বাংলাদেশে বিয়ে করে বিপদের শঙ্কা, নাগরিকদের সতর্ক করল চীন
বাংলাদেশে অবৈধ দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কনে খুঁজতে না আসার জন্য নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস। মানবপাচার, বিয়ে-সংক্রান্ত প্রতারণা এবং আইনি জটিলতার ঝুঁকি বিবেচনায় মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হয়।
দূতাবাসের বক্তব্য অনুযায়ী, অবৈধ ম্যাচমেকিং এজেন্সি বা দালালের মাধ্যমে বাংলাদেশে এসে বিয়ের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মানবপাচারের অভিযোগে আইনি সমস্যায় পড়তে পারেন। এমনকি এ ধরনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।
চীনা দূতাবাস স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে মানবপাচারের অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড, এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে।
দূতাবাস আরও জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তপারের বিয়েকে কেন্দ্র করে প্রতারণার ঘটনা বেড়েছে। প্রকৃত পারস্পরিক সম্মতি ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বিয়ে হওয়া উচিত। কিন্তু কনে কেনাবেচা বা অর্থের বিনিময়ে বিয়ের ব্যবস্থা করার প্রবণতা অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণা, আর্থিক ক্ষতি এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করছে।
চীনে আন্তর্জাতিক বিয়ের মধ্যস্থতাকারী ব্যবসা আইনত নিষিদ্ধ। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে নারী-পুরুষের সংখ্যাগত ভারসাম্যহীনতা থাকায় বিদেশি নারীকে বিয়ের প্রবণতা কিছু ক্ষেত্রে বেড়েছে। ২০২০ সালের জাতীয় জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী, চীনে বিয়োযোগ্য পুরুষের সংখ্যা নারীর তুলনায় প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ বেশি।
এই বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক বিয়ের আড়ালে মানবপাচার ও প্রতারণা রোধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বিদেশি নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং নিজেদের নাগরিকদের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করতেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, লাওস, পাকিস্তান ও নেপালে অবস্থিত চীনা দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোও একই ধরনের সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছিল।
চীনের সর্বোচ্চ জনগণের অভিশংসক দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত মানবপাচার ও প্রতারণামূলক বিয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ১ হাজার ৫৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, অনেক চীনা নাগরিক বিদেশি নারীকে বিয়ে করতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করার পর প্রতারণার শিকার হয়েছেন। আবার কিছু ঘটনায় বিদেশি নারীদের জোরপূর্বক বিয়েতে বাধ্য করা বা পাচারের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।
সম্প্রতি চীনের হুনান, আনহুই ও শানডং প্রদেশে পরিচালিত যৌথ অভিযানে বিয়ে-সংক্রান্ত প্রতারণায় জড়িত একটি চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযানে ৬৩টি ফৌজদারি মামলা দায়ের, ৩৩টি প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ৫০ লাখ ইউয়ানের বেশি সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে জানা যায়, ওই চক্রের কার্যক্রম চীন, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।













