শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জীবিত সাংবাদিককে ‘শহীদ’ দেখিয়ে ছবি, এনসিপির দুঃখপ্রকাশ

আমি মরি নাই’ এনসিপির অনুষ্ঠানে ভুল তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সাংবাদিক মিজানুর রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০১ পিএম
আমি মরি নাই’ এনসিপির অনুষ্ঠানে ভুল তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সাংবাদিক মিজানুর রহমান

‘আমি মরি নাই, আমি এখনো জীবিত।’ সোমবার সকাল থেকে একের পর এক ফোন পেয়ে পরিচিতজন, সহকর্মী ও সাংবাদিকদের এমন কথাই বলতে হয়েছে সাংবাদিক ও লেখক মিজানুর রহমান সোহেলকে। কারণ, ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত প্রেজেন্টেশনে ২০২৪ সালের ৪ জুলাই হবিগঞ্জে শহীদ সাংবাদিক সোহেল আখন্জির পরিচয়ের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে মিজানুর রহমান সোহেলের ছবি।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক ও সাংবাদিক মহলে প্রশ্ন তৈরি হওয়ার পর মিজানুর রহমান সোহেল নিজেই বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মিডিয়া, ব্র্যান্ডিং ও প্রচার বিষয়ক উপকমিটি।

কী ঘটেছিল অনুষ্ঠানে?

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

সোমবার ঢাকার হোটেল ওয়েস্টিনে ডেমোক্রেটিক জার্নালিস্ট এলায়েন্সের (ডিজেএ) আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় ‘সাংবাদিকের চোখে জুলাই’ শীর্ষক স্মৃতিচারণা অনুষ্ঠান।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা ও ভূমিকা তুলে ধরাই ছিল অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, এমপি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদর্শিত একটি তথ্যচিত্রে হবিগঞ্জের সাংবাদিক সোহেল আখন্জির প্রসঙ্গ আসে। কিন্তু সেখানে তাঁর নাম ও পরিচয়ের সঙ্গে ব্যবহার করা হয় সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেলের ছবি।

ফলে উপস্থাপনায় এমন একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য তৈরি হয়, যাতে মনে হয় মিজানুর রহমান সোহেলই ২০২৪ সালের ৪ জুলাই হবিগঞ্জে নিহত বা শহীদ হয়েছেন।

‘আমি হবিগঞ্জে মারা যাইনি’

ঘটনাটি জানার পর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মিজানুর রহমান সোহেল।

তাঁর বক্তব্য, প্রথমে তিনি বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। কিন্তু অনুষ্ঠানস্থল থেকে একের পর এক সাংবাদিক ফোন করে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করতে চাইলে বিষয়টি গুরুতর বলে মনে হয়।

নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি জুলাই আন্দোলনে শহীদ হননি, ২০২৪ সালের ৪ জুলাই হবিগঞ্জেও মারা যাননি। তিনি জীবিত আছেন, এখনো লিখছেন এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

তাঁর প্রশ্ন, একজন জীবিত সাংবাদিককে মৃত বা শহীদ হিসেবে উপস্থাপন করার মতো গুরুতর ভুল কীভাবে একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানের প্রেজেন্টেশনে জায়গা পেল?

‘ভেরিফিকেশন কি এতটাই কঠিন ছিল?’

মিজানুর রহমান সোহেলের মূল প্রশ্নটি শুধু ভুল ছবির ব্যবহার নিয়ে নয়; বরং তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও।

তিনি জানতে চেয়েছেন—তথ্য সংগ্রহ করেছেন কারা, নাম ও ছবি মিলিয়েছেন কারা, প্রেজেন্টেশন তৈরি করেছেন কারা, সেটি যাচাই করেছেন কারা এবং সর্বশেষ কার অনুমোদনের পর সেটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়েছে।

বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের মতো সংবেদনশীল একটি বিষয়ে তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন ছিল বলেও তিনি মনে করেন।

তাঁর বক্তব্যের সারকথা—একজন ব্যক্তির নাম, ছবি ও মৃত্যুর তথ্য একই সঙ্গে প্রকাশের আগে অন্তত তাঁর পরিচয় ও বর্তমান অবস্থান যাচাই করা সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগের মৌলিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

ভুলের সামাজিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ

মিজানুর রহমান সোহেল মনে করেন, এমন ভুল কেবল একটি অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তথ্যটি যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তাঁর পরিচিতজন বা পরিবারের সদস্যদের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য পৌঁছাতে পারে।

এমনকি কেউ যদি সত্যতা যাচাই না করেই তাঁর মৃত্যুর খবর প্রচার করেন, তাহলে সেটি তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত পরিচয়ের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

একজন সাংবাদিকের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সংবাদকর্মীর পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতা তাঁর পরিচয় ও তথ্যের নির্ভুলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

এনসিপির ব্যাখ্যা: ‘একান্তই ভুলবশত’

ঘটনাটি নিয়ে অবশ্য দায় এড়িয়ে যায়নি এনসিপি। দলটির মিডিয়া, ব্র্যান্ডিং ও প্রচার বিষয়ক উপকমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া দুঃখপ্রকাশে বলা হয়েছে, ডেমোক্রেটিক জার্নালিস্ট এলায়েন্স আয়োজিত ‘সাংবাদিকের চোখে জুলাই’ অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদর্শিত তথ্যচিত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হবিগঞ্জের সাংবাদিক সোহেল আখন্জির বর্ণনার সময় ভুলক্রমে সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেলের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

এনসিপির পক্ষ থেকে এটিকে ‘একান্তই ভুলবশত’ ঘটে যাওয়া ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

দুঃখপ্রকাশে আরও বলা হয়, দেশের অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার জগতে মিজানুর রহমান সোহেল একটি সুপরিচিত নাম। এই ভুলের জন্য তাঁরসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে এবং বিষয়টিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

https://www.facebook.com/share/p/17zrcvvg1n/
প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে

এনসিপির দুঃখপ্রকাশের ফলে ভুলের বিষয়ে দলটির অবস্থান স্পষ্ট হলেও ঘটনাটি সাংবাদিকতার একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এনেছে—তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব কোথায় শেষ হয়?

একজন মৃত ব্যক্তির নামের সঙ্গে জীবিত ব্যক্তির ছবি যুক্ত হওয়া সাধারণ বানান বা টাইপিং ভুলের পর্যায়ে পড়ে না। এখানে নাম, ছবি, পরিচয় এবং মৃত্যুর তথ্য—একাধিক স্তরে অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে কোনো ঐতিহাসিক বা রাজনৈতিক আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত তথ্যচিত্রের ক্ষেত্রে তথ্যের উৎস, ছবি ও পরিচয় যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ একটি ভুল ছবি শুধু একজন ব্যক্তিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে না; একই সঙ্গে প্রকৃত ব্যক্তির পরিচয়ও আড়াল করে দিতে পারে।

‘আমি কাউকে অভিযুক্ত করতে চাই না, দায়িত্বশীল ব্যাখ্যা চাই’

মিজানুর রহমান সোহেল তাঁর বক্তব্যে কাউকে অযথা অভিযুক্ত করতে চাননি বলে জানিয়েছেন। বরং তিনি চেয়েছেন ভুলটির বিষয়ে দায়িত্বশীল ব্যাখ্যা এবং যথাযথ সংশোধন।

ঘটনার পর এনসিপির পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ আসায় তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে তথ্য সংগ্রহ, ছবি নির্বাচন, সম্পাদনা ও চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রতিটি ধাপে যাচাই ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন কি না—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ভুল ছবি, বড় শিক্ষা

সাংবাদিকদের সাহস ও আত্মত্যাগকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এমন ভুল নিঃসন্দেহে বিব্রতকর। একই সঙ্গে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাও সামনে আনে—সত্য তুলে ধরার অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত প্রতিটি তথ্যের সত্যতা যাচাই করাও সত্য সাংবাদিকতারই অংশ।

মিজানুর রহমান সোহেলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অস্বাভাবিক বিষয় হলো, নিজের জীবিত থাকার প্রমাণ দিতে তাঁকেই শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে বলতে হয়েছে—‘আমি মরি নাই।’

এনসিপির দুঃখপ্রকাশ ভুলটির তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা দিয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, এই ভুল কীভাবে ঘটল এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল যেন আর কোনো জীবিত মানুষকে ‘মৃত’ কিংবা কোনো প্রকৃত শহীদের পরিচয়কে অন্য কারও ছবির সঙ্গে গুলিয়ে না ফেলে—তার জন্য কী ধরনের যাচাই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৯ এম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৭৮২

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৯ জনে। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনে মারা গেছেন ১১২ জন। এছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বুলেটিনে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭৮২ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জনে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৭৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৭১৬ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, খুলনায় ২৮৬ জন, বরিশালে ১৬৪ জন, রাজশাহীতে ১৩০ জন, ময়মনসিংহে ১০৮ জন, রংপুরে ৭৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ এম
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অধিকারে বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত বন্ধে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে।”

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

তিনি বলেন, “আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।”

যুদ্ধ-সংঘাতে বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট

ভাষণে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে একের পর এক মানবিক সংকট।

যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিও তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

সংঘাতের সমাধান আলোচনায়, কূটনীতিতে

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধানে সামরিক শক্তির পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রত্যাশা এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা।”

জাতিসংঘকে কেন্দ্র করে সমঝোতামূলক বিশ্ব

একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ—ভাষণে এমন প্রত্যাশার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্বের এক প্রান্তের সংঘাত ও সংকট অন্য প্রান্তের দেশগুলোকেও প্রভাবিত করে। এ বাস্তবতায় পারস্পরিক সহযোগিতা, কূটনীতি ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

উন্নয়নের অর্থ সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ সামরিক ব্যয়ে স্থানান্তরের প্রবণতাকে বিশ্বশান্তির পথে অন্যতম বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।

শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।

বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের ভূমিকার বার্তা

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথাও ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

ভাষণের শেষদিকে বিশ্ব মানবতা ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান, কূটনীতি ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ চায় ডিসিসিআই

বাংলাদেশের জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরের একটি হোটেলে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে তাসকীন আহমেদ বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুই দেশের বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং সরকার পর্যায়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহ, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়ক বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।

এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব বলে মত দেন।

এ সময় মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাইন্যান্সিংয়ের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য তৈরি এবং কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাতের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমএফএস মডেল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের এ খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে দেশটি একটি বড় ও সম্ভাবনাময় ভোক্তা বাজারে পরিণত হয়েছে। এই বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব জোরদার, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক