শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আইনে কী বলে

সন্তানহীন দম্পতিরা কি শিশু দত্তক নিতে পারেন বাংলাদেশে?

ফিচার ডেস্ক ঢাকা, বাংলাদেশ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৭ পিএম
সন্তানহীন দম্পতিরা কি শিশু দত্তক নিতে পারেন বাংলাদেশে?

বাংলাদেশে শিশু দত্তক নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের বিভ্রান্তি রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইচ্ছা করলেই কোনো শিশুকে দত্তক নিয়ে নিজের সন্তান হিসেবে পরিচয় দেওয়া যায়। বাস্তবে বাংলাদেশের আইন ও ধর্মভিত্তিক ব্যক্তিগত আইনে বিষয়টি বেশ জটিল। বিশেষ করে মুসলিমদের ক্ষেত্রে প্রচলিত অর্থে দত্তক নেওয়ার আইনি সুযোগ নেই; আদালতের মাধ্যমে শিশুর অভিভাবকত্ব নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সন্তান না হওয়া দম্পতিদের কেউ কেউ পরিচিতজনের মাধ্যমে বা সরাসরি শিশুর জৈবিক বাবা-মায়ের সঙ্গে চুক্তি করে শিশুকে নিজেদের কাছে নিয়ে আসেন। কিন্তু স্ট্যাম্প পেপারে চুক্তি করে কোনো শিশুকে নিজের সন্তান হিসেবে নেওয়া আইনসম্মত পদ্ধতি নয়। শিশুর জৈবিক বাবা-মা ভবিষ্যতে কোনো দাবি করবেন না—এমন লিখিত চুক্তিও শিশুর ওপর তাদের আইনগত অধিকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করে না।

বাংলাদেশে মুসলিম আইনে দত্তক গ্রহণের ধারণা স্বীকৃত না থাকায় আদালতের মাধ্যমে মূলত শিশুর অভিভাবকত্ব নেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে আদালত শিশুটির নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ এবং সর্বোচ্চ কল্যাণকে গুরুত্ব দেয়। ১৮৯০ সালের গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস আইনের আওতায় এ ধরনের অভিভাবকত্বের আবেদন করা যায়। শিশুর বিষয়ে কোনো বিরোধ না থাকলে প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে। তবে বিরোধ বা আপিলের মতো বিষয় থাকলে মামলা দীর্ঘায়িত হতে পারে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

অভিভাবকত্ব পাওয়া আর সন্তান দত্তক নেওয়া এক বিষয় নয়। অভিভাবকত্বের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি শিশুটিকে নিজের জিম্মায় নিয়ে তার দেখাশোনা, শিক্ষা ও লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে পারেন। কিন্তু এতে শিশুটি আইনগতভাবে তার জৈবিক সন্তানের সমান হয়ে যায় না। বিশেষ করে মুসলিম ও খ্রিস্টান আইনে পালক সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তরাধিকারীও হয় না।

হিন্দু ধর্মে দত্তকের সুযোগ

হিন্দু ব্যক্তিগত আইনে দত্তক গ্রহণের বিধান রয়েছে। তবে বাংলাদেশে এ ক্ষেত্রেও কিছু নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা আছে। প্রচলিত আইনি কাঠামো অনুযায়ী বর্তমানে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে হিন্দু পুরুষের দত্তক নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নারীর ক্ষেত্রে নিয়ম আরও সীমিত—বিবাহিত নারীকে স্বামীর সম্মতি এবং বিধবা নারীকে স্বামীর জীবদ্দশায় দেওয়া অনুমতির বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হয়।

অন্যদিকে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রেও মুসলিমদের মতো শিশুর অভিভাবকত্ব নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, প্রচলিত অর্থে দত্তক গ্রহণের আলাদা বিধান নেই।

বাংলাদেশে দত্তক ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার পেছনে ধর্মীয় ও আইনি ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৮৯ সালের শিশু অধিকার সনদে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করলেও আন্তর্দেশীয় দত্তক সংক্রান্ত নির্দিষ্ট বিধানের ক্ষেত্রে পূর্ণ অনুমোদন দেয়নি। এর সঙ্গে মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে দত্তক গ্রহণের স্বীকৃতি না থাকার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে আইনজীবীরা মনে করেন।

১৯৭২ সালে যুদ্ধশিশু ও পরিত্যক্ত শিশুদের পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ওই ব্যবস্থার অধীনে শিশু দত্তকের সুযোগ ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে শিশু পাচার, অনিয়ম ও ধর্মান্তরের আশঙ্কাসহ বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসায় ১৯৮২ সালে আইনে পরিবর্তন আনা হয় এবং বিদেশিদের কাছে শিশু দত্তকের সুযোগ বন্ধ করা হয়।

তবে বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আদালতের অনুমতি নিয়ে তারা বাংলাদেশে কোনো শিশুর অভিভাবকত্ব পেতে পারেন এবং নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিশুকে বিদেশেও নিতে পারেন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পালক বা অভিভাবকত্ব পাওয়া শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় না। মুসলিম আইনে তাকে সম্পত্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে হেবা বা ওসিয়তের মতো আলাদা আইনি ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হয়। ওসিয়তের মাধ্যমে সাধারণভাবে মোট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে পরিস্থিতিভেদে আলাদা আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

ফলে বাংলাদেশে সন্তানহীন কোনো দম্পতি যদি একটি শিশুকে নিজের কাছে নিয়ে লালন-পালন করতে চান, তাহলে শুধু জৈবিক বাবা-মায়ের সঙ্গে চুক্তি করে বা স্ট্যাম্প পেপারে স্বাক্ষর করিয়ে শিশুকে নিয়ে আসা নিরাপদ আইনি পথ নয়। শিশুর ভবিষ্যৎ, পরিচয়, উত্তরাধিকার এবং অভিভাবকের অধিকার—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আদালতের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অভিভাবকত্ব নেওয়াই আইনসম্মত ও নিরাপদ পথ।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পিএম
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিক শোষণ ঠেকাতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা

অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে শোষণ ও অনিয়ম ঠেকাতে নতুন একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া ও নেপাল। এ ব্যবস্থায় শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপানো এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান এ তথ্য জানিয়েছেন। নেপালের যুব, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রামজি যাদবের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য হয়। আলোচনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ও উঠে আসে।

বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রামানান বলেন, মালয়েশিয়া ও নেপাল উভয় দেশই অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে এমন সব চর্চা বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেগুলো শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপায় কিংবা তাদের শোষণ ও প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শ্রমিক সুরক্ষার নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও শ্রমবাজারের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রামানানের ভাষায়, নীতিটি পরিষ্কার ব্যবস্থাকে অবশ্যই শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে হবে, নিয়োগকর্তাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে এবং একই সঙ্গে শোষণ ও নির্যাতনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি বলেন, ১৯৬০ সাল থেকে মালয়েশিয়া ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যথাযথ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় নেপাল সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।
রামানান বলেন, ওই দুর্যোগের পর এখনো ৫৫ জন মালয়েশীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বিষয়ে মাদানি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নজর রাখছে এবং তাদের ভাগ্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। নেপাল ও চীন মিলিয়ে এখনো ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক