নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা-ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯১৯, নিখোঁজ প্রায় ৪৮০০
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯১৯ জনে পৌঁছেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৭৯৩ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৮৫৩ জন বিদেশি নাগরিক। দুর্যোগ শুরুর ছয় দিন পর সোমবার কর্তৃপক্ষ সর্বশেষ এ তথ্য জানিয়েছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৯০৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২৪৭ জন। তাদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৫৯২।
নিখোঁজদের সন্ধানে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি দেশটির কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।
নেপালের নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ২৫ জন পুলিশ সদস্য, ৪৫ জন সেনাসদস্য, ১৩ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য, ১৪ জন শুল্ক দপ্তরের কর্মী এবং তিনজন অভিবাসন দপ্তরের কর্মী। এ ছাড়া বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ কর্মীরও এখন পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের তালিকায় ১২৭ জন নেপালি যাত্রীও রয়েছেন।
অন্যদিকে, চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিতে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ওই এলাকায় এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক।
নেপাল ও চীনের সর্বশেষ তথ্য একত্র করলে এই দুর্যোগে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯১৯ জনে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৭৯৩ জন, যাদের মধ্যে ৮৫৩ জন বিদেশি।
উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে চীন ২ হাজার ১০০ জনের বেশি কর্মী মোতায়েন করেছে। উদ্ধারকারী দলগুলোর সঙ্গে শত শত যানবাহন এবং হাজার হাজার উদ্ধার সরঞ্জামও পাঠানো হয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট এই ভয়াবহ দুর্যোগের সূত্রপাত। নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ে। এতে বরফ ও পাথরের বিশাল স্রোত নেমে আসে। পরে সেই স্রোত প্রবল পানির ধারা ও কাদার সঙ্গে মিশে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি করে।
দুর্যোগে নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, কাভ্রে এবং কাঠমান্ডু উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই ঘটনায় চীনের গিরং সীমান্ত এলাকাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি










