জর্ডানে ইরানি হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত, একজনের খোঁজ নেই
জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও একজন সেনা সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসা শেষে তাদের বেশিরভাগই দায়িত্বে ফিরে গেছেন।
শনিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম তদারককারী ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সংস্থাটি জানায়, ১৭ জুলাই জর্ডানে ইরানের হামলা প্রতিরোধের সময় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ওই দুই সেনার মৃত্যু হয়। তবে নিহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সেন্টকমের তথ্যমতে, হামলায় আহত চার সেনাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের অবস্থা উন্নতি হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সামান্য আহত অন্য সদস্যরাও পুনরায় দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর মার্কিন বাহিনীর হতাহতের বিষয়ে এটিই ওয়াশিংটনের প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনা, যার মধ্যে সেতু ও লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্রও রয়েছে, সেখানে হামলা চালিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটি এবং জ্বালানি ও পানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা উভয় পক্ষের এসব হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) মহাসচিব জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ‘যুদ্ধাপরাধ’ এবং ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এ ঘটনা প্রমাণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কোনো মূল্য নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে, যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবে মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষ।













