মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা
ইসরায়েলের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের পাল্টা হামলা
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরান। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফার একটি গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের মাহশহর এলাকার একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার জবাব দিতে তারা ইসরায়েলের সমপর্যায়ের একটি জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছে, ভবিষ্যতে বেসামরিক বা জ্বালানি–সম্পর্কিত স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
এর আগে সোমবার ভোরে ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম ও মধ্য ইরানের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করে। ইসরায়েলের দাবি, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবে এসব অভিযান চালানো হয়েছে। হামলার পর তেহরান, তাবরিজ, ইসফাহান এবং কারাজের আশপাশে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী শুধু সামরিক স্থাপনাই নয়, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাহশহর পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সেও আঘাত হেনেছে। ইরানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষও ওই স্থাপনায় আংশিক ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছে।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলে চালানো হামলা কেবল একটি সতর্কবার্তা। আইআরজিসির মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেছেন, ইসরায়েল যদি লেবানন বা অন্য কোথাও সামরিক অভিযান সম্প্রসারণ করে অথবা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা চালায়, তাহলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তার দাবি, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
সংঘাতের মধ্যে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার দাবি করেছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা জাফা অঞ্চলে একটি সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নতুন করে পাল্টা হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে, উভয় পক্ষই ইতোমধ্যে হামলা চালিয়েছে এবং এখন কূটনৈতিক পথেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া উচিত।
তবে সেই আহ্বানের মধ্যেই ইসরায়েল নতুন করে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। ফলে এপ্রিলের নাজুক যুদ্ধবিরতির পর যে স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছিল, তা আবারও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবার সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে দুই দেশের জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল অবকাঠামো। ইরান মাহশহর হামলার বদলা হিসেবে হাইফার পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় আঘাত হেনেছে বলে দাবি করছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা, বিবিসি













