অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ৩৮ যাত্রী
ফেরিঘাটে বাস থেকে নামতে রাজি ছিলেন না অনেক যাত্রী
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এবার ফেরিতে ওঠার আগেই যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ পরিবহনের একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে ৩৮ জন যাত্রী থাকলেও তারা সবাই ঘাট এলাকায় নেমে ছিলেন বলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বাসের যাত্রী আব্দুল আহাদ জানান, ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নামতে বলা হয়েছিল। যদিও শুরুতে কয়েকজন যাত্রী নামতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরে তাদেরও নামিয়ে দেওয়া হয়। যাত্রীরা ঘাটের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ বাসটি নদীতে পড়ে যেতে দেখেন।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল ১০টার কিছু আগে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি ঘাটে অবস্থান করা অন্য একটি ফেরির র্যাম্পে ধাক্কা খেলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এরপর বাসটি সরাসরি পদ্মার পানিতে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ, বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দল এবং উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর দুপুরের দিকে বাসটি নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তারা জানান, বাসটির চালক ও সহকারীকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষে বাসের ভেতরে আর কাউকে পাওয়া যায়নি এবং কোনো যাত্রী নিখোঁজ থাকার অভিযোগও পাওয়া যায়নি।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার নিয়ম কার্যকর থাকায় এবার বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৫ মার্চ একই দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই ফেরিতে ওঠার আগে বাসের যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছিল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, সেই সিদ্ধান্তের কারণেই এবার সম্ভাব্য আরেকটি বড় ট্র্যাজেডি থেকে রক্ষা পেয়েছেন যাত্রীরা।
সূত্র: বিবিসি বাংলা।













