শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রবাসের হৃদয়ে এক টুকরো বাংলাদেশ: নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলা শুধু উৎসব নয়, সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ

আজিজুল আম্বিয়া, লন্ডন প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ২:৫৪ এম
প্রবাসের হৃদয়ে এক টুকরো বাংলাদেশ: নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলা শুধু উৎসব নয়, সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ

নিউইয়র্কের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারের ভেতরে ঢুকতেই টের পাওয়া যাচ্ছিল, এটি কেবল কোনো বইমেলা নয়। চার দিনের এই আয়োজন যেন প্রবাসী বাঙালির আবেগ, স্মৃতি, শেকড় ও আত্মপরিচয়ের এক মহা-মিলনমেলা। বাইরে টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া, দীর্ঘ পথযাত্রা কিংবা ব্যস্ত অভিবাসী জীবনের ক্লান্তি—কোনো কিছুই বাংলা ভাষার প্রতি প্রবাসীদের এই অদম্য টানকে থামাতে পারেনি “যত বই তত প্রাণ”-এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে এবার সত্য হয়ে উঠেছিল ৩৫তম নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার প্রতিটি মুহূর্ত।উত্তরাধিকার হস্তান্তরের সাংস্কৃতিক বিদ্যালয়
​প্রবাসে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্মের শিশুদের কেউ যখন ক্যানভাসে রঙতুলিতে শহীদ মিনার আঁকছে, কেউ বা পরম মমতায় লিখছে বাংলা অক্ষর-তখনই স্পষ্ট হয়ে যায় এই মেলার মূল সার্থকতা। এটি কেবল বই কেনাবেচার জায়গা নয়; বরং নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল উত্তরাধিকার হস্তান্তরের এক অনন্য সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠ।
​

এবারের মেলার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল এর বহুমাত্রিক ও গুণীজনদের উপস্থিতি। মেলায় অংশ নেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান, সমাজবিজ্ঞানী রওনক জাহান, কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইন, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগর, কবি সুবোধ সরকারসহ দুই বাংলার গবেষক, প্রকাশক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
​

মঞ্চের আনুষ্ঠানিক আলোচনার বাইরেও বইয়ের স্টল, করিডোর কিংবা কফির টেবিলে দিনভর চলেছে সাহিত্য ও সমাজ নিয়ে গভীর আড্ডা আর বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্ক।
​অধ্যাপক রেহমান সোবহান তাঁর বক্তব্যে এক সুদূরপ্রসারী বার্তা দেন। তিনি বলেন, গত ৩৫ বছরে বাংলাদেশিরা আমেরিকায় দৃশ্যমান জাতিগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, আর আগামী ৩৫ বছরে তারা এ দেশের সমাজ-সংস্কৃতির এক অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠবে। এই কথার ভেতরে শুধু ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নয়, আছে প্রবাসী বাঙালির আত্মবিশ্বাসের জোরালো ঘোষণাও।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

​অন্যদিকে, অধ্যাপক রওনক জাহান নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে যে উদ্বেগ ও ভাবনা প্রকাশ করেছেন, তা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহার দীর্ঘ তিন দশকের নিরলস প্রচেষ্টায় ১৯৯২ সালে ছোট্ট পরিসরে শুরু হওয়া এই মেলা আজ উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে বড় বাঙালি সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
​ভাষার নতুন ভূগোল ও তরুণদের অংশগ্রহণ
​

মেলায় সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দৃশ্য ছিল তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) থেকে শুরু করে সাহিত্য বিতর্ক, কবিতা পাঠ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা কিংবা লেখক-পাঠক সংলাপ—সবখানেই নতুন প্রজন্মের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
​একটি বিষয় এখন পরিষ্কার—বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ কেবল ঢাকা বা কলকাতায় নির্ধারিত হবে না। নিউইয়র্ক, টরন্টো, লন্ডন কিংবা মেলবোর্নেও তৈরি হচ্ছে বাংলা ভাষার নতুন ভূগোল। অভিবাসী জীবনে যেখানে ভাষা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, সেখানে এই বইমেলা হয়ে উঠেছে সাংস্কৃতিক স্মৃতির এক নিরাপদ আশ্রয়স্থল।
​কিছু কঠিন প্রশ্ন ও উত্তরের সন্ধান
​এই মেলা আমাদের কিছু বাস্তব ও কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখিও দাঁড় করায়: বাংলা বইয়ের পাঠক কি কমছে?
​নতুন প্রজন্ম কি সত্যিই বাংলা বই পড়বে?
​আমাদের প্রকাশনা কি আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে পারছে?
​এই প্রশ্নগুলোর সমাধান লুকিয়ে আছে চার স্তরের কিছু জরুরি পদক্ষেপে:
​১. বিশ্বায়ন ও অনুবাদ: কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের কথার সূত্র ধরে বলা যায়, বাংলা সাহিত্যের অসাধারণ ভাণ্ডারকে অনুবাদের মাধ্যমে বিশ্বপাঠকের কাছে দ্রুত পৌঁছাতে হবে।
২. ডিজিটালাইজেশন: ই-বুক, অডিওবুক এবং আন্তর্জাতিক অনলাইন ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের আওতায় বাংলা বইকে আরও সহজলভ্য করতে হবে।
৩. আকর্ষণীয় শিশুসাহিত্য: শিশু-কিশোরদের জন্য আধুনিক ও ভিজ্যুয়াল উপাদানে সমৃদ্ধ বইয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
৪. সমন্বিত উদ্যোগ: প্রবাসের বাংলা স্কুল, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বইমেলাগুলোর মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে।
​নেপথ্যের কারিগর ও গণমাধ্যমের ভূমিকা
​এই বিশাল আয়োজনের নেপথ্যে যাঁরা নীরবে কাজ করেছেন, তাঁদের মধ্যে ‘প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা’র সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী খোকনের সম্পৃক্ততা ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কেবল সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবেই নয়, প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির ধারাবাহিক চর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার একজন নিবেদিত সংগঠক হিসেবেও তিনি মেলাজুড়ে সক্রিয় ছিলেন।
​নতুন বইয়ের আলোচনা, লেখক-পাঠক সংলাপ এবং শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণের মতো আয়োজনে তাঁর আন্তরিক উপস্থিতি মেলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ইব্রাহীম চৌধুরী খোকনের মতো নিবেদিতপ্রাণ সাংস্কৃতিক কর্মীরাই মূলত নতুন প্রজন্মের সঙ্গে শেকড়ের সেতুবন্ধনটি তৈরি করছেন।একই সঙ্গে প্রবাসী সংবাদমাধ্যমগুলো কেবল খবর প্রকাশ করেই দায়িত্ব শেষ করেনি, তারা নিজেরাও এই সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সক্রিয় অংশীদার হয়ে উঠেছে।
​আলোর ফেরা
​চার দিনের বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির পর শেষ দিনের ঝলমলে রোদ যেন এক ইতিবাচক প্রতীক হয়ে উঠেছিল। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে এই রোদ জানান দিল—বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির আলো প্রবাসের মাটিতে কখনো নিভে যাবে না।
​প্রবাসের হৃদয়ে আবারও জেগে উঠেছিল এক টুকরো চেনা বাংলাদেশ। আর সেই রূপসী বাংলাদেশকে বিদেশের মাটিতে বাঁচিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় হাতিয়ারটি যে ‘বই’, মেলা শেষে সেই বিশ্বাসই আরও দৃঢ় হলো।
​

লেখক: কলাম লেখক ও গবেষক।

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। তবে এই সামরিক মোতায়েন কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্যারিস।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই দিন দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুর জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় ফ্রান্স সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ম্যাক্রোঁ জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমাতে ফ্রান্স বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্তও সেই উদ্যোগের অংশ।

চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের মিত্র হুথি মিলিশিয়া সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে লোহিত সাগরসংলগ্ন বন্দরগুলো থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিল ফ্রান্স।

এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৯ পিএম
এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, কাটছে গ্যাস সংকট

বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর কক্সবাজারের মহেশখালীতে কার্গো জাহাজ থেকে ভাসমান টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি খালাস আবার শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে শিগগিরই দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মহেশখালীতে এলএনজি খালাসের কাজ পুনরায় চালু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরবরাহে এর প্রভাব দেখা যায়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা নাগাদ এলএনজি থেকে প্রায় ৭৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। একই সময়ে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায় প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। সব মিলিয়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ দাঁড়ায় প্রায় ২৩৪ কোটি ঘনফুট।

এর আগে বঙ্গোপসাগরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহে হঠাৎ বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে আসা ‘প্যাসিফিক সাকসেস’ নামের একটি কার্গো জাহাজ বৃহস্পতিবার মহেশখালীতে পৌঁছালেও উত্তাল সাগরের কারণে সেটি থেকে সামিটের ভাসমান টার্মিনালে গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

ফলে একটি টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছিল। একপর্যায়ে এলএনজি সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৫৯ কোটি ঘনফুটে। এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

চাহিদার তুলনায় এখনো ঘাটতি

পেট্রোবাংলার হিসাবে, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার সেই সরবরাহ কমে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়।

দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আমদানিকৃত এলএনজি থেকে আসে। মহেশখালীর সমুদ্র এলাকায় থাকা দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় পাইপলাইনে পাঠানো হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি সামিট গ্রুপের।

দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সর্বোচ্চ সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হলে কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো ব্যবস্থায় দ্রুত প্রভাব পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি টার্মিনালে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সরবরাহও বন্ধ হয়ে যায়। নতুন কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছে গেলেও সাগরের পরিস্থিতির কারণে সেটি থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে যে পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাওয়ার কথা, তার তুলনায় সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার উন্নতি হলে আবার কার্গো থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও বাড়তে থাকে।

এর আগে জুলাইয়ে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পরও দেশে বড় ধরনের গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছিল। প্রায় এক মাস পর আগস্টে টার্মিনালটি পুনরায় চালু হয়। এরপর এলএনজি আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিও কিছুটা উন্নত হচ্ছিল।

এর মধ্যেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন করে এলএনজি খালাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে আবার চাপ তৈরি হয়। শুক্রবার সকালে খালাস পুনরায় শুরু হওয়ায় সেই পরিস্থিতি আপাতত কাটতে শুরু করেছে। তবে দেশের মোট চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম থাকায় গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি দূর হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে আমদানি ও এলএনজি খালাস নিয়মিতভাবে চালু থাকার ওপর।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৫ পিএম
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে চড়া হয়েছে সবজির দাম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, করলা, পটল, ঢ্যাঁড়শ, ঝিঙা ও ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে কাঁচামরিচ ও টমেটোর দামও ঊর্ধ্বমুখী।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কোথাও কোথাও ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও একই ধরনের বেগুন ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছিল।

করলা এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে উঠেছে। ঝিঙা ও ধুন্দলের ক্ষেত্রেও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। কাঁচা পেপের দাম অবশ্য আগের মতোই প্রায় ৩০ টাকা কেজি রয়েছে।

আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পেতে আমাদের Google News ফলো করুন এবং নিয়মিত আপডেটের জন্য WhatsApp Channel–এ যুক্ত থাকুন।

বাজারে সবজির পাশাপাশি মাছের দামেও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। আকারভেদে রুই মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। ফার্মের ডিম, ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির দাম মোটামুটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। বাজারভেদে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি প্রায় ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম সামান্য বাড়লেও বাজারে তা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ডজনের মধ্যে রয়েছে। চালের দামেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় কোনো প্রভাব এখনো দেখা যায়নি।

পরিবহন খরচের প্রভাব, নাকি বাড়তি মুনাফা?

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। যশোর থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজি পরিবহনের উদাহরণ দিয়ে এক ব্যবসায়ী জানান, আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া প্রায় ১৮ হাজার টাকা থাকলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তা বেড়ে ২১ হাজার টাকার কাছাকাছি হয়েছে। এতে বেগুনসহ অন্যান্য সবজির পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দর কার্যকর হয় ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। এর আগে চলতি বছর এপ্রিল ও জুনেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের যুক্তি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন এলাকা থেকে রাজধানীর পাইকারি বাজার পর্যন্ত পণ্য আনতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। সেই ব্যয়ের একটি অংশ খুচরা মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ব্যয় যতটা বেড়েছে, তার তুলনায় অনেক পণ্যের দাম খুচরা বাজারে বেশি হারে বাড়ানো হচ্ছে। তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব থাকলেও একবারে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর যৌক্তিকতা সব ক্ষেত্রে নেই। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে দুধ, আটা ও ময়দার দামেও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও একই পরিমাণ দাম বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি দুই সপ্তাহ আগে সরবরাহকারী কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আটা ও ময়দার দামও বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটারে প্রায় চার টাকা বাড়ার পর দুই লিটারের একটি বোতল এখন ৪০৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে জ্বালানি তেলের নতুন দরের প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে কতটা স্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। ব্যবসায়ীরা পরিবহন ব্যয়কে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বললেও ক্রেতারা বলছেন, বাজারে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে খুচরা পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

প্রবাহ বাংলা নেটওয়ার্ক