স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে ১৭ বছরের সংসার ভাঙল, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকে বিয়ে নিয়ে চাঞ্চল্য
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার পশ্চিম পিংড়া গ্রামে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ১৭ বছরের একটি সংসার ভেঙে যাওয়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ উঠেছে, একই এলাকার এক নারীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের জেরে স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে দেওয়া হয়েছে সালিশি বৈঠকের সিদ্ধান্তে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম পিংড়া গ্রামের বাসিন্দা স্বপন পাটোয়ারীর স্ত্রী নারগিস আক্তারের সঙ্গে একই এলাকার মাজহার পাটোয়ারীর দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। মাজহার পাটোয়ারী নিষিদ্ধ ঘোষিত -এর উপাদী উত্তর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হিসেবে পরিচিত।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত সোমবার রাতে পরিবারের সদস্যরা মাজহার পাটোয়ারী ও নারগিস আক্তারকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে আটক করেন। ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার রাতে স্থানীয়দের উদ্যোগে তাদের বাড়িতে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মফিজ পাটোয়ারী এবং পরিচালনা করেন দুলাল মিয়াজী।
সালিশে উভয় পক্ষ নিজেদের সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করলে সিদ্ধান্ত হয়, নারগিস আক্তার তার স্বামী স্বপন পাটোয়ারীকে তালাক দেবেন এবং একই রাতে মাজহার পাটোয়ারীর সঙ্গে ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে সম্পন্ন হবে।
এলাকাবাসী জানান, প্রায় ১৭ বছর আগে সামাজিকভাবে স্বপন পাটোয়ারী ও নারগিস আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। বড় ছেলের বয়স ১৬ বছর এবং ছোট ছেলের বয়স ১২ বছর। সালিশি বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বড় ছেলে বাবার কাছে এবং ছোট ছেলে মায়ের কাছে থাকবে।
এছাড়া সালিশি বৈঠকে মাজহার পাটোয়ারীকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এই অর্থ নারগিস আক্তারের প্রথম স্বামী স্বপন পাটোয়ারীকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনাটি সত্য, তবে বাড়ির সম্মান রক্ষার্থে বিষয়টি আর বড় করতে চাই না।”
এদিকে, একই দিনে তালাক ও পুনরায় বিয়ে সম্পন্ন করার ঘটনায় ইসলামি শরীয়া আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি বর্তমানে পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।










