শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মিশরে চটকদার বিজ্ঞাপনের ফাঁদে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা,কায়রো বিমানবন্দরে চরম ভোগান্তি

আফছার হোসাইন,মিশর থেকে প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ২:২০ এম
মিশরে চটকদার বিজ্ঞাপনের ফাঁদে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা,কায়রো বিমানবন্দরে চরম ভোগান্তি

মিশরের ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে পড়ে কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ফেসবুক বা বিভিন্ন গ্রুপে প্রচারিত “কায়রো টু ঢাকা ফ্রি টিকিট’ স্বর্ণ,’ফ্রেশ মালামাল” কিংবা “১০০% রিস্কমুক্ত মালামাল পরিবহন”এ ধরনের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিচ্ছেন অনেকেই। বিষয়টি এখন আর শুধু কতিপয় শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত দুর্ভোগে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মিশরে অবস্থানরত পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির ওপর। বিমানবন্দরে বাংলাদেশি যাত্রীদের প্রতি বাড়তি নজরদারি, দীর্ঘ নিরাপত্তা তল্লাশি এবং কঠোর যাচাই-বাছাই এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
​সম্প্রতি কায়রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ভ্রমণের সময় বাংলাদেশি যাত্রীরা নজিরবিহীন হয়রানির মুখোমুখি হন। বিশেষ করে গত ১ জুলাই দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে টার্মিনাল-২ থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি ফ্লাইটের প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে নিরাপত্তা তল্লাশির বাইরেই ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেককে দুই থেকে তিনবার পর্যন্ত লাগেজসহ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি শুরুতে বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্ট দেখেই কয়েকজন যাত্রীর লাগেজ গ্রহণ করতে অনীহা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

​পরবর্তীতে বারবার অনুরোধের পর বাংলাদেশি যাত্রীদের একসঙ্গে নির্ধারিত একটি গেট দিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেকেই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজনীয় মালামাল বিমানবন্দরেই ফেলে যেতে বাধ্য হন।

নিয়ম অনুযায়ী ৪৬ কেজি পর্যন্ত চেক-ইন লাগেজ বহনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও হয়রানি এড়াতে অনেকে মাত্র ৭-৮ কেজির হ্যান্ড লাগেজ নিয়ে দেশে রওনা দেন। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফ্লাইট মিস হওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়।
​সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ পরিস্থিতির অন্যতম মূল কারণ হলো কিছু যাত্রীর লাগেজে ব্যক্তিগত ব্যবহারের সীমা অতিক্রম করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ কসমেটিকস, ওষুধ ও অন্যান্য পণ্য বহন করা। তল্লাশিতে কোনো একটি লাগেজে ১০০ থেকে ২৮০টি পর্যন্ত নিভিয়া ক্রিম, আবার কোথাও পুরো লাগেজ জুড়ে শ্যাম্পু, সাবান, গুঁড়ো দুধ, বডি স্প্রেসহ বিভিন্ন কসমেটিকস পণ্য পাওয়া গেছে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সীমিত পরিমাণ পণ্য বহন বৈধ হলেও, যাত্রীর ব্যক্তিগত লাগেজকে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন নীতিমালার স্পষ্ট পরিপন্থী।
​উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এত কিছুর পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখনো প্রকাশ্যে “কায়রো টু ঢাকা, ১০০% রিস্কমুক্ত মালামাল” এ ধরনের প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত আয়ের আশায় অনেক শিক্ষার্থী ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। কিন্তু বিমানবন্দরে মালামাল জব্দ হলে বা বহনের অনুমতি না মিললে মূল সিন্ডিকেট বা ব্যবসায়ীদের তেমন কোনো ক্ষতি হয় না; বরং অপমান, হয়রানি, আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক চাপের পুরো বোঝা বহন করতে হয় সাধারণ শিক্ষার্থীদেরই।
​এ ধরনের বিজ্ঞাপনদাতাদের মধ্যে ইবনে আজহার ও আহমেদ উল্লাহ নামের দুজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আহমেদ উল্লাহ বলেন, “আমি শুধু খেজুর, কসমেটিকস, শ্যাম্পু ও নিভিয়া ক্রিম পাঠাতাম। এখন আর পাঠাব না। কারণ বর্তমানে অনেকেই এর আড়ালে অবৈধ মাদক বা নিষিদ্ধ পণ্য পাঠানোর চেষ্টা করছে। গত পরশু বিমানবন্দরে একজনের পাসপোর্টও আটক করা হয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

​অন্যদিকে ইবনে আজহার বলেন, “আমরা শুধু ফ্রেশ মালামাল কিনে দেই। যাত্রীরা রওনা হওয়ার আগে সবকিছু দেখে নেওয়ার সুযোগ পান। আমরা কোনো ধরনের ওষুধ দিই না। কায়রো থেকে ঢাকা পর্যন্ত যাত্রী যত কেজি মালামাল বহন করেন, সে অনুযায়ী কেজিপ্রতি পারিশ্রমিক দেওয়া হয়।
​

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, “পরিস্থিতি এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, কায়রো বিমানবন্দরে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখলেই অনেক কর্মকর্তা ধরে নেন—এই যাত্রী হয়তো অবৈধ ওষুধ কিংবা বিপুল পরিমাণ কসমেটিকস বহন করছেন। ফলে অনেককে অযথা দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হচ্ছে, এমনকি কারও কারও ফ্লাইটও বাতিল হয়ে যাচ্ছে।
​তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “নতুন শিক্ষার্থীদের দেশে যাওয়ার যাত্রা সহজ করার নামে কিছু তথাকথিত ‘বড় ভাই’ সস্তা ও বিভ্রান্তিকর আশ্বাস দিয়ে তাদের এ কাজে উৎসাহিত করছেন। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির সুনাম। আল-আজহারের সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও এখন অনেক সময় সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে।
​তবে এর প্রভাব শুধু পণ্য বহনকারী যাত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিবার নিয়ে দেশে ফেরা প্রবাসী, পর্যটক কিংবা বৈধভাবে ব্যক্তিগত মালামাল বহনকারী সাধারণ বাংলাদেশি যাত্রীরাও এখন বিমানবন্দরে বাড়তি তল্লাশি,জিজ্ঞাসাবাদ এবং চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
​সচেতন মহলের মতে, সাময়িক আর্থিক লাভের আশায় এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া থেকে সবার বিরত থাকা জরুরি। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। বিশেষ করে মিশরে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের মেধা, শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে যে গৌরবময় সম্মান অর্জন করেছেন, তা যেন কিছু অসচেতন ব্যক্তির অপতৎপরতার কারণে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। এমনটাই প্রত্যাশা প্রবাসীদের।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৫ পিএম
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৯৫৫

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৫৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে একজন করে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১১ জনে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ বিভাগে ২৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে ২৪১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৩০ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

একই সময়ে বরিশাল ও রংপুর বিভাগে ৪৪ জন করে, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৭ জন এবং সিলেট বিভাগে চারজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১০২ জন। এই হিসাবের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মৃত্যুর সংখ্যাও রয়েছে।

এ ছাড়া একই সময়ে খুলনা বিভাগে ৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে চারজন এবং সিলেট বিভাগে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৫ দিনেই ডেঙ্গুতে ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৪ পিএম
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

আসিয়ান কাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে মালয়েশিয়া।

আসিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো মাঠে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল হামজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। ম্যাচের ১৮ মিনিটে আরিফ আইমানের গোলে এগিয়ে যায় মালয়েশিয়া। এরপর ৩৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের ব্যবধান ২-০ করেন আইমান। দুই গোলের ঘাটতি নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় বাংলাদেশকে।

বিরতির পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে মালয়েশিয়া। ৫২ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের ভেতর থেকে গোল করেন বার্গুসন। তার গোলে মালয়েশিয়ার লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৩-০।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এরপর গোল পরিশোধে কয়েক দফা আক্রমণ গড়ে তোলে বাংলাদেশ। তবে সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি লাল-সবুজের দল। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।

এর আগে চার বছর আগে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচেও ৪-১ গোলে হেরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবার আসিয়ান কাপেও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল না বাংলাদেশ।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক