তথ্য জটিলতা না থাকলে মালয়েশিয়ায় দ্রুত মিলছে ই-পাসপোর্ট
সঠিক তথ্য প্রদান করলে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা ২১ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যেই ই-পাসপোর্ট পাচ্ছেন। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন ও আগের এমআরপি পাসপোর্টের তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য বা ‘মাল্টিপল অ্যাক্টিভ’ জটিলতা থাকলে আবেদন নিষ্পত্তিতে অতিরিক্ত সময় লাগছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।
হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, কুয়ালালামপুরে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ হাজার ই-পাসপোর্ট আবেদন অনুমোদন ও বিতরণ করা হচ্ছে। নামের বানান, জন্মতারিখ বা জন্মস্থানের মতো সাধারণ সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিত্তিতে দ্রুত সেবা দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য হাইকমিশন থেকে কনস্যুলার লেটার নিয়ে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগে জমা দিতে হয়।
তবে ডিজিটাল তথ্য যাচাইয়ের সময় কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে ‘মাল্টিপল অ্যাক্টিভ’ সমস্যা ধরা পড়ে। সাধারণত পূর্বের পাসপোর্টে ভিন্ন তথ্য ব্যবহার, অন্যের পরিচয়পত্র ব্যবহার বা তথ্যগত অসামঞ্জস্যের কারণে এ জটিলতা তৈরি হয়। এসব ক্ষেত্রে পূর্বের পাসপোর্ট, জিডির কপি, ভিসা ও জব আইডিসহ প্রয়োজনীয় নথি ঢাকার পাসপোর্ট অধিদপ্তরে পাঠিয়ে যাচাই করা হয়। আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক যাচাইয়ের কারণে এ প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সময় লাগে।
হাইকমিশন জানিয়েছে, যাদের ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, তারা সময়মতো আবেদন না করলে বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ই-পাসপোর্টের আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জটিলতা দ্রুত সমাধানের জন্য হাইকমিশনের পাসপোর্ট উইং একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চালু করেছে। তবে আবেদনকারীদের আবেদনপত্রে দেওয়া মোবাইল নম্বর সচল রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত তথ্য বা কাগজপত্র প্রয়োজন হলে দ্রুত যোগাযোগ করা যায়।
এ ছাড়া ডেলিভারি স্লিপে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানা যাবে। আবেদন জমার ৪৫ কার্যদিবস পরও পাসপোর্ট না পেলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে দ্রুত পাসপোর্ট উইংয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
হাইকমিশন আরও জানিয়েছে, আগামী ১১ ও ১২ জুলাই পেনাংয়ে মোবাইল কনস্যুলার সেবা দেওয়া হবে। জর্জ টাউনের এক্সপ্যাট সার্ভিসেস কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ই-পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণ করা হবে। অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট শুরু হবে ৮ জুলাই সকাল ১০টায়। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫০ জন, অর্থাৎ দুই দিনে মোট ৩০০ জন আবেদন করতে পারবেন।
অ্যাপয়েন্টমেন্টধারীদের নির্ধারিত সময়ের অন্তত এক ঘণ্টা আগে উপস্থিত থাকতে হবে। একই সঙ্গে ট্রাভেল পারমিট, একই ব্যক্তি মর্মে প্রত্যয়নপত্র, পাসপোর্ট রেফারেন্স, এনওসি ও সত্যায়নসহ অন্যান্য কনস্যুলার সেবাও দেওয়া হবে।
হাইকমিশন স্পষ্ট করেছে, অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া কোনো ই-পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণ করা হবে না। যারা এবার সুযোগ পাবেন না, তারা আগামী আগস্টের মোবাইল কনস্যুলার সেবা অথবা কুয়ালালামপুরের এক্সপ্যাট সার্ভিসেস কার্যালয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে আবেদন করতে পারবেন।
এই সংস্করণে অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি বাদ দেওয়া হয়েছে, তথ্যগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজানো হয়েছে এবং সংবাদপত্রের উপযোগী ভাষা বজায় রাখা হয়েছে।













