শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ: এর জন্য কি দায়ী এল নিনো, নাকি আরও গভীর কোনো কারণ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৪:০৭ পিএম
ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ: এর জন্য কি দায়ী এল নিনো, নাকি আরও গভীর কোনো কারণ?

জুন মাসে ফ্রান্সের বড় অংশে দ্বিতীয় তাপপ্রবাহ চলাকালে প্যারিসে তাপমাত্রা বৃদ্ধির মধ্যে আইফেল টাওয়ারের কাছে ট্রোকাডেরো স্কোয়ারে একজন মহিলা। ছবি- রয়টার্স।

রেকর্ড গরমে বিপর্যস্ত ইউরোপ

ইউরোপের বিভিন্ন দেশ আবারও ভয়াবহ তাপপ্রবাহের মুখোমুখি। ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, পর্তুগাল, জার্মানি, বেলজিয়াম ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও পারদের স্তম্ভ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে, যা জুন মাসের জন্য অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

এই তাপপ্রবাহ শুধু আবহাওয়ার খবরেই সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়েছে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, জনস্বাস্থ্য, পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর। ইউরোপের বহু শহরে মানুষকে দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

এল নিনো কি এই গরমের প্রধান কারণ?

অনেকের মনে প্রশ্ন উঠছে, বর্তমান তাপপ্রবাহের জন্য কি এল নিনো দায়ী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো কিছুটা ভূমিকা রাখলেও এটিই একমাত্র বা প্রধান কারণ নয়। এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতা, যা বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তন আনে। এর প্রভাব পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, খরা অথবা অতিবৃষ্টির মাধ্যমে দেখা যায়।

তবে ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে বিজ্ঞানীরা আরও বড় একটি কারণের দিকে ইঙ্গিত করছেন—জলবায়ু পরিবর্তন।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট

বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশগুলোর একটি। শিল্পবিপ্লবের পর থেকে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

এই উষ্ণতা শুধু গড় তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে না, বরং চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলোকেও আরও ঘনঘন ও তীব্র করে তুলছে। ফলে আগে যেখানে কয়েক দশকে একবার তাপপ্রবাহ দেখা যেত, এখন তা প্রায় প্রতি বছরই ঘটছে।

‘হিট ডোম’ কী?

বর্তমান তাপপ্রবাহের পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো “হিট ডোম” বা তাপগম্বুজ।

এটি এমন একটি আবহাওয়াগত অবস্থা, যেখানে উচ্চচাপ বলয় একটি অঞ্চলের ওপর দীর্ঘ সময় অবস্থান করে। ফলে উষ্ণ বায়ু আটকে যায় এবং তা বের হতে পারে না। সূর্যের তাপে সেই বায়ু আরও উত্তপ্ত হতে থাকে।

এই অবস্থায় মেঘ তৈরি কম হয়, বৃষ্টিপাত হ্রাস পায় এবং তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ইউরোপের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে বর্তমানে এমন পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে।

কেন প্যারিসে কখনও কখনও সেভিয়ার চেয়েও বেশি গরম?

সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে দেখা গেছে, স্পেনের সেভিয়ার তুলনায় ফ্রান্সের প্যারিসে তাপমাত্রা বেশি হতে পারে।

এর কারণ হলো, ইউরোপের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বহু শহর এমন তাপমাত্রার জন্য প্রস্তুত নয়। দক্ষিণ ইউরোপে দীর্ঘদিন ধরেই গরম আবহাওয়া স্বাভাবিক হলেও ফ্রান্স, জার্মানি বা যুক্তরাজ্যের অনেক শহরে পর্যাপ্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই।

ফলে একই তাপমাত্রা দক্ষিণ ইউরোপের তুলনায় উত্তর ইউরোপে বেশি কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে।

জনজীবনে বাড়ছে দুর্ভোগ

তাপপ্রবাহের কারণে ইউরোপজুড়ে মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

ফ্রান্সে বহু স্কুলে ক্লাসের সময় কমিয়ে আনা হয়েছে। ইতালির বিভিন্ন অঞ্চলে নির্মাণশ্রমিকদের দুপুরের কাজ সীমিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্পেনে বয়স্ক মানুষ এবং শিশুদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

অন্যদিকে হাসপাতালগুলোতে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং হৃদরোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে চাপ

তীব্র গরম কৃষি খাতের জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

মাটির আর্দ্রতা দ্রুত কমে যাচ্ছে, ফলে ফসলের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গম, ভুট্টা, ফল এবং আঙুরের উৎপাদন কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে খাদ্যপণ্যের দামও বৃদ্ধি পেতে পারে।

