ওয়েলিংটনের উদ্দেশ্যে কায়রো ছাড়লেন আলোচিত রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ
প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালন শেষে নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনের উদ্দেশ্যে কায়রো ত্যাগ করেছেন মিশরে বাংলাদেশের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ। সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তিনি মিশর ছাড়েন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলাদেশ দূতাবাসে একটি বিদায়ী নৈশভোজের আয়োজন করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্য, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে কমিউনিটির একাধিক সূত্রের দাবি, আমন্ত্রিত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কেউই ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।
পরবর্তীতে ৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে রাষ্ট্রদূতকে আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদায়ী বক্তব্যে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী গত তিন বছরে রাষ্ট্রদূতের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তাদের অভিযোগ-প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারি বিধি-বিধানের তোয়াক্কা না করে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেওয়া, বিকল্প মতামত উপেক্ষা করা, অসৌজন্যমূলক আচরণ ও স্বেচ্ছাচারীভাবে দপ্তর পরিচালনা করা হয়েছে। সংবর্ধনা সভায় এসব বিষয় ও দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হলে রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ ক্ষুব্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভর্ৎসনা করেন। এরপর তিনি বিদায়ী উপহার কিংবা নৈশভোজে অংশ না নিয়েই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে রোববার (২ আগস্ট) মিশনে শেষ কর্মদিবস থাকলেও তিনি আর দূতাবাসে আসেননি।
এদিকে, রাষ্ট্রদূতের বিদায়কে কেন্দ্র করে মিশরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও শিক্ষার্থীদের মাঝে একধরনের স্বস্তি দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দায়িত্বকাল জুড়ে দূতাবাসের সেবার মান ও প্রশাসনিক আচরণ নিয়ে পূর্বে ওঠানো অভিযোগগুলো নতুন করে আলোচনায় আসছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ভিয়েতনাম থেকে বদলি হয়ে কায়রোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সামিনা নাজ। প্রবাসীদের অভিযোগ, তার যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত কনস্যুলার সেবায় অস্বাভাবিক ধীরগতি ও প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দেয়। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-সংক্রান্ত কাগজপত্র, নথিপত্র অ্যাটেস্টেশন, জন্মনিবন্ধন ও নাম সংশোধন এবং পাসপোর্ট সেবার মতো জরুরি কার্যক্রম মাসের পর মাস আটকে রাখা হতো বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
তদন্তের দাবি প্রবাসীদের
মিশরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতে, গত কয়েক বছরে দূতাবাসের প্রশাসনিক স্থবিরতা ও নানা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। নতুন রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে বাংলাদেশ মিশন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে-এমনটাই প্রত্যাশা কায়রোর প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের।













