় অর্থ পাচার হয়ে থাকতে পারে বলে সে সময় ধারণা করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় ওই বছরের ১৫ মার্চ রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের তৎকালীন যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে করা ওই মামলায় শুরুতে কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি আসামি করা হয়নি। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।
তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিতে পারেনি সংস্থাটি। বিভিন্ন সময়ে আদালতের কাছে সময় চাওয়ার পর এ পর্যন্ত ৯৮ বার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়েছে।
চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের স্থানীয় মুদ্রা পেসোতে রূপান্তর করে দেশটির তিনটি ক্যাসিনোতে নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে ফিলিপাইন সরকার বাংলাদেশকে ফেরত দেয়। তবে বাকি প্রায় ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলারের হদিস এখনো মেলেনি।
রিজার্ভ চুরির তিন বছর পর, ২০১৯ সালে চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারের দাবিতে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। মামলায় রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি)সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরে মামলাটি খারিজের আবেদন করে আরসিবিসি।
২০২২ সালের এপ্রিলে নিউইয়র্কের আদালত বাংলাদেশ ব্যাংকের করা মামলাটি খারিজ করে দেন। আদালতের রায়ে বলা হয়, মামলাটি বিচারের জন্য ওই আদালতের পর্যাপ্ত এখতিয়ার নেই।
এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নিউইয়র্কের এখতিয়ারভুক্ত আদালতে নতুন করে মামলা করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দেশের আদালতে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এখনো দাখিল হয়নি।