দাবানলের ঝুঁকি বাড়ছে

গরমের সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দাবানলের আশঙ্কাও বেড়ে যাচ্ছে।

স্পেন, পর্তুগাল, গ্রিস এবং ইতালির বনাঞ্চলগুলোতে আগুন লাগার ঝুঁকি বর্তমানে অনেক বেশি। উচ্চ তাপমাত্রা, শুষ্ক বাতাস এবং কম বৃষ্টিপাত দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।

ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমান তাপপ্রবাহ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি এমন একটি প্রবণতার অংশ, যা আগামী বছরগুলোতে আরও ঘনঘন দেখা যেতে পারে।

যদি বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো না যায়, তাহলে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও দীর্ঘস্থায়ী, তীব্র এবং প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি আবহাওয়াগত ঘটনা নয়; এটি জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাবের একটি স্পষ্ট উদাহরণ, যা মানুষের জীবন, অর্থনীতি এবং পরিবেশের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করছে।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে কার্গো জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি খালাস আবার শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে শিগগিরই দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহেশখালীতে এলএনজি খালাসের কাজ পুনরায় চালু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহে এর প্রভাব দেখা যায়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা নাগাদ এলএনজি থেকে প্রায় ৭৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একই সময়ে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায় প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। সব মিলিয়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় প্রায় ২৩৪ কোটি ঘনফুট।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে হঠাৎ বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে আসা ‘প্যাসিফিক সাকসেস’ নামের একটি কার্গো জাহাজ বৃহস্পতিবার মহেশখালীতে পৌঁছালেও উত্তাল সাগরের কারণে সেটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ফলে একটি টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছিল। একপর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুটে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

চাহিদার তুলনায় এখনো ঘাটতি

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার সেই সরবরাহ কমে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়।

দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসে। মহেশখালীর সমুদ্র এলাকায় থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় পাইপলাইনে পাঠানো হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট গ্রুপের।

দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হলে কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো ব্যবস্থায় দ্রুত প্রভাব পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি টার্মিনালে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছে গেলেও সাগরের পরিস্থিতির কারণে সেটি থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে যে পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাওয়ার কথা, তার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার উন্নতি হলে আবার কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়তে থাকে।

এর আগে জুলাইয়ে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পরও দেশে বড় ধরনের গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছিল। প্রায় এক মাস পর আগস্টে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হয়। এরপর এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিও কিছুটা উন্নত হচ্ছিল।

এর মধ্যেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন করে এলএনজি খালাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে আবার চাপ তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে খালাস পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই পরিস্থিতি আপাতত কাটতে শুরু করেছে। তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম থাকায় গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে আমদানি ও এলএনজি খালাস নিয়মিতভাবে চালু থাকার ওপর।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, করলা, পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দামও ঊর্ধ্বমুখী।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও একই ধরনের বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

করলা এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে উঠেছে। ঝিঙা ও ধুন্দলের ক্ষেত্রেও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা পেপের দাম অবশ্য আগের মতোই প্রায় ৩০ টাকা কেজি রয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাজারে সবজির পাশাপাশি মাছের দামেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। আকারভেদে রুই মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। ফার্মের ডিম, ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির দাম মোটামুটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি প্রায় ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম সামান্য বাড়লেও বাজারে তা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ডজনের মধ্যে রয়েছে। চালের দামেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় কোনো প্রভাব এখনো দেখা যায়নি।

পরিবহন খরচের প্রভাব, নাকি বাড়তি মুনাফা?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। যশোর থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজি পরিবহনের উদাহরণ দিয়ে এক ব্যবসায়ী জানান, আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া প্রায় ১৮ হাজার টাকা থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তা বেড়ে ২১ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়েছে। এতে বেগুনসহ অন্যান্য সবজির পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দর কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর আগে চলতি বছর এপ্রিল ও জুনেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজার পর্যন্ত পণ্য আনতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। সেই ব্যয়ের একটি অংশ খুচরা মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় যতটা বেড়েছে, তার তুলনায় অনেক পণ্যের দাম খুচরা বাজারে বেশি হারে বাড়ানো হচ্ছে। তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব থাকলেও একবারে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর যৌক্তিকতা সব ক্ষেত্রে নেই। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে দুধ, আটা ও ময়দার দামেও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আটা ও ময়দার দামও বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারে প্রায় চার টাকা বাড়ার পর দুই লিটারের একটি বোতল এখন ৪০৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন দরের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয়কে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বললেও ক্রেতারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে খুচরা পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক