শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শূন্য অভিবাসন ব্যয়’ উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়ন হবে?

মালয়েশিয়ার কলিং ভিসার নামে ফের শুরু ‘মানুষের বেচাকেনা’

আহমাদুল কবির মালয়েশিয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৮ পিএম
মালয়েশিয়ার কলিং ভিসার নামে ফের শুরু ‘মানুষের বেচাকেনা’

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর নতুন করে খুলেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের সম্ভাবনার দুয়ার। দুই দেশের সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন করে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও এরই মধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি চক্র। ‘কলিং ভিসা’, ‘কোটা’, ‘ভিসা রেডি’, ‘ডিমান্ড লেটার’ কিংবা ‘মালয়েশিয়ার কোম্পানির কাজ’ নানা আকর্ষণীয় শব্দে চলছে প্রচার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সম্ভাব্য কর্মীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা চাওয়ার অভিযোগও উঠছে।

দুই দেশের যৌথ ঘোষণায় স্পষ্ট করা হয়েছে নতুন কর্মী নিয়োগে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলা হলেও দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

মালয়েশিয়ার নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী দেশটির নিয়োগকর্তাকে বাংলাদেশে অনুমোদিত ২৬টি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্য থেকে পছন্দ করতে হবে। নিয়োগকর্তা এসব এজেন্সির মাধ্যমে সরাসরি কর্মী বাছাই করবে। ফলে একজন সম্ভাব্য কর্মীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তার প্রকৃত নিয়োগকর্তা কে, চাকরিটি কোন খাতে, বেতন কত, অনুমোদিত কোটা আছে কি না এবং বাংলাদেশে কোন বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি তাকে নিয়োগ দিচ্ছে?

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

কিন্তু বাস্তবে এসব মৌলিক তথ্যের বদলে সম্ভাব্য কর্মীদের কাছে ঘুরছে ‘ভিসা’, ‘কোটা’ ও ‘ডিমান্ড’ কেনাবেচার খবর। ফলে নির্বাচিত না হয়েও আগাম টাকা দিয়ে বসে থাকা কর্মীরা শেষ পর্যন্ত কী অবস্থায় পড়বেন, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের ভিসাকে বাংলাদেশি মধ্যস্বত্বভোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ‘কলিং ভিসা’ নামে পরিচিত করে তুলেছেন। এর সঙ্গে তৈরি হয়েছে আরও কিছু অমানবিক শব্দের প্রচলন ‘কয়টা মাথা’, ‘কয়টা বডি’, ‘কয়টা যাত্রী’ কিংবা ‘কয়টা পাসপোর্ট’।

শ্রম অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন কর্মী কোনো পণ্য নন যে তাকে ‘বডি’ বা ‘পাসপোর্ট’ হিসেবে গণনা করা হবে। কিন্তু বাস্তবে কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় মানুষের পরিবর্তে সংখ্যা, পাসপোর্ট ও টাকার হিসাবই যেন বড় হয়ে উঠেছে। এর ফলে শুধু কর্মীর অধিকারই ক্ষুণ্ন হচ্ছে না, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

বিদেশে কর্মসংস্থানে প্রতারণা ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় ঠেকাতে বর্তমান সরকার যে ২০টি লক্ষ্য সামনে রেখেছে, তার অন্যতম হলো বিনা মূল্যে বা স্বল্প ব্যয়ে কর্মী পাঠানো। মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রেও ‘শূন্য অভিবাসন ব্যয়’ নীতির সঙ্গে বাংলাদেশের এ উদ্যোগের মিল রয়েছে।

ইতোমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলের মাধ্যমে ১০ হাজার কর্মীকে কোনো ধরনের অর্থ ব্যয় ছাড়াই মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে সরকারি ব্যবস্থায় ১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে গেলেও বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রেও কি একই নীতি কার্যকর হবে?

এটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ অতীতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগে মালয়েশিয়াকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।

বিগত নিয়োগপ্রক্রিয়া পর্যালোচনায় দেখা যায়, মালয়েশিয়া থেকে চাহিদাপত্র ও ভিসা সংগ্রহের পর বাংলাদেশে কর্মী প্রক্রিয়াকরণে সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। আন্দোলন, মামলা এবং দুই দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিযোগের পর ‘সিন্ডিকেট’ শব্দটি শ্রমবাজারের সঙ্গে নেতিবাচকভাবে জড়িয়ে যায়।

এরপর বাংলাদেশ সরকার ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করে। নিম্ন ও উচ্চ আদালতে একাধিক মামলাও চলমান। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ভিসা ও পাসপোর্ট কেনাবেচার পুরোনো প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো বৈধভাবে কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র ও ক্ষমতা পেলেও উপযুক্ত কর্মী সংগ্রহের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মধ্যস্বত্বভোগীরা।

বিএমইটির সূত্র অনুযায়ী, লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সির হয়ে অনেক ক্ষেত্রে দালালরাই কর্মী সংগ্রহ থেকে শুরু করে বিমানবন্দরে তুলে দেওয়া পর্যন্ত কাজ করে। ফলে বিদেশে থাকা কর্মীদের রিক্রুটিং এজেন্সির নাম জানতে চাইলে তারা অনেক সময় এজেন্সির বদলে দালালের নাম বলেন।

অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে এমন ঘটনাও পাওয়া গেছে, যেখানে অভিযোগকারী কর্মী সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির নাম বলতে পারেননি; তিনি শুধু যে দালালের মাধ্যমে গিয়েছেন তার নাম বলতে পেরেছেন।

একাধিক প্রতিষ্ঠিত রিক্রুটিং এজেন্সির কর্মকর্তার ভাষ্য, গ্রামে থাকা অনেক যুবক শুরুতেই দালালের কাছে পাসপোর্ট দিয়ে দেন। টাকা-পয়সার দরদামও সেখানেই ঠিক হয়। পাসপোর্ট দালালের হাতে থাকায় বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি চাইলেও অনেক সময় সরাসরি কর্মী সংগ্রহ করতে পারে না।

কুয়ালালামপুরে কর্মরত মোহাম্মদ তোফায়েলের অভিজ্ঞতাও একই চিত্র তুলে ধরে। তার ভাষায়, বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনেকেই কিছু জানেন না। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দালালের ওপরই নির্ভর করতে হয়। দালাল পাসপোর্ট নিয়ে সব কাজ করে দেওয়ায় কর্মীরাও নিশ্চিন্ত থাকেন যদিও এর জন্য তাদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়।

সরকারি ডেমো অফিস, বিএমইটি বা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে অনেক কর্মী জানান, এসব সরকারি ব্যবস্থার বিষয়ে তারা জানেন না। তাদের ধারণা, সরকারি অফিসে গেলে চাকরি পাওয়া যাবে না; চাকরি এনে দিতে পারে শুধু দালাল।

অভিবাসন নিয়ে কাজ করা সংস্থা ওকাপের গবেষণায় দেখা গেছে, তুলনামূলক কম শিক্ষিত এবং বিদেশে কাজের জন্য প্রস্তুতিহীন ব্যক্তিরাই দালালের মাধ্যমে বেশি অর্থ ব্যয় করেন এবং প্রতারণার শিকার হন। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত সচেতন ও দক্ষ কর্মীরা তুলনামূলকভাবে কম খরচে বৈধ প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন।

রামরুর পর্যবেক্ষণেও বলা হয়েছে, যারা অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কম জানেন এবং জানার আগ্রহও কম, তারা দালালের ওপর বেশি নির্ভর করেন। তাদের বড় অংশই চান দালাল যেন ‘সবকিছু করে দেয়’। ফলে তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন, অথচ সুরক্ষার দিক থেকে সবচেয়ে দুর্বল।

দালালদের জবাবদিহির আওতায় আনতে সরকার সাব-এজেন্ট স্বীকৃতির বিধান করলেও বাস্তবে কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি এখন পর্যন্ত সাব-এজেন্ট নিয়োগ করেনি বলে সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ।

অন্যদিকে লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটিং এজেন্সি’ ব্যবস্থার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার নির্ধারিত ২৬টি রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে ৪২৩টি অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটিং এজেন্সিকে যুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ব্যবস্থাটি কার্যকর হলে অনিয়ন্ত্রিত মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমানো সম্ভব।

মালয়েশিয়ার প্রকাশিত নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য প্রথমে নিয়োগকর্তাকে সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। এরপর বিদেশি কর্মীর কোটা নির্ধারণ এবং বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি নির্দিষ্ট করা হবে।

পরবর্তী ধাপে বাংলাদেশে কর্মী বাছাই ও মেডিকেল পরীক্ষা হবে। নিয়োগকর্তার কাছে কর্মী পাঠানোর আগে তাকে নিজ দেশেই অবস্থান করতে হবে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন অনুমোদনের পর বাংলাদেশে মালয়েশিয়ান দূতাবাস থেকে প্রবেশ ভিসা এবং বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স নিয়ে কর্মী মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করবেন।

নতুন ব্যবস্থায় কৃত্রিম বাছাই বা অর্থের বিনিময়ে কর্মীকে কোনো নিয়োগকর্তার কাছে চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ না রাখার কথা বলা হয়েছে। বরং প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে নিয়োগকর্তা সরাসরি কর্মীর সাক্ষাৎকার নিয়ে তাকে নির্বাচন করবেন। তাহলে নিয়োগকর্তার সাক্ষাৎকারের আগেই কোনো দালালকে টাকা দিয়ে ‘ভিসা নিশ্চিত’ করার যৌক্তিকতা কোথায়?

এ কারণেই প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্ভাব্য কর্মীদের বারবার সতর্ক করছে চূড়ান্ত নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, পাসপোর্ট হস্তান্তর কিংবা অপ্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষায় না যেতে।

কারণ, নিয়োগকর্তা শেষ পর্যন্ত কর্মী নির্বাচন না করলে আগাম দেওয়া টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা কোথায় এ প্রশ্নের উত্তর এখনো অস্পষ্ট।

মালয়েশিয়ার নতুন কর্মী নিয়োগপ্রক্রিয়া দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের বিতর্ক, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি হলে শুধু কর্মীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না; দুই দেশের শ্রমবাজার সহযোগিতাও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার সবচেয়ে জরুরি হলো প্রকৃত নিয়োগকর্তা, অনুমোদিত কোটা, বেতন, কর্মক্ষেত্র, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং মোট অভিবাসন ব্যয়ের তথ্য কর্মীর কাছে স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়া। একই সঙ্গে অননুমোদিত দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।

বিদেশে নিরাপদ কর্মসংস্থান শেষ পর্যন্ত নির্ভর করে প্রকৃত নিয়োগকর্তা ও বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়ার ওপর। এ বিষয়ে তথ্য যাচাই করতে নিকটস্থ ডেমো অফিস বা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের (টিটিসি) সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শও দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এখন দেখার বিষয় সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নতুন অধ্যায় সত্যিই কি হবে মধ্যস্বত্বভোগীমুক্ত, স্বচ্ছ ও স্বল্প ব্যয়ের, নাকি পুরোনো কায়দায় আবারও শুরু হবে ‘কলিং ভিসা’ নামের আড়ালে মানুষের স্বপ্নের বেচাকেনা।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫১ পিএম
অক্টোবরে শুরু হবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে প্রথম দফার আলোচনা আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশের বাজারসুবিধা, ব্যবসার সুযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। একই দিন মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের (এমআইটিআই) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদও ঢাকায় অক্টোবরের শেষ দিকে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি হবেন এমবিএফটিএ আলোচনায় মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক।

ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রথম দফার আলোচনায় দুই দেশ নিজেদের প্রয়োজন চিহ্নিত করার পাশাপাশি একে অপরকে কী ধরনের বাণিজ্যসুবিধা দিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করবে। বাজারে প্রবেশাধিকার ও ব্যবসার নতুন সুযোগসহ পারস্পরিক স্বার্থের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসবে। পরবর্তী বৈঠকগুলো চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত চলবে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য ২০২৭ সালের ডিসেম্বরকে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অক্টোবরে ঢাকায় প্রথম দফার আলোচনা চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

গত জুনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হন। ওই সফরের যৌথ বিবৃতিতে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি ব্যাপক, ভবিষ্যৎমুখী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক এফটিএ সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করা হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য থাকলেও পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই। ফলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা এফটিএর আওতায় সম্ভাব্য অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা, শুল্কছাড় ও বাণিজ্য সহজীকরণের অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছেন না।
এফটিএ হলে দুই দেশের পণ্য ও সেবার বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে।

মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজ করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে মালয়েশিয়া আগ্রহী।
এফটিএ আলোচনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি উপহাইকমিশনার শানারা মনিকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩০৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে প্রায় ২ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, নিট ও ওভেন পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য ও পানীয়, শাকসবজি এবং মসলা। অন্যদিকে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসে খনিজ জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও চর্বি, লোহা ও ইস্পাত, প্লাস্টিক, যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য।

এ অবস্থায় এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে চুক্তিটি ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এফটিএর গুরুত্ব আরও বাড়ছে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে। এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন বাজারে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে পণ্য রপ্তানির সুবিধা পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব অগ্রাধিকারমূলক সুবিধার কিছু পরিবর্তিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব বাড়বে।

এফটিএর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানোর সুযোগ তৈরি হলে দেশটির বাজারে পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা জ্বালানি, যন্ত্রপাতি, লোহা ও ইস্পাতসহ শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও পণ্যের বাণিজ্য কাঠামোও আরও সুসংগঠিত করা সম্ভব হবে।

এদিকে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্যকে মালয়েশিয়ার হালাল কর্তৃপক্ষ জাকিম হালাল সনদ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে হালাল সনদ প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

তবে শুধু স্বীকৃতি পেলেই হবে না উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে আরও কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কারিগরি দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (মিহাস) পরিদর্শনকালে তিনি বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রাণ, এপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন এগ্রো লিমিটেড, তালুকদার এগ্রো ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ, নোরিশ ফুডস লিমিটেড ও বায়োফার্মা লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন মিহাসের আয়োজক মালয়েশিয়ার সরকারি বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ম্যাট্রেডের ডেপুটি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।

দুই দেশের মধ্যে এফটিএ আলোচনা শুরু হলে বাজারসুবিধা, শুল্ক কাঠামো, পণ্য ও সেবার বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সহজীকরণের মতো বিষয়গুলো ধাপে ধাপে আলোচনায় আসবে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে অক্টোবরের শেষের ঢাকার বৈঠক তাই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় ২২তম মিহাস ফেয়ারে বাংলাদেশের হালাল হাট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০২ পিএম
মালয়েশিয়ায় ২২তম মিহাস ফেয়ারে বাংলাদেশের হালাল হাট

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হালাল বাণিজ্য প্রদর্শনী ‘মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস’ (মিহাস)-এর ২২তম আসর বসেছে মালয়েশিয়ায়। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯০টি দেশের প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে এবারের আয়োজনে। প্রায় ২ হাজার ৪০০ বুথে হালাল খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, লজিস্টিকস, ইসলামিক ফাইন্যান্স, প্রযুক্তি ও পর্যটনসহ ১৪টি খাতের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করা হচ্ছে। চার দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থীর সমাগমের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।

২৩ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর কুয়ালালামপুরের মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে (মাইটেক) অনুষ্ঠিত হচ্ছে মিহাস ২০২৬। প্রদর্শনী ও ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিং কর্মসূচির মাধ্যমে এবার ৫ বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা প্রায় ১২৩ কোটি মার্কিন ডলারের ব্যবসা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০০৪ সালে যাত্রা শুরুর পর মিহাস শুধু হালাল খাদ্যপণ্যের প্রদর্শনীতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সময়ের সঙ্গে এটি হালাল অর্থনীতির বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতা, আমদানিকারক, পরিবেশক ও ব্যবসায়ীদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজারে প্রবেশের পথও তৈরি হচ্ছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এবারের মিহাসে অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (ম্যাট্রেড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতো ইন্দেরা আবু বকর ইউসুফ জানান, নিবন্ধিত প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে একটি নির্দিষ্ট এআই এজেন্ট ও ব্যক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

 

এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসায়িক অংশীদার খোঁজা, প্রদর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসায়িক ম্যাচমেকিং, বহুভাষিক সহায়তা, প্রদর্শনী কেন্দ্রের বিভিন্ন স্টল খুঁজে পাওয়া, বৈঠক ব্যবস্থাপনা এবং প্রদর্শনী-পরবর্তী যোগাযোগের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

মিহাসের আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সংযোগ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪৫০ জন আন্তর্জাতিক ক্রেতার সঙ্গে ৬০০ মালয়েশিয়ান রপ্তানিকারকের প্রায় ৪ হাজার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জন প্রিমিয়াম ক্রেতাও রয়েছেন।

বাংলাদেশি ৬ প্রতিষ্ঠা :
এবারের মিহাসে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর উদ্যোগে এবং কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ব্যবস্থাপনায় ছয়টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এগুলো হলো, অ্যাপেক্স কনভেনিয়েন্স ফুডস লিমিটেড, ঘরের বাজার, প্যারাগন অ্যাগ্রো লিমিটেড, তালুকদার অ্যাগ্রো ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, নরিশ ফুডস লিমিটেড এবং বায়োফার্মা লিমিটেড। এর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণও রয়েছে।

প্রাণ আটটি স্টলে স্ন্যাকস, জুস ও ড্রিংকস, কুলিনারি পণ্য, বিস্কুট, বেকারি ও কনফেকশনারিসহ বিভিন্ন হালাল পণ্য প্রদর্শন করছে। পাশাপাশি ফ্লেভারড নুডলস, চকলেট, ওয়েফারসহ নানা ধরনের ভোক্তাপণ্যও তুলে ধরা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের তৈরি হালাল খাদ্যপণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন বাজার তৈরির সুযোগ কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো।

এফটিএ নিয়ে আশাবা :
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ হাইকমিশনার মানজুরুল করিম খান চৌধুরীর নেতৃত্বে হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করে। হাইকমিশনারের সঙ্গে ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জয় শংকর।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ শুধু জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রেই নয়, বিনিয়োগের জন্যও সম্ভাবনাময়।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কোনো বাণিজ্য চুক্তি না থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশের সরকার পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এফটিএ হলে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন হাইকমিশনার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের এভিয়েশন, মেডিকেল, তথ্যপ্রযুক্তি ও অ্যাগ্রো-প্রসেসিংসহ বিভিন্ন খাতে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হালাল পণ্যের বড় বাজার রয়েছে উল্লেখ করে দেশটির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে কার্যকর হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্যের বাজারও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। মুসলিম জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি খাদ্যের নিরাপত্তা, মান, পরিচ্ছন্নতা ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ার কারণে অমুসলিম ভোক্তাদের মধ্যেও হালাল পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। ফলে হালাল অর্থনীতি এখন খাদ্যপণ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, লজিস্টিকস, পর্যটন, প্রযুক্তি ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত হয়েছে।

এ বাস্তবতায় মিহাস শুধু পণ্য প্রদর্শনীর আয়োজন নয়; বরং আন্তর্জাতিক ক্রেতা খোঁজা, নতুন বাজারে প্রবেশ, ব্যবসায়িক অংশীদার তৈরি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণও দেশীয় হালাল পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক