শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মালয়েশিয়া মেরদেকার সুরে উৎসবে পতাকা-পোশাক-গানে দেশপ্রেম

আহমাদুল কবির মালয়েশিয়া প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১২ পিএম
মালয়েশিয়া মেরদেকার সুরে উৎসবে পতাকা-পোশাক-গানে দেশপ্রেম

লাল-সাদা-নীল রঙে সেজেছে পুরো মালয়েশিয়া। বাড়ির ছাদ, দোকান, অফিস, সড়ক কিংবা আবাসিক এলাকা—সবখানেই উড়ছে জাতীয় পতাকা ‘জালুর জেমিলাং’। কোথাও পতাকার আদলে বর্ণিল সাজসজ্জা, কোথাও দেশাত্মবোধক গানের সুর। শিশু থেকে প্রবীণ সব বয়সী মানুষই ব্যস্ত ৩১ আগস্টের জাতীয় দিবস ‘মেরদেকা’ উদযাপনের প্রস্তুতিতে।

মেরদেকার আর মাত্র একদিন বাকি। এরই মধ্যে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসবের আবহ। পুরোনো দেশাত্মবোধক গানের সুরে জেগে উঠছে স্বাধীনতার স্মৃতি, পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কণ্ঠে যুক্ত হচ্ছে নতুন গান। পতাকা, গান, পোশাক ও নানা ব্যতিক্রমী উদ্যোগে যেন একটাই বার্তা দেশপ্রেম কোনো নির্দিষ্ট দিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান এক অনুভূতি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

দশকের পর দশক ধরে মালয়েশীয়দের হৃদয়ে জায়গা করে আছে ‘৩১ আগস্ট’, ‘ঐতিহ্য’, ‘আনুগত্য’, ‘স্বাধীনতার নৌযাত্রা’, ‘আমি মালয়েশিয়ার সন্তান’ ও ‘জালুর জেমিলাং’-এর মতো দেশাত্মবোধক গান। আগস্ট এলেই রেডিও, টেলিভিশন, স্কুল ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলে আবারও বেজে ওঠে এসব গান। সহজ সুর ও আবেগঘন কথার কারণে গানগুলো এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

বিশিষ্ট মালয়েশীয় সুরকার দাতুক মোখজানি ইসমাইলের মতে, ১৯৫০-এর দশক থেকে দেশটিতে শত শত দেশাত্মবোধক গান তৈরি হয়েছে। জাতীয় দিবসের প্রতিপাদ্য সংগীত চালুর প্রচলন শুরু হয় ১৯৭০ সালে। এরপর বিভিন্ন সময়ে অসংখ্য দেশাত্মবোধক গান তৈরি হয়েছে। কোনো কোনো বছর জাতীয় দিবস ও মালয়েশিয়া দিবসের জন্য একই গানও ব্যবহার করা হয়েছে।

এবারের জাতীয় দিবসের প্রতিপাদ্য সংগীত ‘আমি অঙ্গীকার করছি’ লিখেছেন ও গেয়েছেন জনপ্রিয় শিল্পী ফাইজাল তাহির। নতুন এ গানও এরই মধ্যে শ্রোতাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

মোখজানি বলেন, পুরোনো দেশাত্মবোধক গানগুলোর জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে স্মৃতিকাতরতা, নিয়মিত প্রচার এবং সহজে মনে থাকার মতো সুর ও কথা। কোনো গানের প্রথম কয়েকটি সুর শুনলেই মানুষের মধ্যে আবেগ তৈরি হয় এবং জেগে ওঠে দেশপ্রেমের চেতনা।

তবে নতুন গান দ্রুত জনপ্রিয় হওয়া কঠিন বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষ্য, ভালো গান দ্রুত মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও দীর্ঘদিন ধরে মানুষের স্মৃতিতে জায়গা করে নিতে নিয়মিত প্রচার প্রয়োজন। জাতীয় দিবসের সময় নতুন গান ব্যাপকভাবে প্রচার পেলেও উৎসব শেষ হওয়ার পর অনেক গানই রেডিও-টেলিভিশন থেকে হারিয়ে যায়। পরের বছর নতুন গান আসায় পুরোনোগুলোর প্রচার আরও কমে যায়।

তরুণ শিল্পী ও সুরকারদের দেশাত্মবোধক গান তৈরির আগ্রহকে অবশ্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন মোখজানি। এরনি জাকরি, খাই বাহার, আইনা আবদুল, স্ট্যাসি, ফাইজাল তাহির ও দাতুক সেরি সিতি নূরহালিজার মতো জনপ্রিয় শিল্পীদের দেশাত্মবোধক গানে সম্পৃক্ততাকেও তিনি আশাব্যঞ্জক বলে মনে করেন।

আতুক মেরদেকা’র দেশপ্রেম

জাতীয় পতাকা এখন অনেকের কাছেই শুধু একটি প্রতীক নয়; দেশপ্রেম প্রকাশের মাধ্যম। এর ব্যতিক্রমী উদাহরণ ৬৬ বছর বয়সী সাহরান হুসিন। মেরদেকা মাসজুড়ে জাতীয় পতাকার নকশাখচিত পোশাক পরে ফল বিক্রি করছেন তিনি। মাথায় থাকে একই নকশার বিশেষ টুপি। ব্যতিক্রমী পোশাকের কারণে শিশুদের কাছে তিনি পরিচিত হয়ে উঠেছেন ‘আতুক মেরদেকা’ অর্থাৎ ‘মেরদেকার দাদু’ নামে।

কুয়ালা পিলাহ কৃষক বাজারে এক অনুষ্ঠানে সাহরান বলেন, কাউকে দেখানোর জন্য নয়, মানুষের মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনা জাগিয়ে তুলতেই তিনি এভাবে পোশাক পরেন।

তার ভাষায়, ‘আমার বিশ্বাস, প্রত্যেকের হৃদয়ে মেরদেকার চেতনা থাকা উচিত। শিশুরা আমাকে দেখলে “আতুক মেরদেকা” বলে ডাকে। আমার পোশাকের প্রশংসা করে। এতে আমার খুব ভালো লাগে।

শিশুদেরও জাতীয় পতাকার নকশাখচিত পোশাক পরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরেরবার তোমরাও এ ধরনের পোশাক পরবে।’ সাহরানের এ উদ্যোগে সহযোগিতা করেছেন তামপিনের এক বন্ধু। জাতীয় পতাকা কেটে সেলাই করে তিনিই তৈরি করে দিয়েছেন বিশেষ টুপিটি।

সাজসজ্জায় সম্প্রীতির বার্তা

তেরেংগানুর ফেলদা বেলারায়ও জাতীয় মাস ঘিরে চলছে ব্যতিক্রমী আয়োজন। ‘উজ্জ্বলতায় মেরদেকার উৎসব’ প্রতিপাদ্যে ১০টি আবাসিক ব্লক সাজিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছেন এক হাজারের বেশি বাসিন্দা।

প্রায় ১০ বছর ধরে জাতীয় দিবস উপলক্ষে এ আয়োজন করে আসছে স্থানীয় সম্প্রদায়। প্রতিটি ব্লকে রয়েছে প্রায় ২৩টি বাড়ি। সাজসজ্জার জন্য প্রতিটি ব্লককে দেওয়া হয়েছে ৪০০ রিঙ্গিত করে। এর পাশাপাশি অনেক বাসিন্দা নিজেদের অর্থ ব্যয় করছেন।

আয়োজক মোহাম্মদ নূর ইসমাইল বলেন, শিশু, তরুণ ও প্রবীণ সব বয়সী মানুষ একসঙ্গে এ কাজে অংশ নিচ্ছেন। পুরোনো টায়ার, প্লাস্টিকের বোতলসহ পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে আকর্ষণীয় সাজসজ্জা। ফলে জাতীয় দিবস উদযাপনের পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও ছড়িয়ে পড়ছে।

তার মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনা তৈরি করা। এখন প্রায় প্রতিটি বাড়ি ও ভবনেই উড়ছে জাতীয় পতাকা।

সারা বছর দেশাত্মবোধক গান

বিশিষ্ট গীতিকার দাতুক হাসবাহ হাসান মনে করেন, দেশাত্মবোধক গানকে জনপ্রিয় করতে সারা বছর প্রচারের ব্যবস্থা করা দরকার। শুধু সরকারি গণমাধ্যমের ওপর এ দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না। বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের পাশাপাশি শপিং মল, হোটেল, বিমানবন্দর ও গণপরিবহণেও সারা বছর এসব গান বাজানো উচিত।

তার মতে, নিয়মিত শুনতে শুনতে একসময় দেশাত্মবোধক গান মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠবে। তরুণ প্রজন্মও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব গানের সঙ্গে গলা মেলাবে।

পতাকার রঙে, গানের সুরে, ঘর সাজানোর আনন্দে কিংবা ‘আতুক মেরদেকা’র ব্যতিক্রমী পোশাকে মালয়েশিয়ায় মেরদেকা এখন দেশপ্রেম প্রকাশের বহুমাত্রিক উৎসব। সাধারণ মানুষ, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের ছোট ছোট উদ্যোগে নতুন প্রজন্মের কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে স্বাধীনতার চেতনা।

১৯৫৭ সালের ৩১ আগস্ট ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে মালয়েশিয়া। সেই ঐতিহাসিক দিনটি দেশটিতে ‘মেরদেকা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। স্বাধীনতার ৬৯ বছর পূর্তির প্রাক্কালে এবারও পতাকা, গান আর মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মেরদেকার সুরে মুখরিত হয়ে উঠবে পুরো মালয়েশিয়া।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে কার্গো জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি খালাস আবার শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে শিগগিরই দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহেশখালীতে এলএনজি খালাসের কাজ পুনরায় চালু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহে এর প্রভাব দেখা যায়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা নাগাদ এলএনজি থেকে প্রায় ৭৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একই সময়ে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায় প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। সব মিলিয়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় প্রায় ২৩৪ কোটি ঘনফুট।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে হঠাৎ বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে আসা ‘প্যাসিফিক সাকসেস’ নামের একটি কার্গো জাহাজ বৃহস্পতিবার মহেশখালীতে পৌঁছালেও উত্তাল সাগরের কারণে সেটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ফলে একটি টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছিল। একপর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুটে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

চাহিদার তুলনায় এখনো ঘাটতি

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার সেই সরবরাহ কমে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়।

দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসে। মহেশখালীর সমুদ্র এলাকায় থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় পাইপলাইনে পাঠানো হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট গ্রুপের।

দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হলে কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো ব্যবস্থায় দ্রুত প্রভাব পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি টার্মিনালে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছে গেলেও সাগরের পরিস্থিতির কারণে সেটি থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে যে পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাওয়ার কথা, তার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার উন্নতি হলে আবার কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়তে থাকে।

এর আগে জুলাইয়ে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পরও দেশে বড় ধরনের গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছিল। প্রায় এক মাস পর আগস্টে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হয়। এরপর এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিও কিছুটা উন্নত হচ্ছিল।

এর মধ্যেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন করে এলএনজি খালাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে আবার চাপ তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে খালাস পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই পরিস্থিতি আপাতত কাটতে শুরু করেছে। তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম থাকায় গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে আমদানি ও এলএনজি খালাস নিয়মিতভাবে চালু থাকার ওপর।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, করলা, পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দামও ঊর্ধ্বমুখী।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও একই ধরনের বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

করলা এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে উঠেছে। ঝিঙা ও ধুন্দলের ক্ষেত্রেও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা পেপের দাম অবশ্য আগের মতোই প্রায় ৩০ টাকা কেজি রয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাজারে সবজির পাশাপাশি মাছের দামেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। আকারভেদে রুই মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। ফার্মের ডিম, ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির দাম মোটামুটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি প্রায় ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম সামান্য বাড়লেও বাজারে তা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ডজনের মধ্যে রয়েছে। চালের দামেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় কোনো প্রভাব এখনো দেখা যায়নি।

পরিবহন খরচের প্রভাব, নাকি বাড়তি মুনাফা?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। যশোর থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজি পরিবহনের উদাহরণ দিয়ে এক ব্যবসায়ী জানান, আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া প্রায় ১৮ হাজার টাকা থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তা বেড়ে ২১ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়েছে। এতে বেগুনসহ অন্যান্য সবজির পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দর কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর আগে চলতি বছর এপ্রিল ও জুনেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজার পর্যন্ত পণ্য আনতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। সেই ব্যয়ের একটি অংশ খুচরা মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় যতটা বেড়েছে, তার তুলনায় অনেক পণ্যের দাম খুচরা বাজারে বেশি হারে বাড়ানো হচ্ছে। তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব থাকলেও একবারে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর যৌক্তিকতা সব ক্ষেত্রে নেই। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে দুধ, আটা ও ময়দার দামেও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আটা ও ময়দার দামও বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারে প্রায় চার টাকা বাড়ার পর দুই লিটারের একটি বোতল এখন ৪০৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন দরের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয়কে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বললেও ক্রেতারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে খুচরা পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক