সাভারে বিস্ফোরক আতঙ্ক, ফের মিলল প্রেসার কুকার বোমা
সাভার-আশুলিয়ায় যেন একের পর এক মিলছে বিস্ফোরক একদিকে সিটিটিসির জঙ্গিবিরোধী অভিযান, অন্যদিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় মিলছে বোমাসদৃশ বস্তু-সব মিলিয়ে শিল্পাঞ্চলজুড়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আশুলিয়ার চারাবাগ ও সাভারের সাদাপুরে প্রেশার কুকারসদৃশ বস্তু উদ্ধারের পর হেমায়েতপুরে অভিযানে বিস্ফোরকসহ একজন আটক এবং একটি বাড়ি থেকে আরও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, সাভার-আশুলিয়ায় বিস্ফোরক মজুদের নেপথ্যে কারা?
সর্বশেষ বুধবার (১২ আগস্ট) সাভারের সাদাপুরের গোপের বাড়ি লালটেক এলাকায় একটি ড্রামের ভেতর থেকে স্কচটেপ মোড়ানো প্রেশার কুকারসদৃশ শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রাখে এবং বিশেষজ্ঞ দলকে খবর দেওয়া হয়।ডিএমপির বোম ডিস্পোজাল ইউনিট নিরাপদ স্থানে বিস্ফোরণের কাজ চলমান রয়েছে।
এর মাত্র কিছুক্ষণ আগেই হেমায়েতপুরের শ্যামপুরে সিটিটিসি ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের অভিযানে পাঁচটি বিস্ফোরকসহ আরিফ হোসেন (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও নয়টি বিস্ফোরক, বিপুল পরিমাণ গানপাউডার ও বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, আরিফকে অনুসরণ করে হেমায়েতপুরে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় একটি বাড়ি ঘিরে অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ অভিযানে সেখান থেকে এসব সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলো কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল এবং এগুলোর সঙ্গে আরিফের সম্পৃক্ততার বিস্তারিত এখনো তদন্তাধীন।
এর আগে গত ৩০ জুলাই আশুলিয়ার চারাবাগ খেজুরবাগান এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে পরিত্যক্ত ব্যাগ থেকে শক্তিশালী প্রেশার কুকার বোমা উদ্ধার করে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। পরে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মুখে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি ব্যাগটি রেখে চলে গিয়েছিলেন।
অর্থাৎ, একদিকে সিটিটিসির অভিযানে বিস্ফোরকসহ সন্দেহভাজন আটক, অন্যদিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একের পর এক বোমাসদৃশ বস্তু-সাভার-আশুলিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন সামনে এসেছে।
স্থানীয়দের মধ্যে এখন একটাই প্রশ্ন-এগুলো কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো সংগঠিত চক্র? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তেই মিলবে সেই উত্তর।












